,

Notice :

খালেদা জিয়াকে হত্যার চেষ্টা হচ্ছে, অভিযোগ বিএনপির

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
সরকার খালেদা জিয়াকে ‘বিনা চিকিৎসায়’ কারাগারে আটকে রেখে ‘হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে’ বলে অভিযোগ করেছে তার দল বিএনপি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “পরিবারের সদস্যবৃন্দ গতকাল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে কারাগারে গিয়েছিলেন। তার এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে আমরা কেবল উদ্বিগ্নই নয়, আমরা হতবাক, বিস্মিত।”
খালেদার অসুস্থার কথা বার বার জানানোর পরও সরকার তার চিকিৎসার কোনো ‘ব্যবস্থা নিচ্ছে না’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মিথ্যা সাজানো মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রেখে তাকে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।”
বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চাইবেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাবেন।
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। ওই মামলায় তিনি হাই কোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তার মুক্তি মিলছে না।
৭৩ বছর খালেদার অসুস্থতার কথা তুলে ধরে ঢাকার বেসরকারি একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপি নেতারা।
তবে গত এপ্রিলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা ‘গুরুতর কিছু নয়’।
এদিকে ‘অসুস্থতার কারণে’ খালেদা জিয়াকে গত সাত মাসে একবারও আদালতে হাজির করা সম্ভব না হওয়ায় জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করতে কারাগারের ভেতরেই আদালতের এজলাস বসিয়ে বিচারের ব্যবস্থা করেছে সরকার।
নতুন ওই এজলাসে বুধবার খালেদা জিয়াকে হাজির করা হয় হুইল চেয়ারে করে। আদালতে তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। বাঁ পা ঠিকমত রাখতে পারেন না, বাঁ হাতেও ব্যথা।
বিচারকের উদ্দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেন, “আপনার যতদিন ইচ্ছা সাজা দিন, আমি এ অবস্থায় বারবার আসতে পারব না।”
এরপর বৃহ¯পতিবার পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়াকে দেখে এসেছেন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তারা বলেছেন, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বাঁ হাত ও বাঁ পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন। তিনি বলেছেন যে তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। একই কথা তিনি বলেছেন ৫ তারিখে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনি আদালত কক্ষে। তিনি বলে দিয়েছেন যে শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি আদালতে যেতে পারবেন না। আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”
দেশের প্রচলিত আইনে কোনো অসুস্থ নাগরিককে চিকিৎসা না দিয়ে বিচার কাজ চালানো যায় না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে যা হচ্ছে তা ‘স¤পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থি’।
“আমরা অনেকবার বলেছি, তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরাও বলেছেন তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ। অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে তাকে চিকিৎসা দেওয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতি প্রয়োজন। এখন যে অবস্থায় তিনি আছেন তাতে তার জীবন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে।”
সরকার খালেদা জিয়াকে ‘পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে স্যাঁত স্যাতে ঘরে’ আবদ্ধ করে রেখেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, একজন সাধারণ বন্দির ক্ষেত্রেও এ ধরনের আচরণ করা হয় না।
কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সরকার তাকে আবার শাস্তি দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটা ¯পষ্ট যে দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করার নীল
নকশা নিয়েই এ অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।”
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মাসুদ অরুন, মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী