রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

Notice :

নার্স সংকটে বিঘ্নিত স্বাস্থ্যসেবা

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জের সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা বিঘিœত হচ্ছে। নার্স না থাকায় সংশ্লিষ্টদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স না থাকায় ইনডোরের রোগীদের সেবা পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সেবা পেতে চরম ভোগান্তি পেতে হয় শিশুদের। একটি ওয়ার্ডে মাত্র একজন নার্স দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলোতে মোট ৩৬৪ জন নার্স থাকার কথা। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৬০ জন। ৩০৪ জন নার্সের পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। গত মাস থেকে জেলার শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নার্সও নেই। ওই হাসপাতালে দুইজন নার্সের মধ্যে একজন নার্স বদলি হওয়ার পর যিনি কর্মরত ছিলেন তিনিও এখন অসুস্থ। ছুটিতে রয়েছেন তিনি। ফলে গত মাস থেকে ওই হাসপাতাল নার্স ছাড়াই চলছে। এতে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী।
জানা গেছে, জেলায় ১২ জন সিনিয়র নার্সিং সুপারভাইজার, ৩৩৩ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং সহকারি নার্স প্রয়োজন ১৯ জন। এর মধ্যে সর্বমোট ৬৪ জন কর্মরত রয়েছেন। ৩০৪ জন নার্সের পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নার্স সংকটের বিষয়টি নিয়মিত বিভাগীয় সভায় উপস্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে লেখা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা। গত মাসে ঢাকায় একটি বৈঠকে সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুল হাকিম জেলায় নার্স সংকট দূর করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন জানিয়েছেন। তাছাড়া তিনি শাল্লায় জরুরি ভিত্তিতে একজন নার্স দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে আরেকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ৩ বছর আগে সরকার নার্স নিয়োগ দেওয়ার পর সুনামগঞ্জেও শতাধিক নার্সের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু নিয়োগে স্থানীয় নার্সরা না থাকায় নিয়োগের পরই শুরু হয় বদলির মিছিল। কিছুদিন যেতে না যেতেই অন্য জেলার নার্সরা নিজেদের এলাকায় বদলি হয়ে চলে যান। ফলে সদর হাসপাতালে চরম নার্স সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে এই হাসপাতালে ১২৩ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ২৭ জন কর্মরত রয়েছে। রাত-দিন হাসপাতালের নার্সরা দীর্ঘক্ষণ একটানা ডিউটি করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। ফলে অনেক সময় রোগীদের সঙ্গে তাঁদের দুর্ব্যবহার করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোগী ইনডোরে ভর্তি হন। বিশেষ করে শিশু-ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রতিদিনই রোগীদের ভিড় থাকে বেশি। এতে একজন করে নার্সকে ৮ ঘণ্টা একাধারে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। অনেক সময় লাইন ধরে শিশুদের চিকিৎসা দেন নার্সরা। এতে অনেক সময় এন্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগের সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। ফলে রোগীদের নানা জটিলতা তৈরি হয়।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, সদর হাসপাতালে ১২৩ জন নার্সের মধ্যে মাত্র ২৭ জন কর্মরত আছেন। জোড়াতালি দিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে নার্সদের। একজন নার্সকে একটি ওয়ার্ডে দীর্ঘক্ষণ একা দায়িত্ব পালন করতে হয়। এতে কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন, নার্স সংকটের বিষয়টি আমি নিয়মিত বিভাগীয় সভায় উপস্থাপন করি। তাছাড়া লিখিতভাবেও জানিয়েছি। নার্স সংকটের কারণে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রোগীদের কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী