সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০২:৪২ অপরাহ্ন

Notice :

দোয়ারায় ‘সড়কে’ নিহত পুত্র, পুনঃতদন্ত দাবি মায়ের

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী ::
একমাত্র পুত্রকে হারিয়ে থামছে না হতভাগিনী মা সাবিনা ইয়াসমিনের কান্না। এখনও চোখ গড়িয়ে জল পড়ে। সান্ত¦না দেওয়ার মতোও কেউ নেই। পুত্রশোকে কাতর সাবিনার বুকফাটা কান্নায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরাও। কাঁদতে কাঁদতেই জানিয়েছেন সাবিনা, তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক। তিনি এ ঘটনার পুনঃতদন্ত চান।
দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের পান্ডারগাঁও গ্রামের মৃত মনির আহমদের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন। ১৮ বছর পূর্বে তার বিয়ে হয় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে দরিয়াবাজ গ্রামের আলী হায়দারের সঙ্গে। সংসার জীবনে বনিবনা না হওয়ায় সন্তান গর্ভে থাকাবস্থায় স্বামী পরিত্যক্তা হন তিনি। চলে আসেন বাবার বাড়ি। একমাত্র পুত্রসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়েও করেননি। পৈতৃক বাড়িতে থেকে সন্তান জাহেদ হাসান রাসেলকে লালন-পালন করে বড় করেন। প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে হাজী কনুমিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২০ সালে এসএসসি পাস করে রাসেল। ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ নর্থইস্ট কলেজে। পড়াশোনার পাশাপাশি জাহেদ হাসান রাসেল হাল ধরে সংসারের। ব্যবসায় মনোনিবেশ করে ভালোই উপার্জন করে এবং মায়ের দুর্দশা কিছুটা হলেও লাঘব হয়। এই সন্তানই সাবিনার বেঁচে থাকার একমাত্র আশ্রয় ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে হতভাগিনী মা সাবিনার। পুত্রকে হারিয়ে এখন পাগলিনী বেশে বিলাপ করা ছাড়া তার যেন আর কিছুই করার নেই।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, সাবিনা ইয়াসমিনের একমাত্র পুত্রসন্তান জাহেদ হাসান রাসেল (১৮) গত ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বন্ধু ফাজায়েল আহমদকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা সদরের মুরাদপুর গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে ঘর থেকে বের হয়। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে খেয়াঘাট পার হয়ে আসার পথে বেপরোয়া একটি ট্রলির ধাক্কায় দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই জাহেদ হাসান রাসেলের মৃত্যু ঘটে। পরে রক্তাক্ত মৃতদেহ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। তার সঙ্গে থাকা ফাজায়েল আহমদ গুরুতর আহত হয়।
জাহেদ হাসান রাসেলের মৃত্যুর প্রায় দুইমাস পর তার মায়ের সন্দেহের তীর এখন ভিন্নদিকে। তিনি বলছেন সেদিন বন্ধু ফাজায়েল ছাড়াও রাসেলের সঙ্গে আরও একজন কেউ ছিল। তার কথা বলছে না ফাজায়েল। এমন সন্দেহ এখন সাবিনার।
সরেজমিনে বাড়িতে গেলে সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তার পুত্রের মৃত্যু রহস্যজনক। মৃত্যুর পর তার শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত পাওয়া গেছে এবং তার শরীরে কাটাছেঁড়ার দাগ ছিল। এছাড়া তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ফাজায়েলও বলছে রহস্যজনক কথাবার্তা।
তিনি বলেন, আমার পুত্রের মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তাই বিষয়টি ভালো করে খতিয়ে দেখার জন্য আমি এসপি সাহেবের কাছে গিয়ে সরাসরি কথা বলেছি। তিনি আশ্বস্তও করেছেন। আমি মনে করছি রাসেলের মৃত্যু রহস্যজনক। তার সঙ্গে থাকা ফাজায়েলের কথাবার্তা আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমার পুত্রের মৃত্যুর বিষয়টি পুনঃতদন্ত করে দেখার অনুরোধ করছি।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজির আলম বলেন, রাসেলের মোটরসাইকেল যে ট্রলির ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল, সেই ট্রলির চালককে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। রাসেলের মৃত্যু রহস্যজনক কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী