“সুনামগঞ্জ শহরতলির হবতপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত একটি কৃষি খামারের উচ্চ ফলনশীল আগাম মরিচ ও টমেটোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার চারা বিষাক্ত স্প্রে দিয়ে নষ্ট করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।” এই বাক্যটির দ্বারা গত সোমবারের (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩) দৈনিক সুনামকণ্ঠের একটি সংবাদপ্রতিবেদন শুরু করা হয়েছে।
নিঃসন্দেহে এটি জাতির কাছে একটি গুরুতর গূঢ়বার্তা বহন করছে। বার্তাটি হলো এই যে, এই বাক্যে প্রযুক্ত ‘দুর্বৃত্ত’ মাৎসর্য বা পরশ্রীকাতরতায় আক্রান্ত। সে জগতে কারও কোনও ভালো হোক চায় না। তার এই পরশ্রীকাতরতা নিয়ে সে সমাজের সবখানে বিরাজ করছে এবং সুযোগ পেলেই সহিংস হয়ে উঠতে কসুর করছে না। তার তৎপরতা সর্বত্র। বলতে গেলে, রাজনীতির প্রাণপুরুষের অভিধা কেবল সেই পেতে পারে। কেন না সে এটম ফাটিয়ে হিরোসিমা নাগাসাকি ধ্বংস করে দেয়, একাত্তরে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করে, ইউক্রেনে যুদ্ধ বাধায়, বিদেশের কাছে দেশ বিক্রি করে দেয়, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করে। সে অতীতে ছিল, বর্তমানেও আছে, বোধ করি ভবিষ্যতেও থাকবে, যদি না সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকানা উৎখাত হয়। সকল কথার সার কথা সমাজের অপর সকলকেই তার সমান হতে হবে, নচেৎ সে পলাশীর প্রান্তরে হবে মীরজাফর, ব্রিটিশভারতে হবে ঔপনিবেশিকতার দালাল, একাত্তরে হবে পাকিস্তানের দোসর, বাংলাদেশে হবে খন্দকার কিংবা মেজর। সিরাজোদ্দৌলা, সূর্যসেন, রবি দাম, শেখ মুজিবের মৃত্যু বার বার দেখবে এই দেশ, এই দেশের মাটিতে ফলা সোনার ফসল সে পুড়িয়ে দেবে, বিষ দিয়ে নষ্ট করবে কৃষি খামারের উচ্চ ফলনশীল আগাম মরিচ ও টমেটো। তার নীতি একটাই আমার হবে না তো কারও হবে না। এই নীতির পরিপ্রেক্ষিতে সে দেশে দেশে রাষ্ট্রকে জননিপীড়নের যন্ত্র করে তোলে। মানবের মধ্যে দানবিক এই রক্তবীজের ধ্বংস চাই। ভুলে গেলে চলবে না, সে আপনার একান্ত সন্নিকটেই আছে। কখন স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়ে হামলে পড়বে তার কোনও হদিস কেউ জানে না।