সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

Notice :

ফসলরক্ষা বাঁধ : বিশ্বম্ভরপুরে ভূমিহীন ও আত্মীয়দের নিয়ে পিআইসি

হাসান বশির ::
বিশ্বম্ভরপুরে ভূমিহীন ও আত্মীয়দের নিয়ে ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানাযায়, উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের আদাং এলাকায় ধোপাজান চলতি নদীর তীর ঘেঁষে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ‘অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের (কাবিটা) আওতায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চলতি নদীর ডান তীর উপ-প্রকল্পের ৮.৭৪৫ হতে কি.মি. ৮.৩৬৩ = ০.৩৮২ কি.মি. ডুবন্ত বাঁধের বন্ধকরণ, পুনরাকৃতিকরণ ও মেরামত কাজের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সংশ্লিষ্ট পিআইসি কাজ শুরু করলেও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়নি। ভূমিহীন ও আত্মীয়দের নিয়ে পিআইসি গঠন করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আদাং গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলামকে সভাপতি, একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আবু হানিফকে সদস্য সচিব করে ২৬নং পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বাঁধের মেরামত কাজের জন্য ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পিআইসি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সদস্য সাইদুর রহমান আপন চাচাতো ভাই। অন্যদিকে সদস্য মাহমুদুল হাসান ও কাজল মিয়া আপন ফুফাতো ভাই। অপরদিকে, নিজেদের কৃষক দাবি করলেও নিজস্ব ভূমি নেই পিআইসি’র সদস্য মাহমুদুল হাসান ও রতনের। যে জমি তাদের নিজের বলে দাবি করছেন সে ভূমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। পিআইসি’র এক সদস্য অন্যের কবুলিয়তের জমির মাটি কেটে বাঁধে দিচ্ছেন। পিআইসির সদস্য সাইদুর রহমান দাবি করেন তার জমি রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অন্যের কবুলিয়তের জায়গা ক্রয় সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে থাকলেও এটি ফসলি কোন জমি নয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকৃত কৃষক ছাড়া ভূমিহীনদের নিয়ে এবং আত্মীয়করণের মাধ্যমে এই বাঁধের কাজের বিপরীতে বরাদ্দের টাকা লুটপাটের জন্যই চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র। স্থানীয় কৃষক, মঞ্জু মিয়া, কালা গাজী, কাসেম, মন্নাছ মিয়াসহ আরো অনেক কৃষক জানান, কয়েক বছর যাবত এই ফসল রক্ষা বাঁধের উন্নয়নের নামে পিআইসি ও সংশ্লিষ্টরা নিজেদের উন্নয়ন করছে। এই বাঁধের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের টাকা জলে ভাসানোর জন্য এই খামখেয়ালি কাজ করা হচ্ছে।
আদাং গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী জানান, এই বাঁধ দেওয়া আর না দেওয়া সমান কথা। কয়েক বছর যাবত এই বাঁধ দেওয়ার কোন ফল আমরা পাচ্ছি না। কারণ এলাকাটি এমনিতেই উচু। বাঁধের কোন প্রয়োজন নেই এখানে। ওই মুক্তিযোদ্ধা আরো বলেন, একদিকে বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে অন্যদিকে বাঁধের গোড়া থেকে বালি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ যেন আজব কাণ্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও মনসুর রহমান জানান, এটি প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয়তার বিষয় নিয়ে কেউ কিছু বললে এর দায় তাকে নিতে হবে। এটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের স্কীম অনুযায়ী হয়েছে।
বুধবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৩০ মিটার সীমানার মধ্যেই মাটি কেটে বাঁধে ফেলা হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় কোনো সাইনবোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প কমিটির সদস্য সচিব আবু হানিফ জানান, সব বিষয়ে সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানেন। আমি কিছু বলতে পারি না। তবে সাইনবোর্ড টানানো হয়নি এটি সত্য।
সভাপতি রফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস জানান, কৃষক ছাড়া কোন ব্যক্তিকে পিআইসিতে রাখা হয়নি। আপন চাচাতো ভাই আর আপন ফুফাতো ভাই বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি। সিস্টেম অনুযায়ী পিআইসি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানান, কাজের বিষয়ে কোন ত্রুটি থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী