বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২০, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জের ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ দেশের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে স¤পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি রোল মডেল আখ্যায়িত করে আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সব বহুমুখী এবং বহুমাত্রিক সহযোগিতার ফলে আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক স¤পর্ক বিশ্ববাসীর সম্মুখে সু-প্রতিবেশীসুলভ স¤পর্কের দৃষ্টান্তরূপে পরিগণিত হচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সোমবার দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারত সরকারের অর্থায়নে সুনামগঞ্জে ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বাংলাদেশের চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একথা বলেন।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কুড়েরপাড়, আহসানপুর, গোবিন্দপুর, দোয়ারাবাজার উপজেলার ডালিয়া গ্রাম, ধর্মপাশা উপজেলার বংশিকুন্ডা ও ছাতক উপজেলার চেঁচানবাজার এলাকায় ইতিমধ্যে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা। দুই দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাকি যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হলো ভারত সরকারের অনুদান সহায়তার আওতায় পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া পৌরসভায় ১১টি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট এবং সার্ক দেশগুলোতে ন্যাশনাল নলেজ নেটওয়ার্ক (এনকেএন) সম্প্রসারণের আওতায় বাংলাদেশে এনকেএন সম্প্রসারণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, সিভিল সার্জন ডা. আশুতোষ দাশ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেনসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সুবিধাভোগী জনগণ ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিগত এক দশকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রথাগত খাত যেমন নিরাপত্তা, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, জনযোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতে সহযোগিতা প্রভূত পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নতুন ও অপ্রচলিত খাত যেমন ব্লু ইকোনমি এবং মেরিটাইম, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, মহাকাশ গবেষণা, ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি এবং সাইবার সিকিউরিটি প্রভৃতি খাতে উভয় দেশ সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করেছে, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নয়া দিল্লীতে তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগদান করেন।
ভারত এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীগণ একত্রে সুইচ চেপে প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন। পরে ৪টি প্রকল্পের ওপরই অনুষ্ঠানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি ‘শূন্য সহনশীলতা’র নীতি পোষণ করে এবং কোন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে কখনই বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় প্রদান করা হবে না।
তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এ অঞ্চল এবং এর বাইরে সন্ত্রাসবাদ দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় গত মাসে কাশ্মিরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসি হামলার নিন্দা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সরকার প্রধান বলেন, আমি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ‘একইসঙ্গে এই ঘৃণ্য সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করছি’, যোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী