শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৪০ অপরাহ্ন

Notice :

‘অতি নেতায় ঐক্য নষ্ট’ অবস্থায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি ::
অধিক সন্ন্যাসীতে যেমন গাজন নষ্ট সুনামগঞ্জে ঠিক তেমন অবস্থায় পড়েছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আসনভিত্তিক নেতাদের মাঝে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই রেশ কাটিয়ে ওঠতে পারেনি দলটি। ফলে বর্তমান প্রতিকূল অবস্থায়ও ঐক্যের পরিবর্তে যার যার মতো করে চলছেন দলটির নেতারা।
নেতাদের মধ্যে এমন বিভক্তি প্রভাব ফেলছে দলের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের ওপর। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে কর্মী সমাগমের হার কমে গেছে। খণ্ড খণ্ড কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে ততোটা প্রভাব ফেলছে না। অবশ্য দলটির তৃণমূল কর্মীরা নেতাদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন প্রত্যাশা করে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করার প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় সূত্রমতে, নির্বাচনের পর থেকে জেলা বিএনপিকে কেন্দ্র করে অন্তত ছয় ভাগে বিভক্ত দলটির নেতাকর্মীরা। একদিকে রয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আর অপরদিকে পৃথক অবস্থানে রয়েছেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়া, সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি জয়নুল জাকেরীন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী। শেষ পর্যন্ত মিজান চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন। এ নিয়ে প্রভাবশালী এই দুই নেতার মাঝে যে তিক্ততার সৃষ্টি হয় তার অবসান হয়নি আজো। ঐক্যের পরিবর্তে নিজ নিজ বলয় নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছেন মিলন ও মিজান।
একই অবস্থা বিরাজ করছে প্রবীণ রাজনীতিক ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া ও জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুলের মাঝে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে গত বছরের শেষ ভাগে এক সময়ের গুরু-শিষ্যের পথ দুই দিকে সরে যায়। জেলা সদরে আছপিয়া ও নূরুলের রয়েছে পৃথক বলয়। যার যার মতো রাজনীতি করে যাচ্ছেন জেলা বিএনপি’র প্রভাবশালী এই দুই নেতা। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার পর থেকে রাজনীতিতে অনেকটাই দৃষ্টির আড়ালে।
এদিকে, অতীতের নানা ঘটনা প্রবাহে জেলা নেতৃত্বের পর মন খারাপ সাবেক সভাপতি নজির হোসেন ও সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরীর। জেলা নেতৃত্বের বাইরে নিজস্ব বলয় রয়েছে এই দুই সাবেক সংসদ সদস্যের।
নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপি’র রাজনীতির ইতিহাসে দলের নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কোন্দল থাকলেও অনৈক্যের বিস্তৃতি এতোটা ছিল না। দলের এই ক্রান্তিকালে ঐক্যের পথে না হাঁটলে জেলায় দল আরো দুর্বল হবে বলে মত দিয়েছেন তারা।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, সবাই মিলে রাজপথে ছিলাম জীবনবাজি রেখে। নেতাকর্মীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে, অনেকে গুলি খেয়েছেন, জেলে গেছেন, হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত হয়েছেন, তবুও লড়েছেন দেশের জন্য গণতন্ত্রের জন্য। জনগণের অধিকার আদায়ে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, বিএনপি’র রাজনীতি এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা। এই লক্ষ্য হাসিলে বিএনপিতে কোন বিভেদ নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৬ মে নাছির-মিলনের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে সভাপতি ও তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপি’র ৫১ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর। এর প্রায় দুই বছর পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। আংশিক কমিটি গঠনের সময় বর্তমান সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন ছাড়াও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, নাদির আহমদ জেলা বিএনপি’র সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব থাকার পরও তাদের মধ্য থেকে মিলনকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আসনভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়ান অনেকে। এরপর থেকে অনেকগুলো গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী