গতকাল শনিবার বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী দিবস পালন করা হয়েছে। বাংলাদেশেও দিবসটি পালনে কোনও কার্পণ্য করা হয়নি। কিন্তু প্রকৃতপ্রস্তাবে কার্পণ্য পরিলক্ষিত হয় এই দিবসটি যে কর্মসূচি বা কার্যক্রমকে উদ্দেশ করে পালন করা হয়, দেশের ভেতরে সে কার্যক্রম বাস্তবায়ন বা পরিচালনা করার বিষয়ে। দেশে চার বছর আগে মানবপাচার প্রতিরোধকল্পে আইন করা হয়েছে কিন্তু এই আইনের আওতায় বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ঘোষিত ট্রাইব্যুনাল এখনও গঠিত হয়নি।
বর্তমানে বিশ্বের সামগ্রিক আর্থনীতিক ব্যবস্থা বিশ্বায়ননীতির অধীন। এই নীতি মুক্তবাজার অর্থনীতির অধিক মুনাফামুখি নীতির নিয়ন্ত্রণাধীন। নির্বিচার মুনাফা অর্জনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে পৃথিবী বিভিন্ন আর্থনীতিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত, দেশে দেশে প্রাদুর্ভাব ঘটছে বিভিন্ন আর্থনীতিক সমস্যা। এই সমস্যাগুলোই শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। কোনও কোনও দেশে যুদ্ধাবস্থার পরিস্থিতি থেকে ও কোনও কোনও দেশে বেকারত্বের কারণে বিদেশগমনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই বিদেশ গমনের বিষয়টি মানবপাচারের আকারে দুরারোগ্য ব্যধিতে পর্যবশিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত গড়ে উঠেছে মানবপাচার চক্র। এমনকি দেশের প্রান্তিক জেলা সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল দক্ষিণ সুনামগঞ্জেও মানবপাচারকারী চক্র গড়ে উঠেছে মর্মে দৈনিক সুনামকণ্ঠে সংবাদ ছাপা হয়।
দেশজুড়ে পুরুষরা তো বটেই এমনকি অবালবৃদ্ধবণিতা বা নারী, পুরুষ ও শিশু নির্বিশেষে সকলেই এই মানবপাচারের অবাধ শিকারে পরিণত হচ্ছে। পাচারকৃত মানুষ সমুদ্রে আটকে পড়ে মারা যাচ্ছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ইত্যাদি দেশে তাদের গণকবর আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সব মর্মান্তিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনা গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেশবাসী পাঠ করেছেন, দূরদর্শনে দেখেছেন ও শোনেছেন। বিশ্বজুড়ে এবংবিধ মানবপাচারের শিকার হয়েছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়। কিন্তু দেশে মানবপাচাররোধ ও দমন সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও মানবপাচার অপরাধে অপরাধীদের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বৈচারিক অবকাঠোমো গড়ে না উঠায় মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর কোনও ফলোদয় হচ্ছে না। তাছাড়া আধিকাংশ মামলাতেই মূল পাচারকারীদের নাম না আসা বা ভুল ঠিকানা প্রদানের কারণে যথাযথ বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। বিচারকাজ পরিচালনা কিংবা ভুক্তভোগীর বিচার প্রাপ্তির বিষয়ে এইরূপ পরিস্থিতি কীছুতেই কাম্য হতে পারে না। দেশবাসী এইসব মানতাবিরোধী মানব পাচারকারীদের বিচার প্রত্যাশী। মানবপাচার রোধ ও দমন সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন সময়ের দাবি।