শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

Notice :

শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ দাবি

শাল্লা প্রতিনিধি ::
সাংবাদিক, সংবাদপত্র ও টিভি টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে কটূক্তি করায় শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি শাল্লা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম সাংবাদিকদের “অকথ্য” ভাষায় গালমন্দের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শাল্লা উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা। সম্প্রতি উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক বাদল চন্দ্র দাস, বকুল তালুকদার, জয়ন্ত সেন, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আসিফ বিন ইকরাম বাংলাদেশের সকল সাংবাদিক ও টেলিভিশনে টকশোর বক্তাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, বাংলাদেশের সকল সাংবাদিকরা দেশটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। টিভির টকশোকারীদেরও পেটানো উচিত, চড়ানো উচিত।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষকের ফসল রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো জোরালো ভূমিকা না রেখে, তিনি কার্যালয়ে বসে সাংবাদিকদের সমালোচনা, হাকিমিবাদ খানকায়ে মোজাদ্দেদিয়ার মতাদর্শের ধর্মপ্রচার ও টকশোতে অংশগ্রহণকারীদের অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেছেন।
মানববন্ধনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে- অশালীন বক্তব্য প্রদানের জন্য সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা চেয়ে ভবিষ্যতে মিডিয়া সম্পর্কে এমন কটূক্তিমূলক অশালীন ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
জানা যায়, সম্প্রতি হাওর রক্ষা বাঁধ বিষয়ে সাংবাদিকরা তাঁর সাথে কথা বলতে যান ইউএনও এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের সঙ্গে। এ সময় তিনি সিলেটের একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে দেশের সকল সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করতে থাকেন। তিনি ওই পত্রিকার কপি পা দিয়ে দলতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে আসিফ বিন ইকরাম বলেন, কাজের লোক রহমানকে নির্দেশ দিয়েছি পত্রিকাটি দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার করার জন্য। শালা সাংবাদিকরা মিলে দেশটাকে নষ্ট কইরা ফালাইছে। ভাল নিউজ না দিয়ে শুধু কোথায় ধর্ষণ হইছে, কোথায় খুন হইছে, কোথায় চুরি-ডাকাতি হইছে, কোথায় শালি দুলাভাইয়ের সাথে পালিয়ে গেছে, কোন নায়িকা কোন নায়কের সাথে প্রেম করেছে, কোথায় আকাম-কুকাম হইছে শুধু এইসব লিখে। তিনি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকা সম্পর্কে অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। তিনি বলেন, ওইসব পত্রিকায় নেগেটিভ নিউজ দিয়ে দেশের পুরো জেনারেশনের মগজ নষ্ট কইরা ফালাইছে। উত্তর কোরিয়া ঠিকই করেছে, “এক দেশ এক রাজা, সাংবাদিক একেবারে সোজা”। আর আমাদের দেশে টক শোতে অংশগ্রহণকারীরা রাস্তায় যে সাপের ঔষধ বিক্রি করে এবং ফুটপাতের লোকের চেয়েও খারাপ তারা।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম আসিফ বিন ইকরামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী