সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

Notice :

পিছিয়ে যেতে পারে ইউপি নির্বাচন

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে না হয়ে পিছিয়ে যেতে পারে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাধারণ নির্বাচন। আগামী মার্চ মাস থেকে দেশব্যাপী এই নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২ মার্চ ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। আর এরই মধ্য এপ্রিল মাসে শুরু হবে রোজা। মূলত এই কারণে এ নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে যে সব ইউপির মেয়াদ শেষ হবে, এমন ২০/২৫ ইউপিতে রমজানের আগেই অর্থাৎ এপ্রিলে ভোট আয়োজনের চিন্তা করা হচ্ছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিন আগের মধ্যে ভোট আয়োজন করতে হয়। সে হিসেবে চলতি বছরের ২১ মার্চের মধ্যে এসব ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী-দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।
বর্তমানে সারাদেশে ৪ হাজার ৪৮৩টি ইউপি রয়েছে। এরমধ্যে গতবার ছয় ধাপে ভোট হয়েছে ৪ হাজার ৩২১টিতে এবং অন্যান্য সময়ে ভোট হয়েছে ১৬২টিতে। সে হিসেবে ২১ মার্চের মধ্যে নির্বাচনী সময় শেষ হচ্ছে ৭৫২ ইউপির। ৩০ মার্চ সময় শেষ হচ্ছে ৬৮৪টির, ২২ এপ্রিল ৬৮৫টির, ৬ মে ৭৪৩টির, ২৭ মে ৭৩৩টির এবং ৩ জুন ৭২৪টির।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিয়ে মার্চের মাঝামাঝিতে প্রায় ৭ শতাধিক ইউপিতে ভোট করার কথা ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ মার্চ। তাই ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না করে এ নির্বাচনের তফসিল দিতে চাইছে না কমিশন। কেননা তালিকা চূড়ান্ত না হলে নতুন ভোটাররা নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। তাই আইনি জটিলতা এড়াতেই ইসি এ নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে।
সূত্র আরও জানায়, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। রমজানের আগে বড় পরিসরে ইউপি নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে বলা হয়, রমজানের আগে ইউপি নির্বাচন কতটুকু করা যাবে, তা সন্দিহান।
কর্মকর্তারা জানান, এপ্রিলের মধ্যে যে সব ইউপির মেয়াদ শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচন করা যায় কি না? সেই চিন্তা করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রেও সবগুলোর নির্বাচন করা সম্ভব্য হবে না। এক্ষেত্রে রমজানের আগে ২০/২৫ ইউপিতে নির্বাচন হতে পারে। এটা এমনও হতে পারে যে আগেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে রাখা হবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এর সিডি দেওয়া হবে।
আসন্ন ইউপি ভোটের প্রস্তুতি স¤পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। হালনাগাদ ভোটার তালিকা ও আগের ভোটার তালিকা (কমপাইল) একসঙ্গে করে যদি আমাদের হাতে সময় থাকে। তবে আমরা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করব। ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে আমরা দুইটি বিষয় দেখব। একটি হলো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, আরেকটি হলো রমজান মাস। তবে রমজান মাস দেখে আমরা কিছু নির্বাচনের তফসিল দিতে পারি।
তফসিল কবে হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি হয়- তবে মার্চ মাসে তফসিল হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ৪ শতাধিক ইউপি নির্বাচন উপযোগী হবে। তবে সবগুলোতে একসঙ্গে নির্বাচন করতে পারব কি না, সন্দেহ আছে।
তিনি বলেন, আমরা তো রমজান মাসে নির্বাচন করতে পারব না। আবার ভোটার তালিকা যদি প্রস্তুত না হয়, তাহলেও আমরা নির্বাচন করতে পারব না। এই দুইটি বিষয়ে যদি বাধা না হয়, তবে আমরা যতগুলো পারব নির্বাচন করব।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। গতবারের মতো আসন্ন ইউপির ভোটও চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। আর সাধারণ সদস্য (মেম্বার) ও সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) পদে আগের মতোই নির্দলীয় প্রতীকে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী