শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০, ১১:১০ অপরাহ্ন

Notice :

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক : ৩শ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ০ কি.মি. থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের হাতে আবেদনপত্র তুলে দিয়েছেন প্রতিবাদী মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর। শনিবার সকালে সিলেট নগরীর রায়নগরে সওজ, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কার্যক্রম নিয়ে গণশুনানী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সচিব নজরুল ইসলামের হাতে তিনি আবেদনটি তুলে দেন। আবেদন গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন।
উল্লেখ্য, এর আগে একই দাবিতে তিনি গত ২১ জানুয়ারি সড়ক ও সেতু মন্ত্রীসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত আবেদন করেছিলেন। মালেক হুসেন পীরের আবেদনের বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বক্তব্য রেখেছেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীও সুনামগঞ্জে এসে সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
লিখিত আবেদনে সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্য সচিব মালেক হুসেন পীর উল্লেখ করেছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্মিত পরিদর্শন বাংলা, অফিস, বাসভবন, ওয়ার্কসপ, গ্যারেজসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩০০ অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।
মালেক হুসেন পীর তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬৮ কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় দীর্ঘদিন যাবৎ শত শত অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। দখলদারগণ বিভিন্ন স্থানে পাকা, আধাপাকা, কাচা স্থাপনা তৈরি করে মহাসড়কে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। ওয়ান ইলেভেন সরকার মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গা থেকে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও সেসব স্থাপনা গজিয়ে ওঠেছে। আবেদনকারী উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সড়ক ও সেতুমন্ত্রী দেশের সকল মহাসড়কের সরকারি ভূমিতে নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। এই সংবাদে তিনি উজ্জীবিত হয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের এই আবেদন করেন। দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে প্রায় তিন শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা জরুরি। সুনামগঞ্জ পি.টি.আই এর সম্পূর্ণ সম্মুখভাগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মহাসড়কের পাশে স্থাপনা গড়ে ওঠেছে পঁচাত্তরের পরে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জ পি.টি.আইয়ের ভূমিতে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার নিদর্শন রক্ষার জন্য সরকারিভাবে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি টিনসেড পরিদর্শন বাংলো থাকায় বর্ণিত স্মৃতিসৌধ মহাসড়ক থেকে দৃষ্টিগোচর হবেনা বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বশ্রেণির মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি বর্ণিত পরিদর্শন বাংলাটি বর্তমান স্থান হতে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনকারী উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিস সংলগ্ন গ্যারেজে ১০-১৫ বছর আগে এক বিধ্বংসী অগ্নিকা-ের সৃষ্টি হয়েছিল। আগুন নিভাতে গিয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন দুইজন চেয়ারম্যান মনোয়ার বখত নেক ও মমিনুল মউজদীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে আহত হন। মনোয়ার বখত নেক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। বর্ণিত স্থাপনা সমূহের নিকটবর্তী জনবসতি থাকায় এই স্থাপনা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন। এভাবে অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাগুলোও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলছে। সম্প্রতি পুরাতন বাসস্টেশনে সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে স্থাপনা করা হয়েছে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি মালেক হুসেন পীরের আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক ০৫.৪৬.৯০০০.০১৫.০২.০২৪.১৬০ নং স্মারকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিস সরেজমিন তদন্ত করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য সহকারি কমিশনারকে নির্দেশ দিলেও আজও প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি।
মালেক হুসেন পীর বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের দুই দিকেই অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠেছে। বিভিন্ন সময়ে এসব স্থাপনা মানুষের দুর্ভোগ ও অসুবিধার কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। কিছু স্থাপনা অপসারণ করা হলেও সুনামগঞ্জ শহরের প্রবেশমুখ থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত স্থাপনাগুলো বহাল তবিয়তেই আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী