বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ১০:৫৮ অপরাহ্ন

Notice :

হাওরের জলমহালে আবারও রক্তারক্তি

বিশেষ প্রতিনিধি ::
জলমহালে মৎস্য আহরণের মওসুমে রক্তারক্তি হয় হাওরে। ঘটে লোমহর্ষক খুনের যত ঘটনা। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে ধর্মপাশা উপজেলার সুনই জলমহালে। জলমহাল দখল নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িত দুই পক্ষের একপক্ষ জলমহালের খলাঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে একজনকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় সুনই বিলে সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতির বাবা শ্যামাচরণ বর্মণ (৬৫)-কে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত ৩ ডিসেম্বর সুনই মৎস্যজীবী সমিতি ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন হামলার আশঙ্কা করেছিল।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সুনই জলমহাল দখল নিয়ে ইজারাদার সুনই মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণের ও তার সমিতির লোকদের সঙ্গে একই গ্রামের সমিতির সভাপতি দাবি করে সুবল বর্মণের বিরোধ চলছে। উপজেলার পাইকরহাটি ইউনিয়নের মনাই নদী প্রকাশিত সুনই মৎস্যজীবী সমিতি সভাপতি চন্দন বর্মণ ১৪২২-১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত ৬ বছরের জন্য ইজারা পান। তারা ইতোমধ্যে সরকারকে খাজনাও জমা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের ৬ নম্বর রেজিস্টারে তাদের সমিতির খাজনা নথিভুক্তও হয়েছে। ইজারামূল্য পরিশোধ করার পর সুনই মৎস্যজীবী জলমহালের পাশে মৎস্য আহরণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুটি অস্থায়ী খলাঘর নির্মাণ করে প্রহরা দিচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করে একই গ্রামের সুবল বর্মণ কিছু দিন আগে ১৫-২০ জন লোক নিয়ে সুনই জলমহালের তীরে জোরপূর্বক ঘর তৈরি করেন। তিনি নিজেকে সভাপতি দাবি করে জলমহাল দখলের উদ্যোগ নেওয়ায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং স্থানীয়রা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করেন।
সুনই মৎস্যজীবী সমিতির লোকজনের অভিযোগ- সুবল বর্মণের লোকজন বৃহস্পতিবার রাতে নওধার গ্রামের রিপন মিয়ার নেতৃত্বে অন্তত দুই শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জলমহালে চড়াও হয়। তারা বিলের ইজারাদারদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। সুনই মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণের তৈরি অস্থায়ী দুটি খলাঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এসময় প্রতিবাদ করায় চন্দন বর্মণের বাবা শ্যামাচরণ বর্মণের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রাণ হারান। এ সময় তাদের এলোপাতাড়ি আক্রমণে সমিতির ১৫-২০ জন সদস্য আহত হন এবং জলমহালের মাছও লুট করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
সুনই মৎস্যজীবী সমিতির সহসভাপতি সাধন বর্মণ বলেন, এ ঘটনায় সুবলের সুবিধাভোগীরা জড়িত। তারা বৈঠক করে কয়েকশ লোক নিয়ে এসে আমাদের লোকদের উপর হামলা করেছে। আমাদের সমিতির ঘর পুড়িয়ে দিয়ে নৃশংসভাবে সমিতির সভাপতির বাবাকে খুন করেছে। আমরা এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
ধর্মপাশা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুনই জলমহালে খুনের ঘটনায় ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ প্রকৃত খুনিকে খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, যারাই এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হোকনা কেন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। কোন নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য আমি প্রশাসনের প্রতি দাবি জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী