,

Notice :
«» শাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে প্রথম হয়েছে শাহিলা চৌধুরী «» জগন্নাথপুরে প্রবাসীর উদ্যোগে রাস্তায় মাটি ভরাট «» স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রয়াত সভাপতি রমা দাসের জন্মদিন পালন «» সামাজিক সম্প্রীতি বিষয়ক কর্মশালা «» হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন কমিটি গঠন «» ধর্মপাশায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন রনজিত সরকার «» কাজ-না-করা সরকারি প্রতিষ্ঠান দেশের উন্নতিকে পিছনে টানে «» পণ্য প্রদর্শনী মেলায় নিম্নমানের পণ্যের দাম অধিক «» তাহিরপুর-মধ্যনগরে ব্যারিস্টার ইমনের মতবিনিময়: নির্বাচনী এলাকায় নতুন আলোচনা «» শিক্ষক সংকটে দক্ষিণ সুনাগঞ্জের অধিকাংশ বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

শিলংয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং ক্যাম্পের গল্প : মাজেদুল নয়ন

১৯৭১ সালের ১০ মে পাকিস্তানি হানাদাররা প্রবেশ করে সুনামগঞ্জে। ভারী অস্ত্রের সামনে অল্প সংখ্যক আনসার আর ইপিআর সদস্যদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হয়। সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে আশ্রয় নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা রওয়ানা করেন ভারতের উদ্দেশ্যে।
সীমান্তে সংগ্রাম কমিটির সদস্য আছদ্দর আলী মুক্তার এবং আল্লাদ আলি মুক্তার ও হোসেন বখত ছিলেন। সীমান্তের ওপারের স্থানটির নাম বালাট। নেতারা ভারতীয় বিএসএফ এর সঙ্গে কথা বলে রেখেছিলেন। ততদিনে মুজিবনগর সরকারও গঠন হয়ে গেছে। ফলে সীমান্তের ওপারে বালাটের লালপানি নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশ্রামের সুযোগ দেয় বিএসএফ। সেখানে সুনামগঞ্জের এমএনএ দেওয়ান ওবায়দুর রেজা চৌধুরী থাকতেন। আগত মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে একটি টিলার উপরে উঠে হোসেন বখত ভাষণ দেন। কি করণীয় এসব নিয়ে। তবে মুক্তিযোদ্ধারা শুধু অস্ত্র চাচ্ছিলেন, তাদের চোখে মুখে ছিল শত্রু হননের নেশা। তবে ভারতীয় বাহিনী উপর মহল থেকে নির্দেশ না পেলে এ ধরনের সহায়তা করতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
হোসেন বখত বলেন, ভারত সরকারের সঙ্গে কথা চলছে। আরো কিছুদিন সময় লাগবে সিদ্ধান্ত জানতে। সিদ্ধান্ত পেলে গাড়ি করে প্রশিক্ষণ ক্যা¤েপ নিয়ে যাওয়া হবে।
বালাটে তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান চৌধুরী। নেতারা গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ার ২০ মে বালাট থেকে প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণের জন্যে মুক্তিযোদ্ধাদের গাড়িতে ওঠানো হয়। গাড়িতে সামনেই বসা ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। প্রথম যাওয়া এই ট্রাকটায় লেখা ছিল ‘পিপিএল’ (পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিমিটেড)। মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং নিতে চলে যান ভারতের বালাটে। ওই প্রথম ট্রাকে ছিলেন মোট ৪৮ জন। সুনামগঞ্জেরই ছিলেন ২২ জন।
মেঘালয়ের পাহাড়ি পথ ধরে উঠতে থাকে ট্রাক। অ্যাডভেঞ্চার আর ফিরে এসে শত্রু বধ করার নেশায় মত্ত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। এসময় ঘটে এক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। মশনড্রাম নামক স্থানে ছিল ওয়ানওয়ে রোড। অন্যপাশ থেকে গাড়ি আসাতে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রাকটি দাঁড়িয়ে ছিল।
এসময় কয়েকজন খাসিয়া মত্ত-মাতাল অবস্থায় অসংলগ্ন কথা বলে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। মুক্তিযোদ্ধা নওশাদ এর প্রতিবাদ করেন। ঝগড়া এক পর্যায়ে হাতাহাতিতে গড়ায়। তারা সহজভাবে নিতে পারতো না বাঙালিদের। পাশেই একজন ভারতীয় সৈন্য ছিলেন, তিনি এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। এক পর্যায়ে সেই খাসিয়াদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তারা মাংস দিয়ে ভাত খেতে দেন মুক্তিযোদ্ধাদের। কিন্তু অনেকেই খেয়াল করেননি যে মুরগীর সঙ্গে শূকরের মাংসও ছিল। পরে গাড়িতে ওঠার পর একজন বিষয়টি খোলাসা করলে বমি করে দেন অনেকেই।
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথমে শিলংয়ে বিএসএফ হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে, নাস্তা সেরে তারা শিলং ক্যান্টনমেন্টের এয়ারফোর্স ঘাঁটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। রাত দুইটার দিকে পথ শেষ হয় কয়েক হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ে। মে মাসেও সেখানে ছিল হাড়কাঁপানো ঠা-া।
মেঘালয়ের জোয়াই মহকুমার জুরাইন এলাকার মফিয়েট নামে এক স্থানে ছিল প্রশিক্ষণ ক্যা¤প। তবে এয়ারফোর্সের ঘাঁটির গেইটে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় গাড়ি। সেন্ট্রি বলেন, উপরে থেকে অনুমোদন এলেই ভেতরে যেতে পারবেন। অগত্যা সকাল পর্যন্ত ওই গাড়িতেই ঘুমালেন সবাই। সকালে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি আসে।
২১ মে সকালে প্রাতঃকর্ম সমাধানের জন্যে বোতলে পানি দেয়া হয়। অথচ এটায় অভ্যস্ত ছিলেন না তারা। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর আবার গাড়িতে ওঠানো হয়। এবার কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ডাউকি সীমান্তে নেয়া হয়। পথে পথে বিএসএফ বারবার কাগজপত্র চেক করছিল।
ডাউকিতে মেজর মোত্তালিব, এমএনএ আব্দুল হক এবং মিজানুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে দেখা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। মেজর মোত্তালিব মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ভারতে প্রশিক্ষণের সময় যেন দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। তারা খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন রয়ও ছিলেন। তিনি জানান, গাড়ি প্রস্তুত। সকলেই যেন উঠে যান। এরপর আবারও গাড়ি পাহাড় ধরে উঠতে থাকে।
প্রশিক্ষণ ক্যা¤প থেকে তাদের নিয়ে আসা হয় ডাউকি। মেঘালয়ের জোয়াই মহকুমার জোরাইন এলাকার মফিয়েট নামক স্থানে ছিল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এটা ছিল ভারতীয় গুর্খা রেজিমেন্ট। মফিয়েট খাসিয়াদের বাসভূমি।
প্রচুর পাইন গাছে ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। আরো ২টি টিলা পেরিয়ে ছিল প্রশিক্ষণস্থান। সবাই সেখানে নেমে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন। তাঁবু এবং দড়ি নিয়ে আসা হয় টানানোর জন্যে। গুর্খা সৈন্যদের এ কাজে সাহায্য করেন মুক্তিযোদ্ধারা।
এরই মধ্যে সেখানে রেশনের গাড়ি আসে। চাল, ডালের বস্তাগুলোর ওজন ছিল প্রায় ৫০ কেজি করে। প্রতি দুইজন মুক্তিযোদ্ধা একটি করে বস্তা বহন করেন।
এখানকার দায়িত্বে ছিলেন গুর্খা রেজিমেন্টের কর্নেল মাথুর। সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন মেজর বলবন্ত সিং। তাদের বাজখাঁই গলার কমান্ডের সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন না মুক্তিযোদ্ধারা।
তাঁবুতে যাওয়ার পর দুটি করে লুঙ্গি, গেঞ্জি, শার্ট, জাঙ্গিয়া, ১ টা থালা, মগ, গামছা, ১ জোড়া পিটি স্যু ও ২টি করে কম্বল দেয়া হয়। একটি কম্বলে নিচে বিছানো হতো আরেকটি গায়ে দেয়া হতো।
ক্যা¤েপ গাছের পাতা ও বেড়া দিয়ে ২ ফুট প্রস্থের গর্তের ওপর টয়লেট তৈরি করা হয়। সকালে কয়েক ঘণ্টা পিটি করানো হতো মুক্তিযোদ্ধাদের। এরপর বেলা ১২টা পর্যন্ত গেরিলা অপারেশনের বিভিন্ন দিকের ওপর নেওয়া হতো ক্লাশ। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর এক ঘণ্টা বিশ্রাম। এরপর আবার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাশ। সেখানেই বিভিন্ন প্লাটুনে বিভক্ত করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আরএসএম হিসেবে ছিলেন এনামুল হক (পরে বীরপ্রতীক)।
১০ জন করে ৩০ জন সৈন্যকে ৩ টি সেকশনে ভাগ করা হয়। এখানে ১জন প্লাটুন কমান্ডার ছিলেন আর ছিলেন ৩ জন সেকশন কমান্ডার।
মাইলামে শরণার্থী শিবিরে ইয়ুথ ক্যাম্পে যুবকদের নাম লেখান শফিকুর রহমান। প্রতি রোববার ক্যাম্পে গানবাজনার আয়োজন করা হতো। সেখানে সবাই নির্মল আনন্দ করতেন। একদিন গুর্খা ওস্তাদ লেফটেন্যান্ট পি বানুট সকলকে লাকড়ি জোগাড় করে আনতে বলেন। পাহাড়ে শুকনো কাঠের অভাব ছিল না। প্রচুর লাকড়ি নিয়ে এসে ক্যাম্পফায়ার করে সেদিন গান বাজনা হয়। পরে অনেক সময়ই লাকড়ি জোগাড় করতে গিয়ে পেটের ক্ষুধায় এমন অবস্থাও হয়েছে যে, গাছ থেকে তেজপাতাও ছিঁড়ে খেয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
কর্নেল মাথুর ডি. এল. রায়ের ‘ধনধান্যে পুষ্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা/ তাহার মাঝে আছে যে দেশ/ সকল দেশের সেরা…’ গানটি গাইতে বলেন। সমস্বরে গানটি গাওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মতো কর্নেল মাথুরের চোখ দিয়েও পানি গড়িয়ে পড়ে। প্রতিদিন একবার করে গানটি গাওয়ার নির্দেশ দিতেন তিনি। পরে অবশ্য ট্রেনিং ক্যা¤পগুলোতে ‘আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালবাসি…’ জাতীয় সংগীত গাওয়ার নির্দেশ আসে। তবে ইকোয়ানের প্রথম ব্যাচে দীর্ঘদিন ডি.এল রায়ের গানটিই গাওয়া হয়।
একবার কোনো এক ক্যাম্পফায়ারের রাতে দুটি দলে ভাগ করা হয় সবাইকে। এর মধ্যে যাদের নেতৃত্বের গুণ রয়েছে, তাদের আলাদা করে বাড়তি প্রশিক্ষণের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়। দুটি দলে ভাগ করে শুরু হয় প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস। এক দলকে পাকিস্তানবাহিনী বানানো হয়, আরেক দলকে গেরিলাবাহিনী।
প্রথম দিকে গুর্খা সৈনিকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থী মুক্তিযোদ্ধাদের মন মানসিকতায় অনেক ফারাক থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসতে থাকে। শেষ দিকে গুর্খা সৈন্যরা কম দামে সিগারেট এনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়াতো। দেশের জন্যে কষ্ট করা এসব তরুণদের সম্মান করতো তারা মনে মনে। তবে নির্দেশের সময় ছিলো খুবই কঠোর।
২৩ জুন ক্যাম্প থেকে পাসিং আউট হয় প্রথম ব্যচের। শিলংয়ের জিওসি জেনারেল গুলবক্স সিং সেখানে হিন্দিতে বক্তব্য রাখেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তা বাংলায় তর্জমা করে শোনান। এরপর শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। হিন্দু মুক্তিযোদ্ধারা গীতা স্পর্শ করে এবং মুসলমানরা কোরআন স্পর্শ করে মাতৃভূমির নামে শপথ নেন। সকলের হাতে ৫০ টাকা করেও দেয়া হয়। গুলবক্স সিং বলেন, ‘তোমরা স্বাধীন হবে, তোমাদের মধ্যে সেই মনোবল দেখতে পাচ্ছি। এই প্রশিক্ষণের কথা কখনো ভুলবে না।’
মফিয়েট থেকে ভারতীয় সেনাদের গাড়িতে করে সবাইকে শিলং ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই সবার হাতে একটি করে অস্ত্র তুলে দেয়া হয় নিজ নিজ নামে। তিনটি দলের মধ্যে একটি চলে যায় ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে ভোলাগঞ্জে। আর দুটি যায় বালাট ও চেলায়। চেলায় বাঁশতলা সাবসেক্টরের কমান্ডার ছিলেন সামসুদ্দিন। বালাটে সাব সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এনামুল হক বীরপ্রতীক।
মুক্তিযোদ্ধারা সকলেই তখন যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত। চেলার দলটি চেরাপুঞ্জির দিকে রওনা করে। সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতো। পথেপথে এবার খাসিয়ারা মুক্তিযোদ্ধাদের দিকে তাকিয়ে আন্তরিকতার হাসি উপহার দেন। এরই মধ্যে তারাও বুঝতে পেরেছেন, স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্যে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বাংলাদেশি যুবকেরা।
বাংলাদেশি এই তরুণরা মেঘালয়ে থেকে যাবে – প্রথমদিকে এরকম একটি ভুল ধারণা জন্মেছিল খাসিয়াদের মনে। পরে মেঘালয় সরকারও খাসিয়াদের বিষয়টি বোঝাতে জনসংযোগ চালায়।
চেলা থেকে খরস্রোতা নদী পার হয়ে আসা দলটি ছাতকে প্রথম অভিযান করে ২৫ জুন। এই অপারেশনের নির্দেশক ছিলেন ভারতীয় কমান্ডার ‘চট্টোপাধ্যায়’। তিনি বাঙালি ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি বলেন, ‘তোমরা যে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছো, সেটা পাকিস্তানী বাহিনীকে বুঝিয়ে দিতে হবে। প্রথম অপারেশন নির্ধারিত হয় ছাতক সিমেন্ট কারখানায়। সেখানে পাকিস্তানি ৩১ পাঞ্জাব রেজিমেন্টের শক্ত ক্যাম্প ছিল। প্রথম অভিযানের আগে রেকি করেছিলেন মালেক। গেরিলা হিসেবে অপারেশনের মন্ত্রই ছিল হিট অ্যান্ড রান। তবে পরে সব যুদ্ধে এই ফর্মুলা কাজ করেনি। [সংকলিত]
[যারা বর্ণনা দিয়েছেন: সিলেট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুব্রত ভট্টাচার্য, বিশ্বম্ভরপুরের মুক্তিযোদ্ধা-সহযোগী ছায়েদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্র কুমার সরকার হাজং, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর ও মুক্তিযোদ্ধা-সহযোগী শফিকুল ইসলাম।]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী