বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৯ অপরাহ্ন

Notice :

এবার মীর কাসেম আলীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের অপেক্ষা

সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আলবদর বাহিনীর প্রধান ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের পর আলবদর বাহিনীর তৃতীয় শীর্ষনেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের জন্য এখন আপিল বিভাগের ঘোষিত চূড়ান্ত রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
জানা গেছে, মীর কাসেম আলীর রায় লেখার কাজ শুরু হয়েছে। লেখা শেষ করার পরপরই সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষে রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হবে।
মীর কাসেম আলীর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করার পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পুনঃবিবেচনার আবেদনের মধ্য দিয়ে।
গত ৮ মে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত রায়ে মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদন্ড বহাল রাখেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন- সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মির্জা হোসেইন হায়দার ও মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
এটি আপিলের সপ্তম মামলা, যার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। অনুলিপি হাতে পেলেই রায় পর্যালোচনার আবেদন (রিভিউ) করতে পারবেন আসামি পক্ষ। মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ ৬ জনকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ফাঁসির দন্ড বহাল রেখে একাত্তরে আলবদর নেতা মীর কাসেমের আপিলের রায় লেখার কাজ চলছে। রায় লেখা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা প্রকাশ করা হবে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মূল হোতার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আটজনকে হত্যা-গণহত্যা প্রমাণিত হওয়ায় তার সর্বোচ্চ দন্ড দেয়া হয় আপিলের রায়ে।
নিয়ম অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তা ট্রাইব্যুনালে যাবে। পরে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করবে ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানা আসামিকে পড়ে শোনাবে কারা কর্তৃপক্ষ। পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার সুযোগ রয়েছে আসামির। তবে রিভিউ যে আপিলের সমকক্ষ হবে না, তা জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ‘রিভিউ’ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায়েই ¯পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
রিভিউ আবেদন নি®পত্তির পর মৃত্যুদন্ড বহাল থাকলে আসামিকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার সুযোগ পাবে। তখন তিনি স্বজনদের সঙ্গেও দেখা করতে পারবেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি ফয়সালা হয়ে গেলে সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষকে দিয়ে রায় অর্থাৎ ফাঁসি কার্যকর করবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া স¤পর্কে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আগেই বলেছেন, কাদের মোল্লার রিভিউর রায়ে বলা আছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আসামি রিভিউ করতে পারবেন।
তিনি বলেন, অপেক্ষা করব এই ১৫ দিনের জন্য। তারা যদি রিভিউ পিটিশন দাখিল না করে, তাহলে আমরা এই রায় কার্যকর করার ব্যবস্থা নেব।
মীর কাসেম আলী ও ডিফেন্স টিমের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনও বলেছেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির জন্য অপেক্ষা করছি। পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর রিভিউর উপাদান পাওয়া গেলে রিভিউ আবেদন করা হবে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘রিভিউ শুনানিতে কারো ফাঁসি বা মৃত্যুদন্ড কমেছে বলে আমার জানা নেই। ইতিহাসে এমন নজির আছে বলেও আমার জানা নেই। সে ক্ষেত্রে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত মীর কাসেম আলীর রিভিউ নি®পত্তির মধ্য দিয়েই জানা যাবে তার পরিণতি।’
মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শহীদ কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিনসহ ছয়জনকে হত্যা-গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী থাকায় ১১ নম্বর অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
১১ নম্বর ছাড়াও ১২ নম্বর অভিযোগে রঞ্জিত দাস লাতু ও টুন্টু সেন রাজুকে হত্যার দায়েও কাসেমের মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। তবে আপিলের চূড়ান্ত রায়ে তার প্রমাণ না পাওয়ায় এই অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেন আপিল বিভাগ।
রায়ে বলা হয়, মীর কাসেমের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে ৪, ৬ ও ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আর ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আপিল নাকচ করে ট্রাইব্যুনালের রায়ই বহাল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ নম্বর অভিযোগে হত্যার দায় থেকে এই জামায়াত নেতা অব্যাহতি পেলেও ১১ নম্বর অভিযোগ সর্বোচ্চ সাজাই বহাল রাখা হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম ১৯৮৫ সাল থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ অর্থাৎ মজলিসে শুরার সদস্য হিসেবে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তিনি জামায়াতের পঞ্চম শীর্ষ নেতা। চূড়ান্ত রায়েও তার সর্বোচ্চ সাজার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলের দিগন্ত মিডিয়া সেন্টার থেকে গ্রেফতার হন মীর কাসেম আলী। গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি কারাগারে। ট্রাইব্যুনালের রায়ের আগ পর্যন্ত তিনি ডিভিশনে ছিলেন। মৃত্যুদন্ড পাওয়ার পর তাকে ফাঁসির আসামিদের সেলে পাঠানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী