শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২০, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

Notice :

আন-লক বাংলাদেশ! : সুখেন্দু সেন

সংক্রমণ আর মৃত্যু সংখ্যার রেকর্ড দিনে আন-লক হলো দেশ। নাছোড়বান্দা করোনা সহজে মুক্তি দেবেনা এটা প্রায় নিশ্চিত। সে তার দাপট দেখিয়েই যাচ্ছে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে। বিশ্বজুড়ে মৃত্যু সংখ্যা পৌনে চার লক্ষ। মরণপথের শেষটা দূরবীক্ষণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, চিন্তায়ও ধরছে না। এর শেষ কোথায়। এ পথে যেতে হবে কত দূর। এরকম হাজার প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। পথ সন্ধান কেউ দিতে পারছে না। লকডাউনও সমাধান নয়, এটি কার্ফুও নয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে না বেরুনো। নিয়ম বিধি মেনে চলার সতর্কতা। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য। তাও কেউ মানলো, কেউ একেবারেই পাত্তা দিলোনা।
কোনো দেশ বা পুরো বিশ্ব অনির্দিষ্ট, অনিশ্চিত কালের জন্য থমকে থাকতে পারেনা। জীবনও থেমে থাকে না। জীবন ও জীবিকার টানাপড়েন। আছে প্রয়োজনেরও তাগিদ। এ অবস্থাতেই কয়েক দফা লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। সীমিত আকারে অনেক কিছু খুলে দেয়া হয়েছে অনেক আগেই। ব্যাংকিং কার্যক্রম, প্রশাসনিক কার্যক্রম, অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস চালু ছিলো সবসময়ই। লকডাউন কালীনই ব্যাংকে প্রচুর ভিড়। হাটবাজারে মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। অধিকাংশ সময়েই ঢিলেঢালা লকডাউন। সর্বক্ষেত্রেই জীবন ঝুঁকি। জীবন নিয়ে টানাটানি।
বসে খেলে রাজার সম্পদও ফুরায়। ত্রাণের ভাঁড়ার ক’দিন। সেটাও একদিন খালি হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিরও অফুরন্ত ভাণ্ডার নেই। কলকারখানা বন্ধ রেখে পাওয়া যাবেনা প্রয়োজনীয় যোগান। এ অবস্থায় হাত পা গুটিয়ে কতদিন চলবে – এমন ভবিষ্যতবাণী কেউ দিতে পারেনি। তাই কতো দিন আটকে থাকা, আটকে রাখা। নিয়ম মেনে আন-লকই আপাতঃ সমাধান। নিয়ম-বিধি বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে আমাদের দেশে নিয়ম করা হয় নিয়ম ভাঙ্গার জন্য। গণপরিবহনও চালু হবে। সে জন্যও বাধা নিয়ম। কোন কালেই দেখা যায়নি গণপরিবহন নিয়ম মেনে চলে। পথে ঘাটে বিশেষ করে লঞ্চে, বাসে, ট্রেনে শারীরিক দূরত্ব যে বজায় রাখা যাবে না তা নিশ্চিত। ছোঁয়াচে রোগ সংক্রমণের মাধ্যম পেয়ে যাবে হাতের কাছে। ছড়াতে পারে আয়েশে। তা ছড়াক। বাঁচতে গেলে লড়তে হবে। লড়তে গেলে মরতে হবে। ঝুঁকি থাকবেই। এখন আমরা সে ঝুঁকিতেই আছি। বল এখন আমজনতার কোর্টে। কে কতটুকু সচেতন থেকে নিজের জীবন ঝুঁকি কমাতে পারে সেটাই লক্ষণীয়। সরকারের সিদ্ধান্ত সে অবস্থান থেকেই। এর পেছনে নিশ্চয়ই অনেক চিন্তাভাবনা, পরিকল্পনা রয়েছে। তবে থাকতে হবে ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি ও সামর্থ। নিশ্চিত করতে হবে নিরপত্তা।
ঈদ পরবর্তী সময়কাল থেকেই সংক্রমণের মাত্রা লক্ষণীয়ভাবে বেড়ে চলছে। কোভিড আক্রান্ত এখন আর কোন অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে পড়েছে আনাচে কানাচে ৬৪টি জেলায়। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত। গত চব্বিশ ঘণ্টার হিসেবে সংক্রমণ ২৫৪৫। মৃত্যু ৪০, যা সর্বাধিক। জন চলাচল যখন শুরু হয়েছে সংক্রমণের ক্রম বিস্তার ঘটবেই। এ অবস্থায় নিয়ম-নীতি কতটুকু পরিপালন হবে, স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানা যাবে, সাধারণ মানুষ কতটুকু সচেতন হবে তার উপরই নির্ভর করছে আগামী দিনগুলি কতটুকু ভয়ংকর হবে।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যবহার করেও যখন চিকিৎসাকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন, আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন তখন সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসাকর্মীরা আর কতটুকু শারীরিক-মানসিক চাপ নিতে পারবেন বা চিকিৎসা পরিসর আর কতটুকু বাড়ানো সম্ভব, সেটাও ভাবার বিষয়। অনুরূপভাবে মাঠের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনীর প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য আক্রান্ত। মারা গেছেন ১৫ জন। স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুলিশ বাহিনী ব্যস্ত লাশ টানতে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপর বর্তেছে লাশ দাফনের দায়িত্ব। আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরাও। বিভিন্নমুখী দুর্যোগ। নতুন সমস্যা যা আরো প্রকট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দেশের অধিকাংশ মানুষ যেখানে মাস্ক ব্যবহারেই অনাগ্রহী, হাঁচি, কাশি, থুথু ফেলার শিষ্টাচারের ধারে কাছেই নেই অধিকাংশ জন সেখানে সাধারণের উপর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দায়িত্ব দেয়া কতটুকু ফলপ্রসু হতে পারে। ঝুঁকিটা হয়তো বেশিই হয়ে গেল। চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের পাশাপাশি এখন পরীক্ষা দিতে হবে জনসাধারণকেও। সচেতনতা, সতর্কতা, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার মাধ্যমেই হয়তো ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সে জন্য জীবনযাত্রা প্রণালী যেমন পরিবর্তন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনে বাধ্যবাধকতার আইন এবং আইনের প্রয়োগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী