শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

Notice :

খেলা ও বৈশাখে ধান মাড়াই করার মাঠ : ভূমিখোরদের গ্রাস থেকে উদ্ধার করুন

দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতরগুলোতে নীতিবিবর্জিত কাজ হচ্ছে প্রতিনিয়ত, যে-সব কাজকে দুর্নীতি ভিন্ন অন্য কোনও নামে অভিহিত করা যায় না। একটি দেশের ভেতরে সরকারি দফতর কিংবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিকারহীনভাবে নিয়মের অনিয়ম কিংবা যাকে বলে দুর্নীতি হলে সে-দেশের উন্নয়ন প্রতিনিয়ত প্রতিহত হতে বাধ্য এবং উন্নয়ন প্রতিহত হওয়ার মানেই হলো অনৈতিক কর্মকা- অবাধে করা যাবে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টির প্রশাসনিক পরিপ্রেক্ষিতের অবাধ বিস্তার। সরকারসহ সর্বজনের জানা কথা, এখনও পর্যন্ত এমন একটি আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত বিরাজমান আছে দেশের মধ্যে। যে-পরিপ্রেক্ষিতটিকে সম্পূর্ণ বদলে দেবার প্রয়াসে তৎপর আছে, অন্য যে-কোনও সময়ের তুলনায় অধিকমাত্রায়, আমাদের বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলের সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ইতোমধ্যেই। দুর্নীতিগ্রস্ত পরিস্থিতির একটি সামাজিক-রাজনীতিক উপজননের নিহিতার্থ হলো দেশের ভেতরে উচ্চ মাত্রার দুর্নীতিচর্চার রাজনীতিক পরিস্থিতির বিদ্যমানতাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসাহিত করা। প্রশাসনের ভেতরে নীতিকে দুর্নীতিতে পর্যবশিত করার একটি অপপ্রয়াস প্রতিনিয়ত চলে, ঐতিহাসিক এই প্রপঞ্চকে অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। আমাদের ভূমি প্রশাসন এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার বহির্ভূত কীছু নয়। যে-কোনও দেশের একটি ভূমিনীতি থাকে। বাংলাদেশেরও আছে। কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে সে-নীতি মানা হচ্ছে না।
১২ বছর আগের প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত ‘প্রকৃত ভূমিহীন নয়’রা বর্তমানে সেই একই প্রশাসনের বিবেচনায় কোন্ বাস্তবতা ও প্রশাসনিক যুক্তির খাতিরে ‘ভূমিহীন’ বিবেচিত হয়ে ১২ বছর আগে এই একই প্রশাসন কর্তৃক উৎখাতকৃত সেই একই জমি ফের বন্দোবস্ত পেয়ে যায় সে-রহস্য সাধারণের কাছে বোধাতীত কোনও রহস্য নয়, বরং সহজবোধ্য দুর্নীতির দৃষ্টান্ত। জামালগঞ্জের ভূমিপ্রশাসন কর্তৃক এমন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। একটি খেলার মাঠ, যে-মাঠটি বৈশাখে কৃষককে ধান মাড়াই করার সুবিধা দেয় সে-মাঠটিকে আবার দখল করে নিয়েছে ভুয়া ভূমিহীনরা এবং তারা তা করেছেন প্রশাসনের কাছ থেকে বন্দোবস্তের জোরে। জনবান্ধব সরকার যেখানে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে শূন্যসহনশীলতা প্রদর্শনের নীতি অবলম্বন করেছেন সেখানে জামালগঞ্জের ভূমিপ্রশাসনের কোনও কোনও লোক এই দুর্নীতি করার সাহস দেখিয়েছেন। আমাদের দেশের সব প্রশাসনের সব কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী দুর্নীতিবাজ নয়, তাদের মধ্যে কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন যারা দুর্নীতিবাজ, এরা সমগ্র প্রশাসনকে শেষ পর্যন্ত দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত করে তোলেন। এর একটি প্রতিকার চাই। আমরা আশা করব জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন প্রশাসনের অভ্যন্তরে এইরূপ প্রশাসনিক দুর্নীতি প্রতিরোধে অধিকতর সক্রিয় হবেন।
আমরা অবশ্যই ভুলিনি যে, আমাদের প্রশাসন আজ থেকে ১২ বছর আগে ভূমি দখলের চক্রান্ত প্রতিরোধ করে দিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট মাঠটিকে ভূমিখোরদের গ্রাস থেকে রক্ষা করিেছল, এবারও করবে। তার কোনও অন্যথা হবে না, সে-প্রতীক্ষায় রইলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী