রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন

Notice :

নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় : ৯ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

সাইফ উল্লাহ ::
ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। নদী ভাঙনের কবলে পরে স্কুল ভবনটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গাছের নিচে বসেই পাঠগ্রহণ করছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি কোন পদক্ষেপ।
গতকাল শনিবার সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালে সুরমার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায় বিদ্যালয় ভবনটি। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির বাড়ির উঠানে একটি গাছের নিচে পাঠকার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে আর কোন নতুন ভবন নির্মিত না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এভাবেই চলছে পাঠ কার্যক্রম।
জানা যায়, নুরপুর বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয় ১৯৪৬ সালে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সাল থেকে টানা ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন শিক্ষক দিয়ে স্কুলটি পলিচালিত হয়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সময়ে স্কুলটির পাঠদান কার্যক্রমে নিয়েজিত ছিলেন তিনজন শিক্ষক। এরপরে ২শতাধিক শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়টির পাঠদানের জন্য দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ২জন শিক্ষক। এতে করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ আল আজাদের বাড়ির উঠোনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীদের উঠোন ছেড়ে বারান্দায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
অভিভাবক আফজল নুর বলেন, আমরা হাওরপাড়ের বাসিন্দা। তাই আমাদের খবর কেউ রাখেন না। অনেক শিক্ষার্থী ভবন না থাকায় স্কুলে আসে না। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির স্কুল ছাত্র দুর্জয় (৯) বলেন, আমাদের বেঞ্চ নাই, তাই বসতে পারি না। একই শ্রেণির জুলেখা (১০) বলেন, আমাদের স্কুল নাই তাই উঠানে বসে পড়া লেখা করি।
বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, আমরা দু’জন শিক্ষক মিলে ১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের স্কুল ভবন নেই, শ্রেণি কক্ষ নেই। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত নুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আজাদ বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৫০ জন। আমরা নিয়মিত স্কুল পরিদর্শন করি। বর্তমানে দু’জন শিক্ষক খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করান শিক্ষার্থীদের। আমরা কি করব? আমরা তো আর শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারি না, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত রয়েছেন। আমরা ধর্মপাশা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে একাধিকবার লিখিত আবেদন দাখিল করেছি। স্কুলের ভবন না থাকায় অনেক ছেলে মেয়ে স্কুলে আসে না। স্কুল ভবন না থাকায় নুরপুর গ্রামের ৫শত এরও বেশী শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে ধর্মপাশা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার খাতুন বলেন, স্কুলে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। অচিরেই স্কুল ভবন নির্মাণ হবে। শিক্ষক সংকট রয়েছে। আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে সমস্যার কথা জানিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী