মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

Notice :

ছাত্রদলে হচ্ছেটা কী

স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজের ৩২টি ইউনিট কমিটি ঘোষণার পর স্বজনপ্রীতি, ত্যাগীদের বঞ্চিত করে নিষ্ক্রিয়দের মূল্যায়ন, অছাত্র ও বিবাহিতদের কমিটিতে রাখা, কমিটি-বাণিজ্য- এমন সব অভিযোগ এনে বিভিন্ন ইউনিটে পদপ্রাপ্ত অনেক নেতা পদত্যাগ করছেন।
পদত্যাগের কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে জেলা ছাত্রদলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সমালোচনা করছেন তারা। ‘দলের এই দুঃসময়ে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায়’ আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মত দিচ্ছেন তারা।
গত ৬ জানুয়ারি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য সচিব মো. তারেক মিয়া জেলার উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজের ৩২টি ইউনিটের জন্য গঠিত আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করেন।
এদিকে, কমিটি গঠনের পর থেকে বিশ্বম্ভরপুর, শাল্লা, জগন্নাথপুর, দিরাই, দোয়ারাবাজারসহ বিভিন্ন ইউনিটের পদপ্রাপ্ত অনেক নেতা স্বজনপ্রীতি, ত্যাগীদের বঞ্চিত করে নিষ্ক্রিয়দের মূল্যায়ন এবং অছাত্র ও বিবাহিতদের কমিটিতে রাখার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন।
জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল হক সফল কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন ‘অবমূল্যায়নের অভিযোগ এনে। জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকার পরও উপজেলা ছাত্রদলের একই পদে তাকে রাখায় তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিতে আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয়েছে অভিযোগ এনে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ওমর ফারুক।
পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, “অতীতের কোনও আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি এমন একজনকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ নির্যাতিত, পরিশ্রমী, ত্যাগী ও কারাবরণকারী নেতাদের মতামতকে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে উপেক্ষা করা হয়েছে। আদর্শ বহিঃর্ভূত ও নীতি-নৈতিকতাহীন কর্মকাণ্ডের দায়ভার এড়াতে আমি কমিটির পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম।”
একই কমিটি সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ওমর ফারুক, আবু সুফিয়ান জুয়েল প্রমুখ।
এদিকে, ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় শাল্লা উপজেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন পাভেল আহমদ, এইচএম ডালিম, রাব্বুল হোসাইন, শামীম মিয়া প্রমুখ।
জগন্নাথপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের কমিটি থেকে পদত্যাগ কাশেম মিয়া, মারজান চৌধুরী, শাহরিয়ার আহমদ প্রমুখ।
অপরদিকে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি, ত্যাগীদের বঞ্চিত করে নিষ্ক্রিয়দের মূল্যায়ন, অছাত্র ও বিবাহিতদের কমিটিতে রাখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
কমিটি প্রকাশিত হওয়ার হওয়ার পর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কের ফেসবুক পোস্টে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ছাত্রদল নেতা আশিকুল ইসলাম আশিক, সুয়েব সজল, এহিয়া হাসান রুবেল, জাকারিয়া আহমেদ, হিল্লোল আশরাফ, ইব্রাহিম আহমদ মনির, আকিকুর রহমান, সালমান এ সৌরভ, জুবায়ের আহমেদ জামান, মোহাম্মদ সুমন প্রমুখ।
জগন্নাথপুরের ছাত্রদল নেতা মাসুম বলেন, “জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব সামছুল ইসলাম জাবির কোন স্কুলে লেখাপড়ার করেছে? যে কোনদিন স্কুলে লেখাপড়া করে নাই, সে কওমি মাদ্রসায় হিফজ অর্ধেক পড়ে লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। তাকে কোন যোগ্যতায় আপনারা সদস্য সচিব করলেন?”
ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান পাওয়া এক নেতা বিগত জাতীয় নির্বাচনে নৌকার মিছিলের সম্মুখে রয়েছেন এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা একরামুল আহমেদ।
জানা যায়, ২১ সদস্যবিশিষ্ট ধর্মপাশা উপজেলা ছাত্রদলের ১৩ নম্বর ক্রমিকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে বাদশাহ মিয়াকে, যার বিরুদ্ধে বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ। নৌকার সমর্থনে করা একটি নির্বাচনী মিছিলের সম্মুখ সারিতে দেখা যাচ্ছে এই ছাত্রদল নেতাকে।
সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছাত্রদল বড় একটি ছাত্রসংগঠন। এটির ৩২টি কমিটি গঠন হয়েছে, সেখানে কিছুটা দ্বিমত, ভিন্নমত থাকবেই। বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে মিটিমাট করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী