শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ১১:০৩ অপরাহ্ন

Notice :

হাওরাঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক নৌযাত্রা : কল্লোল তালুকদার চপল

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক ধর্মনিরপেক্ষ ভাষাভিত্তিক জাতি-রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন সম্বন্ধে লন্ডন টাইমস পত্রিকার ১৯৭০ সালের ৯ ডিসেম্বর সংখ্যার সম্পাদকীয় মন্তব্য ছিল: ‘The first and perhaps last election’. প্রকৃত অর্থেই, এটি ছিল অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম ও শেষ সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব ফলাফল বাংলাদেশের জন্মকে অবধারিত করে তুলে। দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধুকে অকুণ্ঠ সমর্থন জানায়। কিন্তু ঐতিহাসিক এই বিজয় অর্জন হুট করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়নি। তার অন্তরালে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর রক্ত-জল-করা অক্লান্ত পরিশ্রম। ‘জনগণের অন্তর্নিহিত অপার শক্তি ও অসীম ক্ষমতার উপর বিশ্বাস; জনগণ ও কেবলমাত্র জনগণই ইতিহাস সৃষ্টি করে এইই ছিলো বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-দর্শনের মূলভিত্তি।’ তাই তিনি বৈষম্যহীন অর্থনীতি-রাষ্ট্র-সমাজ বিনির্মাণের জন্য বারবার ছুটে গেছেন মানুষেরই কাছে। নির্বাচনের পূর্বে বাঙালি জাতির মুক্তি-সনদ ৬-দফার পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিরামহীনভাবে ছুটে বেড়ান। কার্যত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তিলাভের পর থেকেই তাঁর দেশব্যাপী গণসংযোগ আরম্ভ হয়। ১৯৬৯ সালের মার্চ থেকে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ৫৫টি শহর, সকল জেলা ও মহকুমা সদর এবং ৪০০ থানায় জনসভা করেন। তাঁকে কাছে পেয়ে, তাঁর অনন্যসাধারণ জনসম্মোহনী কণ্ঠকথা শোনে জনসাধারণ হয় উদ্দীপ্ত। জেগে ওঠে জাতি। আর এভাবেই রচিত হয় জতীয় মুক্তিসংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ে উত্তরণের শক্ত ভিত।
বঙ্গবন্ধুর এই নির্বাচনী প্রচারাভিযানের তালিকা থেকে প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলও বাদ পড়েনি। দুর্গম এই অঞ্চলেও তিনি এসেছিলেন। সাধারণ একটি লঞ্চে টানা ছয়দিন থাকা-খাওয়া-ঘুম সহজ কাজ নয়। তবু সব কষ্টকে তুচ্ছজ্ঞান করে হাসিমুখে তিনি গণসংযোগ চলিয়ে গেছেন। প্রিয় নেতার আগমনে সাধারণ্যে দেখা দেয় প্রাণচাঞ্চল্য। বঙ্গবন্ধুর এই সফর ভাটির জনসাধারণের জন্য এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। তারপরও সময়ের অবিরাম আবর্তে পড়ে আমরা ক্রমশ অনেক কিছুই বিস্মৃত হয়েছি।

যদিও ’৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন এসব প্রসঙ্গে কাউকে তেমনভাবে কথা বলতে বা লেখালেখি করতে দেখা যায়নি। তবে ভাটি অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সফর নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা স্থানে অনেককে লেখালেখি করতে দেখা যায়। চলে উত্তপ্ত বিতর্ক। স্থানীয় পর্যায়ে ইতিহাসচর্চায় প্রায়শই একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয় যে, ঘটনা কিংবা ঘটনার অন্তর্নিহিত ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার চেয়ে প্রাধান্য পায় আত্মপ্রচারের ব্যাকুলতা। কার নাম উল্লেখ করা হলো বা হলো না, অথবা কার নাম আগে কার নাম পরে আসবে ইত্যাদি নিয়েই চলে বাদানুবাদ। তাছাড়া নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গির অভাবও পরিলক্ষিত হয়। ঘটে পক্ষপাত। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, ‘পক্ষপাতিত্বের উদ্ভব চারিত্রিক দুর্বলতায়’। তাছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কেউ যখন কোনো ঘটনা বর্ণনা করেন, তখন অবধারিতভাবে তিনি নিজেই হয়ে উঠেন মুখ্য চরিত্র, যেন তাকে কেন্দ্র করেই সমস্ত কিছু ঘটেছিল। বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক সফর নিয়েও এরকম প্রবণতা প্রায়শই নজরে পড়ে। কার বা কার পূর্বপুরুষের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠতা ছিল, কার বাড়িতে তিনি উঠেছিলেন, কাকে কী বলেছিলেন ইত্যাদি নিয়ে শোনা যায় হরেকরকম কথাবার্তা। অবশ্য হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কোনো স্মৃতি থাকা নিঃসন্দেহে গর্বের। তবে অতিরঞ্জন, সত্যের অপলাপ ও অতিকথনের বেড়াজালে মূল ঘটনাটিই যেন চাপা পড়ার উপক্রম হয়েছে। এমনকি ঠিক কখন তিনি এসেছিলেন কিংবা কী বার্তা তিনি দিয়ে গেলেন, এসব বিষয় এখন বিস্মৃতির অতলে প্রায় হারিয়ে গেছে।
তবে সম্প্রতি হাওরাঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর উক্ত সফর নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান। তাঁর ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দুইদিন’ নামক বইটি তিনি অনেক দরদ দিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করে লিখেছেন। তাঁকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন তাঁর বন্ধু মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর। প্রবীণ দু’জন মানুষ অসুস্থ শরীরে নানা স্থানে ঘুরে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কারণ এই কাজে জনাব সুফিয়ান কেবল স্মৃতির উপর নির্ভর করতে চাননি। এর ফলে বইটিতে তিনি বহু তথ্যের সন্নিবেশ ঘটাতে সক্ষম হন। এতো বছর পর খুব স্বাভাবিক কারণেই বঙ্গবন্ধুর সফরের তারিখ তিনি মনে রাখতে পারেননি। তবু এই কাজের জন্য তিনি কৃতিত্বের দাবিদার।
অন্য একটি বিষয় খুঁজতে গিয়ে কয়েকদিন আগে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ১৯৭০ সালের সংখ্যাগুলো নাড়াচাড়া করছিলাম। হঠাৎ মনে পড়ল ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দুইদিন’ গ্রন্থের লেখক স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লেখেন, “বঙ্গবন্ধু আমাকে কাছে ডেকে আদরের সঙ্গে মাথায় হাত রেখে প্রশ্ন করেন, ‘কোন ক্লাসে পড়িস, সুফিয়ান?’ [….] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতের স্পর্শ পেয়ে ধন্য হলাম। ইত্তেফাকের ফটোসাংবাদিক বাদশাভাই দৃশ্যটি ক্যামারাবন্দি করলেন। দুদিন পর দৈনিক ইত্তেফাকে ওই ছবিসহ বঙ্গবন্ধুর সফর নিয়ে রিপোর্ট ছাপা হয়। আমি পত্রিকাটি কেটে ছবিটি সংগ্রহে রেখেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় ওই দুর্লভ ছবিটি এখন আর আমার কাছে নেই।” লেখক আবু সুফিয়ানের উপরিউক্ত স্মৃতিচারণের সূত্র ধরে আমি খুঁজতে থাকি বঙ্গবন্ধুর হাওরাঞ্চলের সফরের সেই খবরটি। তিনি আনুমানিকভাবে বলেছেন উক্ত সফরটি ছিল আগস্ট মাসে। তাই আমি প্রথমে আগস্ট মাসের সবগুলো সংখ্যা দেখি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনো খবর চোখে পড়েনি। পাতা উল্টাতে উল্টাতে সেপ্টেম্বর মাসও শেষ হয়। আমি ক্রমশ হতাশ হতে থাকি। তবে কী ইত্তেফাক খবরটি ছাপেনি! কিন্তু তা তো হতে পারে না। কারণ তখন ইত্তেফাক ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান মুখপত্র। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি খুঁটিনাটি সংবাদ ইত্তেফাকে গুরুত্বসহকারে ছাপা হতো। আর বঙ্গবন্ধুর এতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সফরের সংবাদ ছাপা হবে না, তা তো হতে পারে না। আমি ধৈর্য ধরে পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকি। অবশেষে পেয়ে গেলাম সেই কাক্সিক্ষত খবর। ১৯৭০ সালের দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ঘেঁটে আমরা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক হাওর-সফর সংক্রান্ত যে তথ্যসমূহ উদ্ধার করতে পেরেছি, বর্তমান নিবন্ধে মূলত তা-ই উপস্থাপন করা হলো। অনুসন্ধান করলে হয়তো এ-সংক্রান্ত আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। ইতিহাস রচনার কাজে ভবিষ্যতে এসব তথ্য কোনো গবেষকের কাজে হয়তো লাগতেও পারে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-মনোনীত প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার প্রায় দশদিন পর বঙ্গবন্ধু হাওরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণায় বেরিয়ে পড়েন। ৫ অক্টোবর ১৯৭০ (১৮ আশ্বিন ১৩৭৭ বঙ্গাব্দ, সোমবার) তারিখের দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘সপ্তাহব্যাপী সফরে আজ শেখ মুজিবের ঢাকা ত্যাগ’ শিরোনামে ছোট্ট করে হাওর-যাত্রার খবরটি ছাপা হয়। অর্থাৎ ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে বঙ্গবন্ধু হাওরাঞ্চলের নির্বাচনী সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। ৬ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পৃষ্ঠায় বিস্তারিত সফরসূচি ছাপা হয়। সফরসূচিটি পাঠ করলেই তাঁর যাত্রাপথ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। নিম্নে খবরটি উদ্ধৃত করা হলো:
শেখ মুজিবের ভৈরব যাত্রা
ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট জেলার পল্লী এলাকাসমূহে সপ্তাহ-ব্যাপী সফরের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ-প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান গতকাল (রবিবার) রাত্রে চট্টগ্রাম মেলযোগে ভৈরব রওয়ানা হইয়াছেন। গতকাল রাত্রি ১ টায় ভৈরব পৌঁছার পর রাত্রি ২টায় লঞ্চযোগে তাঁহার কুলিয়ারচর রওয়ানা হওয়ার কথা।
শেখ মুজিবের সফরসূচী নিম্নে প্রদত্ত হইল: আজ ৫ অক্টোবর, সোমবার সকাল ৯ টায় কুলিয়ারচর উপস্থিতি; ১০ টায় কুলিয়ারচরে, বিকাল ২টায় চাতলপুরে এবং বিকাল ৫টায় নাসিরনগরে জনসভা। ৬ই অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অষ্টগ্রাম; দুপুর ১২টায় নিকলী এবং বিকাল ৪টায় ইটনায় জনসভা। ৭ই অক্টোবর বুধবার সকাল ৯টায় আজমিরিগঞ্জ এবং বিকাল ৪টায় ডেরাই-এ জনসভা। ৮ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবারÑ সকাল ১১টায় জয়কলাশ (সুনামগঞ্জ); বিকাল ৩টায় জামালগঞ্জ এবং সন্ধ্যা ৬টায় গোলকপুরে জনসভা। ৯ই অক্টোবর শুক্রবার সকাল ৯টায় জাগলাজুর; সকাল ১১টায় রাজাপুর এবং বিকাল সাড়ে ৩টায় ধরমপাশায় জনসভা। ১০ই অক্টোবর, শনিবার সকাল ৮টায় মোহনগঞ্জে জনসভা এবং ট্রেনযোগে ময়মনসিংহ ফেরার পথে শেখ মুজিবকে বারহাট্টা, ঠাকুরাকোনা; নেত্রকোনা এবং শ্যামগঞ্জে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হইবে।
এই সফরে শেখ মুজিবের সঙ্গে রহিয়াছেন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব এম, এ, সামাদ৭। সফরের শেষ পর্যায়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জনাব আবদুল মোমিন শেখ মুজিবের সঙ্গে মিলিত হইবেন। ১০ই অক্টোবর রাত্রে শেখ মুজিব সদলবলে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করিবেন।

এরপর কয়েকদিন সফর সংক্রান্ত আর কোনো খবর পত্রিকায় ছাপা হয়নি। তখনকার সময়ে এটি সম্ভবও ছিল না। প্রান্তিক হাওরাঞ্চল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে খবর ঢাকা পাঠিয়ে তা ঐদিন-ই পত্রিকায় ছাপানো ছিল অসম্ভব। ১১ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে কেবল সপ্তাহব্যাপী সফর শেষে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা প্রত্যাবর্তনের খবরটি ছোট করে ছাপা হয়। পরের দিনের (অর্থাৎ ১২ অক্টোবর) ইত্তেফাকে বঙ্গবন্ধুকে নেত্রকোনা রেলস্টেশনে ১০ই অক্টোবর যে বিশাল সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়, তার কেবল একটি ছবি ছাপা হয় এবং ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘আওয়ামী লীগ-প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান প্রদেশের হাওর এলাকায় সপ্তাহব্যাপী ঝটিকা সফর শেষে গত শনিবার ঢাকা প্রত্যাবর্তনের পথে মোহনগঞ্জ হইতে ট্রেনযোগে ময়মনসিংহ আগমনের সময় বিভিন্ন ষ্টেশনে তাঁহাকে প্রাণঢালা সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বস্তুত: এই উপলক্ষে রেল লাইনের দুই পার্শ্বের জনজীবনে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্যের সঞ্চার হয়। মোহনগঞ্জ হইতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সুদীর্ঘ পথের প্রতিটি ষ্টেশনেই নারী-পুরুষসহ হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধুকে এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করিতে থাকে এবং প্রতিটি ষ্টেশনই স্বতঃস্ফূর্ত জনসভায় পরিণত হয়। নেত্রকোনা ষ্টেশনে তাঁহার সম্বর্ধনার অনুরূপ একটি দৃশ্য’।
সংবাদপত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সপ্তাহব্যাপী এই সফরে বঙ্গবন্ধু সর্বমোট ৩৩টি স্থানে বক্তৃতা করেন। সফরসূচিতে নির্ধারিত জনসভার বাইরেও তাঁকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হওয়া জনতার উদ্দেশে বক্তৃতা করতে হয়। এছাড়াও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীর সঙ্গে প্রায় প্রতিদিনই বঙ্গবন্ধু একাধিক মিটিং করেন। লঞ্চ থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু যেসব জনসভা, মতবিনিময় সভা করেন, সেসব স্থান কেউ সংরক্ষণ না করলেও একটি ব্যতিক্রম আছে। সফরসূচি অনুযায়ী ৯ অক্টোবর শুক্রবার লঞ্চ ভিড়ে হাওরবেষ্টিত গ্রাম রাজাপুরে (ধরমপাশা)। আওয়ামী লীগ নেতা মনসুব রেজা চৌধুরী (মহারাজ মিয়া)-র ঘাটে। জুমার নামাজ আদায় করার পর যে বাংলোঘরে বসে বঙ্গবন্ধু মধ্যাহ্নভোজ ও মিটিং করেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত সেই বাংলোটিকে সম্প্রতি মহারাজ মিয়া চৌধুরীর পুত্র আমানুর রাজা চৌধুরী ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরিত করেন।
বঙ্গবন্ধুর সপ্তাহব্যাপী হাওর-সফর নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে আমরা মাত্র একটি প্রতিবেদন খোঁজে পাই। ১৩ অক্টোবর ১৯৭০ খ্রি. তারিখে প্রকাশিত ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধির সচিত্র সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সিলেটের হাওর অঞ্চলে আওয়ামী লীগ-প্রধানের এক সপ্তাহ: বাংলার সম্পদের মালিক বাঙ্গালী হইবে কিনা আসন্ন নির্বাচনে তাহা নির্ধারিত হইবে’। পত্রিকার ভাষ্য মতে, প্রায় প্রতিটি জনসভায় তিনি বাংলার দুঃখ-দুর্দশা, সোনার বাংলা শ্মশানে পরিণত হওয়ার কারণ, ২৩ বৎসরের বঞ্চনার ইতিহাস প্রভৃতি বিষয় ভাটি অঞ্চলের জনসাধারণের নিকট তুলে ধরেন। জনসাধারণের নিকট আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আগামী নির্বাচন ক্ষমতা দখলের নির্বাচন নয়, বাংলার মানুষের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে কি হবে না, বাংলার সম্পদের অধিকারী বাঙালি হবে কি হবে না এবং বাংলার সম্পদ বাঙালি ভোগ করতে পারবে কি পারবে না, তারই দলিল রচিত হবে আসন্ন নির্বাচনের পর’। তিনি বলেন, ‘এই ভাটি অঞ্চলই সারা পাকিস্তানের মানুষের আহার জুটাতে পারত যদি সর্বগ্রাসী বন্যা রোধ করা হতো। কোটি টাকা ব্যয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে পাহাড় কেটে মরুভূমিতে আজ সবুজ বিপ্লব তথা কৃষি বিপ্লব আনয়ন করা হয়েছে। তিন তিনটি রাজধানী নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাংলার মানুষকে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য অর্থ পাওয়া যায় না’। গভীর আক্ষেপ করে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলার মানুষের অর্থ দিয়া যে রাজধানী নির্মাণ করা হয়েছে বাংলার মানুষ তা দেখতে পারবে না’।
ভাটি অঞ্চলের জনসাধারণ তাদের প্রিয় নেতা শেখ সাহেবকে এক নজর দেখার জন্য, তাঁর কথা শোনার জন্য জনসভায় দলে দলে হাজির হতে থাকেন। নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার নারীপুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁদের শেখ সাহেবকে এক নজর দেখার জন্য। বঙ্গবন্ধুর আগমনে সাধারণ্যে এক অভূতপূর্ব সাড়া পড়ে যায়। জনতার নিকট বঙ্গবন্ধু ৬-দফা দাবি সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, ৬-দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্বশাসন এবং ১১-দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচিত হলে আঞ্চলিক বঞ্চনার অবসান হবে। তিনি স্বায়ত্বশাসনের কথা বলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কথার অন্তর্নিহিত বার্তা ছিল অন্য কিছু। দেশব্যাপী তাঁর এই সফর নিছক নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যেই নয়, বরং মূল লক্ষ্য ছিল চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য জনসাধারণকে প্রস্তুত করে তোলা। তাঁর কথার ধরণেই সেই বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আবেগজড়িতকণ্ঠে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলার মানুষের ভালোবাসার চাইতে প্রাধানমন্ত্রিত্ব আমার নিকট বড়ো নয়। বাংলার মানুষ আমাকে আইয়ুব-মোমেনশাহীর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হতে উদ্ধার করার জন্য যে রক্তদান করেছে, আমি নিজের রক্তের বিনিময়ে হলেও তাঁদের ঋণ পরিশোধ করে যাবো। তাই আগামী নির্বাচনে আমি শুধু ভোট চাই নাÑ ভোটের মাধ্যমে বাংলার দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যৎ সংগ্রামে আপনাদেরকে সাথী হিসাবে পেতে চাই।’ এই আহ্বানের সময় হাজার হাজার মানুষ দুইহাত তুলে গগনবিদারী স্লোগানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দেন।
হাওরে সপ্তাহব্যাপী যে-সমস্ত জনসভা অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলোর মধ্যে জামালগঞ্জ থানার সাচনাবাজারের জনসভাটি ছিল অন্যতম বৃহৎ একটি সভা। সফরসূচিতে নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ ৮ই অক্টোবর ১৯৭০ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জনসভার কাজ আরম্ভ হয়। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুর সপ্তাহব্যাপী হাওর-সফর নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে একটি মাত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল এবং প্রতিবেদনটি ছিল সচিত্র। উক্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে যে ছবিটি ছাপা হয়, তা সাচনাবাজারে অনুষ্ঠিত সেই ঐতিহাসিক জনসভার ছবি। ইত্তেফাকে প্রকাশিত (১৩ অক্টোবর) উক্ত ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘পিডিপি নেতা জনাব মাহমুদ আলীর নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত জামালগঞ্জে আওয়ামী লীগ-প্রধান শেখ মুজিবের একটি বিরাট জনসভার একাংশ। শুকনা ময়দানে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় নদীতে নৌকা ভাসাইয়া হাজার হাজার লোক আওয়ামী লীগ-প্রধানের বক্তৃতা শ্রবণ করে।’
লক্ষণীয় বিষয় এই যে, তৎকালীন দৈনিক ইত্তেফাকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা পিডিপি নেতা মাহমুদ আলীর প্রসঙ্গ টেনে এনেছে। উক্ত ছবির ক্যাপশনে জামালগঞ্জকে মাহমুদ আলীর নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত বলে উল্লেখ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে মাহমুদ আলী সুনামগঞ্জ মহকুমার সদর আসনের এমএনএ প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু কেবল স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় পর্যায়েও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জ মহকুমায় হওয়ায়, মহকুমার অন্তর্গত জামালগঞ্জ থানাকেও স্বাভাবিক কারণে তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্তর্গত হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, মাহমুদ আলী সুনামগঞ্জ শহরের মিনিস্টার বাড়ি অর্থাৎ আলী পরিবারের সন্তান। ছাত্রজীবনে তিনি ছিলেন উঁচুমানের একজন ছাত্রনেতা এবং তখনই তিনি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সুনজরে পড়েন। সুনামগঞ্জ জুবিলী হাই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র মাহমুদ আলী দেশবিভাগের পূর্বে প্রথমে নিখিল আসাম মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখার সভাপতি এবং পরে প্রাদেশিক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিভাগপূর্ব আসাম প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সর্বশেষ জেনারেল সেক্রেটারিও ছিলেন তিনি। এমন একটা সময় ছিল যখন তাঁকে কেন্দ্র করেই সুনামগঞ্জের মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের রাজনীতি পরিচালিত হতো। বহুদিন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের বড়ো বড়ো মুসলিম ছাত্রনেতৃবৃন্দ ছিলেন মাহমুদ আলীর অনুসারি। পাকিস্তান আন্দোলনে তিনি ছিলেন সুরমা উপত্যকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা। কিন্তু পাকিস্তান হাসিলের পরপরই চরম সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পরিবেশে পূর্ববঙ্গে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির সূচনাকারী প্রগতিমুখী নেতাদের মধ্যে মাহমুদ আলী ছিলেন অন্যতম। পূর্ববঙ্গের প্রথম অসাম্প্রদায়িক ছাত্রসংগঠন সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়ন গঠনেও তাঁর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ১৯৫১ সালের মার্চ মাসে ‘যুবলীগ’ নামে প্রগতিশীল যুবকদের একটি অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়। পূর্ববাংলার তৎকালীন ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে যুবলীগের অবদান অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। ভাষা আন্দোলনের সময় ছাত্রদের প্রধান প্রতিষ্ঠানই ছিল যুবলীগ। তাই অনেকে বলে থাকেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, যুবলীগেরই ইতিহাস। যুবলীগ গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাহমুদ নূরুল হুদা, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ তোয়াহা, অলি আহাদ, মাহমুদ আলী প্রমুখ। প্রথম সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি মাহমুদ নূরুল হুদা এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৫১ সালের ২৭ মার্চ জিঞ্জিরায় অনুষ্ঠিত প্রথম যুব সম্মেলনে মাহমুদ আলীকে সভাপতি এবং অলি আহাদকে সাধারণ সম্পাদক করার এক প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।৮ ভাষা আন্দোলনে মাহমুদ আলী ও তাঁর নও-বেলাল পত্রিকার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, ’৬৯-এর ছাত্রগণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে তিনি দেশবাসীর আশা-আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের আগেই তিনি সস্ত্রীক পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে আজীবন তিনি ছিলেন পাকিস্তানের দপ্তরবিহীন মন্ত্রী।
স্বাধীনতা-পূর্ব সুনামগঞ্জের রাজনীতি সম্পর্কে কুমার সৌরভ লেখেন, ‘তখন সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে মাহমুদ আলীর প্রবল প্রতাপ। মাহমুদ আলীর প্রভাব-বলয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে পৃথক একটা অবস্থান গড়ে তোলা ছিল কঠিন’। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাহমুদ আলীর মতো এরকম একজন বড়ো মাপের নেতার রাজনৈতিক-প্রভাব বলয়ে আঘাত হানা ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কৌশল। কারণ এই পর্যায়ের একজন নেতা যদি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান, তবে বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। একারণেই সম্ভবত বঙ্গবন্ধু স্বয়ং সুনামগঞ্জের রাজনীতির দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখছিলেন। তাই দেখা যায়, ’৭০-এর নির্বাচনের পূর্বে তিনি পরপর দুইবার সুনামগঞ্জ সফর করেন। ইত্তেফাকের উপরিউক্ত প্রতিবেদন অনুসারে বঙ্গবন্ধু সাচনাবাজারের জনসভায় নূরুল আমীন, মাহমুদ আলী, ফরিদ আহমদ, মওলানা মওদুদী প্রমুখ রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী, ছাত্র-শ্রমিকদের ত্যাগের দরুণই জনসাধারণ ভোটের অধিকার এবং জনসংখ্যার ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের অধিকার ফিরে পেয়েছে। অপরপক্ষে বাংলার মীরজাফরগণ সংখ্যাসাম্য বজায় রাখার জন্য পশ্চিমাশোষক শ্রেণির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের এই চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে শোষকগণ বাংলাদেশে তাঁদের বিশ্বস্ত এজেন্টগণকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে তাঁদের হাতকে শক্তিশালী করার নূতন ষড়যন্ত্রের জাল ফেলেছে এবং এই উদ্দেশ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে’। তিনি জনসাধারণকে এই নূতন চক্রান্ত হতে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং এসব পাঞ্জাবী এজেন্টগণকে আগামী নির্বাচনে বাংলার মাটি হতে চিরতরে উৎখাত করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। ভাটি অঞ্চলের মানুষ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ছিলেন। দুর্গম এই অঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর কষ্টসাধ্য সফর ব্যর্থ হয়নি, বরং এই অঞ্চলের পরবর্তী রাজনীতিতে পড়ে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। ’৭০-এর নির্বাচন, সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার প্রমাণ পাওয়া যায়। ভাটিবাংলার হাজার হাজার তরুণ-যুবক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের সংগ্রামে মুক্তির সনদ ছিল ৬-দফা। নির্বাচনী প্রচার অভিযানে বঙ্গবন্ধু ’৭০-এর সাধারণ নির্বাচনকে ৬-দফা কর্মসূচির উপর ‘গণভোট’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এই ‘৬-দফার বাতাসের ঠেলায় দেশের জার্মুনি’ বিতাড়িত হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আজকে আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর শ্রমে-ঘামে গড়া দল করি, নিজেদেরকে মুজিব-সৈনিক হিসাবে দাবি করে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করি, তারা বঙ্গবন্ধুর জীবনদর্শনের কতটুকু সত্যিকারভাবে ধারণ করি? আজ মুজিব-সৈনিকের সাংঘাতিক বাড়বাড়ন্ত। কিন্তু আমরা কি একবারও ভাবি, কতটুকু ত্যাগ ও কঠোর শ্রমের বিনিময়ে তিল তিল করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলেছিলেন? মানবমুক্তির জন্য জীবনউৎসর্গ করেছিলেন?
তথ্যসূত্র:
১. হারুন-অর-রশিদ, ‘আমাদের বাঁচার দাবী’ ৬ দফা’র ৫০ বছর, বাংলা একাডেমি, ফেব্রুয়ারি ২০১৬ খ্রি.; পৃ. ৬২
২. আবুল বারকাত, বঙ্গবন্ধু-সমতা-সাম্রাজ্যবাদ: বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে কোথায় পৌঁছতো বাংলাদেশ? সা¤্রাজ্যবাদী বিশ্ব-প্রভুত্বের যুগে সমতাবাদী সমাজবিনির্মাণের সম্ভাব্যতা প্রসঙ্গে, মুক্তিবুদ্ধি প্রকাশনা, আগস্ট ২০১৫খ্রি.; পৃ. ৩০
৩. Talukder Moniruzzaman, Radical Politics and the Emergence of Bangladesh, Dhaka 1975, page 10
৪. অমলেশ ত্রিপাঠি, ঐতিহাসিক মেকলে: ইতিহাস ও ঐতিহাসিক, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যপুস্তক পর্ষদ, ২০১৪ খ্রি.; পৃ. ২৬
৫. আবু সুফিয়ান, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দুইদিন, নাগরী প্রকাশনী, সিলেট, আগস্ট ২০১৭ খ্রি.; পৃ. ২৩
৬. ‘দিরাই’-এর ইংরেজি বানান Derai থেকে ‘ডেরাই’ লেখা হয়েছে। একইভাবে গাগলাজুর (Gaglajur) কে জাগলাজুর এবং জয়কলস (Joykalash) কে জয়কলাশ লেখা হয়েছে।
৭. জননেতা আব্দুস সামাদ আজাদ তখনও নামের সঙ্গে ‘আজাদ’ শব্দটি যুক্ত করেননি। ‘আজাদ’ শব্দটি মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর নামের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়।
৮. ড. মোহাম্মদ হাননান, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, ১৮৩০-১৯৭১, আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৯ খ্রি.; পৃ. ১২৮
৯. তাজুল মোহাম্মদ, ভাষা সংগ্রামীদের কথা: বৃহত্তর সিলেট, সাহিত্য প্রকাশ; পৃ. ১১৭
১০. কুমার সৌরভ, একজন জননেতা হোসেন বখত, বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর সম্পাদনায় ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ভাষাসৈনিক হোসেন বখ্ত স্মারকগ্রন্থ’; মুক্তিযুদ্ধ চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ; মার্চ ২০১৮ খ্রি.; পৃ. ১০৪
[লেখক : অ্যাড. কল্লোল তালুকদার চপল, সদস্য, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী