শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

Notice :

এসএসসি ফলাফল : সিলেট বিভাগে তৃতীয় সুনামগঞ্জ

স্টাফ রিপোর্টার::
২০১৬ সনের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের গড় ফলাফলে তৃতীয় হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা। চতুর্থ স্থান থেকে উঠে এসে এবার একধাপ এগিয়েছে সুনামগঞ্জ। এ জেলা থেকে এবার ১৭ হাজার ৯৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৫ হাজার ২০০ জন। জেলায় পাসের হার ৮৩.৬০। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট জেলা ৮৬.৩০ ভাগ ফলাফল পেয়ে বিভাগে শ্রেষ্ঠ হয়েছে। গত বছর ৮০.০৩ শতাংশ ফলাফল নিয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চতুর্থ অবস্থানে ছিল হাওরাঞ্চলের এই জেলা।
সিলেট শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় গড় ফলাফলে ৮৬.৩০ পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেছে সিলেট জেলা। ৮৫.৯৯ ভাগ ফলাফল নিয়ে হবিগঞ্জ জেলা দ্বিতীয়, ৮৩.৮৭ শতাংশ ফলাফল নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা তৃতীয় এবং ৮২.৩৮ শতাংশ ফলাফল নিয়ে মৌলভীবাজার জেলা চতুর্থ স্থান লাভ করেছে। গড় ফলাফলে গতবারের চেয়ে একধাপ এগিয়েছে সুনামগঞ্জ। তবে গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ- কমেছে বলে জানা গেছে। আগামীতে আরো ভালো ফলাফলের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ।
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ফলাফলে ভাল করেছে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বুধবার ফলাফলে দেখা যায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৭ দশমিক ৭২ভাগ। বিদ্যালয়টি থেকে এ বছর মানবিক শাখায় ২১৯ জন, বিজ্ঞান শাখায় ১১৫ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৪৭জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে মানবিক শাখায় ২১৪জন, বিজ্ঞান শাখায় ১১২জন এবং ব্যাবসায় শিক্ষা শাখায় ৪৬জন পরীক্ষার্থী পাস করে। বিদ্যালয়টি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৭জন শিক্ষার্থী।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৪ জন ছাত্র। এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাশ করেছে ১৮৪ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছেন একজন ছাত্র। বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৩৮ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৪৪.৭১ শতাংশ। সুনামগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ৩১১ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে ২৬৪ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৮৫.৩২%।
সুনামগঞ্জ সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রহিম বলেন, গড় ফলাফলে গেলবারের চেয়ে এবার সুনামগঞ্জ জেলার ফলাফল ভালো হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ই ভালো ফলাফল করেছে। আগামীতে জেলার বিদ্যালয়গুলো আরো ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করবে বলে তিনি জানান।
ছাতক উপজেলায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় চমক দেখিয়েছে। উপজেলার সবক’টি বিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে ১৫টি জিপিএ-৫ সহ ৩৪৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে পরীক্ষায়। পাশের হার শতকরা ৯৪ দশমিক ৫৩। এ বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৩৬৬ জন শিক্ষার্থী।
ছাতক উপজেলায় এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৪ হাজার ৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাশ করে ৩ হাজার ৬২১ জন। উপজেলায় পাশের হার শতকরা ৮৯ দশমিক ১২। জিপিএ-৫ লাভ করেছে ৮২ জন শিক্ষার্থী। ৩৬টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ২ হাজার ৯৬৯ জনের মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২ হাজার ৭১৯ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন শিক্ষার্থী। পাশের হার শতকরা ৯১ দশমিক ৫৭। ফলাফল বিবেচনায় শতভাগ ফলাফলসহ ৯টি জিপিএ-৫ পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মঈনপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়। ৭টি জিপিএ-৫ পেয়ে তৃতীয় স্থানে চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
এছাড়া সিলেট পাল্প এন্ড পেপারমিল উচ্চ বিদ্যালয় ৫টি, নতুনবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ৫টি, ঝিগলী স্কুল এন্ড কলেজ ৪টি, মুনিরগাতি উচ্চ বিদ্যালয় ৪টি এবং ছাতক বহুমুখী মডেল হাইস্কুল, বুরাইয়া স্কুল এন্ড কলেজ, সিমেন্ট ফ্যাক্টরি উচ্চ বিদ্যালয়, সামারুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ২টি করে, শুকুরুন্নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ও ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয় ১টি করে জিপিএ-৫ লাভ করেছে।
২৩টি বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীরা জিপিএ-৫ লাভ করতে পারেনি। শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে মঈনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, হায়দরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় ও আনুজানী উচ্চ বিদ্যালয়।
ভোকেশনাল শাখা থেকে ১৮৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৭জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৪টি ও ছাতক টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ ১টি জিপিএ-৫ লাভ করেছে।
এছাড়া উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৮৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ৭৬৫ জন। পাশের হার ৮৬ দশমিক ৬৩। ৫টি জিপিএ-৫ নিয়ে বুরাইয়া কামিল মাদ্রাসা রয়েছে শীর্ষে। এছাড়া ছাতক জালালিয়া আলিম মাদ্রাসা, পালপুর জালালিয়া দাখিল মাদ্রাসা, জামেয়া মোহাম্মদিয়া মুক্তিরগাঁও মাদ্রাসা ১টি করে জিপিএ-৫ লাভ করেছে। শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে সিংচাপইড় আলিম মাদ্রাসা, জামেয়া মোহাম্মদিয়া মুক্তিরগাঁও মাদ্রাসা ও কুমারকান্দি দাখিল মাদ্রাসা।
ধর্মপাশা উপজেলায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। এবার উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের কোনো মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ ৫ পায়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১৬টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার ৮০৮জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে এক হাজার ৪০৩জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অপরদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের মাদ্রাসা থেকে ৯৪জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৭০জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ ৫প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলো বাদশাগঞ্জ পাবলিক হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মেহেদী হাসান মুন্না, বাণিজ্য বিভাগে মারিয়া সুলতানা হীরা, একই বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনিক তালুকদার। ধর্মপাশা জনতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। তারা হলো সাজ্জাদ হোসেন সজীব, আল মামুন রিয়েল ও পল্লব তালুকদার। মধ্যনগর বিপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে একমাত্র শিক্ষার্থী মোবাশশির আহমেদ জিপিএ ৫ পেয়েছে।
জগন্নাথপুরে এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এবারো স্কুল থেকে মাদ্রাসা এগিয়ে রয়েছে। বুধবার প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৯টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মোট ১৭৫৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৬১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৯১.৬৪% ও জিপিএ ৫ পেয়েছেন দু’জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন ও ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন।
এবারের দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৭টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৬১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫৭১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৯৩% ও জিপিএ ৫ পাঁচটি পেয়েছে। এর মধ্যে হলিয়ারপাড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা দুইটি, সৈয়দপুর সৈয়দিয়া শামছিয়া আলিম মাদ্রাসা দুইটি ও আল জান্নাত ইসলামি ইনস্টিটিউট একটি জিপিএ ৫ পেয়েছে।
দিরাই উপজেলার এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৮০.৭৫। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৪ জন শিক্ষার্থী। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১৮৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ১৫২৩ পরীক্ষার্থী। দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় ৬জন, বালিকা বিদ্যালয় ৪জন, রানীগঞ্জ, গচিয়া, আব্দুল মতলিব, ফকির মোহাম্মদ বিদ্যালয়ে ১জন করে জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এবারের ফলাফলে ছেলেরা এগিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী