মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

Notice :

এই মুহূর্তে কৃষকের প্রত্যাশা : হয়রানিমুক্ত, ফড়িয়ামুক্ত, রাজনীতিক প্রভাবমুক্ত ধান বিক্রয়ের সুবিধা

১৯ মে (রোববার) গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ধানের দাম নিয়ে সমস্যা সমাধান করা হবে। এ সংকট নিরসনে সীমিত পর্যায়ে চাল রপ্তানীর চিন্তাভাবনা করছে সরকার।’ চালরপ্তানী হ্রাসের সঙ্গে হাওরের ধানের দাম বৃদ্ধির একটি দূর সম্পর্ক আছে বটে। সরকার চাল কম সংগ্রহ করলে ধান সংগ্রহের পরিমাণটা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। আর চাল রপ্তানি অব্যাহত রাখলে চালকল মালিকদের চাল বিক্রির সুযোগ বাড়ে এবং কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় হ্রাস পায়। এতে করে কৃষকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ধনী চালকল মালিক আরও ধনী হওয়ার সুযোগ পায়, বিপরীতে অপেক্ষাকৃত গরিব কৃষক আরও গরিব হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং প্রকারান্তরে কৃষকবান্ধব সরকারের বন্ধুত্ব যে কৃষকের সঙ্গে নয় চালকল মালিকের সঙ্গে তা স্পষ্ট হয়ে উঠে কৃষকের সাথে সরকার ঘোষিত বন্ধুত্বের প্রসঙ্গটি বাস্তবে তথাকথিত একটি ধারণায় পর্যবশিত হয়, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিদগ্ধমহলের ধারণা, কৃষকের ধানের বাজার দর সরকার ঘোষিত দামের চেয়ে কম হয়ে যাওয়ার যে সমস্যাটি বাজারে সচরাচর সৃষ্টি করা হয় বা বর্তমানে সৃষ্টি করা হয়েছে, অর্থমন্ত্রী ঘোষিত ‘সীমিত পর্যায়ের চালরপ্তানির চিন্তাভাবনা’টি সে-সমস্যাটি নিরসনের কোনও যথাযথ ব্যবস্থা বা পদ্ধতি নয়। মানুষের সহজ বুদ্ধির নিরিখে অর্থমন্ত্রীর চিন্তাভাবনা ‘উদ্ভূত (আসলে সৃষ্টি করা) সমস্যা নিরসনের প্রকৃতপ্রস্তাবে কোনও কার্যকর ও সুদূর প্রসারী সমাধান হতে পারে না। সরকারের প্রতি অনুরক্ত মহলেরও অভিমত এই যে, সরকার কেবল চালকল মালিকদের সরকার নয়, কৃষকদেরও সরকার। কৃষকরাও সরকারকে ভোট দিয়ে থাকেন।
গতকালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হঠাৎ করে ধানের দাম কমে যাওয়ায় এবং অতিরিক্ত পরিমাণে চাল আমদানি করার কারণে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে। তাদের উৎপাদন খরচের চেয়ে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকদের আজ পথে বসার উপক্রম হয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত ধানের দাম নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়ন করা।’ এইটুকু সংবাদ জানান দিচ্ছে সরকার কৃষকের উৎপাদিত ধান নিয়ে দ্বৈতনীতি (যুগপৎ চাল রপ্তানি ও আমদানি) গ্রহণ করেছেন।
কৃষকের সঙ্গে একটি আর্থনীতিক প্রতারণা, যা বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে আসা হচ্ছে। প্রকৃতপ্রস্তাবে এই আর্থনীতিক প্রতারণাকে আধুনিক পদ্ধতিতে চুরি নয় ডাকাতি ভিন্ন অন্য কীছু বলার অবকাশ নেই। অবাক করার বিষয় এই যে, এই প্রতারণার সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে জড়িত না থাকলেও সরকারি দফতর যারা চালান তাদের একটি অংশ সবসময়ই সংশ্লিষ্ট থাকেন। আমরা মনে করি, দেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও অর্থবহ করতে হলে অবশ্যই এমনসব ভ্রান্তনীতি পরিহার করতে হবে। দেশের মানুষ বিশেষ শ্রেণির নয়, সমগ্র দেশের উন্নয়নের পক্ষপাতী। কৃষকের উন্নয়নকে এভাবে প্রতিহত করে প্রকৃতপ্রস্তাবে দেশের কোনও উন্নয়নই সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, এখনও এই দেশ কৃষি নির্ভর অর্থনীতির দেশ। সরকারকে শ্রেণি নির্বিশেষে সর্বমহলের উন্নতির দিকে দৃষ্টি রেখে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট নীতি প্রণয়ন করত যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। সরকারি কোনও নীতি বা কোনও কার্যক্রম এমন হওয়া সমীচীন নয় যে, সেটা একজনের উপকার করতে গিয়ে অপরজনের অপকার করবে। এমন রাষ্ট্রীয় নীতি রাষ্ট্রের ভেতর রাজনীতিক অস্থিরতা সৃষ্টির নিয়ামক হয়ে উঠে প্রকারান্তরে সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় করে তোলে ও ক্ষমতাসীন রাজনীতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœবিনষ্ট করে।
পরিশেষে বলি, সরকারকে অবশ্যই এখনই কৃষকের ধান উৎপাদন খরচের বেশি এবং নির্দিষ্ট একটি মূল্যে ক্রয় করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং আমাদের ধারণা কারণে কিংবা অকারণে যদি চাল রপ্তানি কিংবা আমদানি করা কার্যকর হতে পারে তবে নির্ধারিত দরে ধান ক্রয়ের কার্যক্রম কেবল ঘোষণায় সীমিত না রেখে কার্যকর করা অসম্ভব কীছু নয়। এই মুহূর্তে কৃষকের একটাই প্রত্যাশা- বিক্রয়ের সুবিধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী