মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

Notice :

ছাতকে তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক হেক্টর জমির ধান

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ::
গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে পাহাড়ি ঢলে ছাতকের ৬৪টি হাওরের মধ্যে ৪৭টি হাওরের বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কোন কোন হাওর আংশিক, আবার কোনটি সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে।
অপরিকল্পিত বাঁধ ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এদিকে, পাকা ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে যখন কৃষকরা বিভোর সেই মুহূর্তে তাঁদের পরিশ্রমের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। চোখের সামনে পাকা-আধাপাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তাঁদের দেখতে হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে চেয়ে কান্নায় বুক ভাসাচ্ছেন। ক্ষতি পুষিয়ে উঠার কোন পথও তাঁরা খুঁজে পাচ্ছেন না।
ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ‘পুকুর চুরি’ হওয়ার কারণে তাদের এ ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ফলসহানির ক্ষতিপূরণ ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
তাঁরা আরও জানান, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণে এখানের শতকরা প্রায় ৪০ভাগ বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বড় নাইন্দা, ছোট নইন্দা, কুইয়াদল, ইসলামপুর ইউনিয়নের শিলুয়াকুড়ি, গোয়া-বাকুড়া, কালারুকা ইউনিয়নের ঝাউয়াবিল, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গয়ার-রুকুর হাওর, বিলছড়া, চরমহল্লা ইউনিয়নের ডিমকা, বাড়–কা হাওর, জাউয়া ইউনিয়নের রাঙ্গাডিঙ্গা, জাউয়া, ছাতক সদর ইউনিয়নের তেরাবিলসহ বেশ ক’টি হাওরের পাকা ও আধা-পাকা বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। এছাড়া কাটার হাওর, মুতিয়া, হাতির বিল, মূতরা হাওর, গোয়ালমই, টিলাগাঁও, উরাবিল, চাতল হাওর, চান্দাই হাওর, বিশনাই হাওর, ঝাই হাওর, বড়বাড়ি হাওর, দেখার হাওর, জল¬ার হাওর, চাউলির হাওর, জুলিয়া হাওর, বড় হাওর, রাখা হাওর, পাতবার হাওর, চৌলার হাওর, বাত্তাপলি, ডাইনাকান্দি, বাঘাছেরা, বুড়াইগিরি, ডিঙ্গা হাওর, মৌআলু হাওর, গজ্জার হাওর, দ্বারিকান্দি, গেয়ালী, জালিয়া, কুঁড়িবিল, সুড়িগাঁও, ইন্দুয়ার হাওর, রাবারপাড়, পনাগড়, দশবিলা, চাতলবিল, বলে হাওর, পাকনার হাওর, পাঁচবিল, খঞ্চনপুর, হিলিকুড়ি, বাড়ানি ও কমলকাটা হাওরের বোরো ফসল আংশিক তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি না কমলে এসব হাওরের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৫-১৬ বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২হাজার ৭শ ২৫হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ১১ হাজার ৬১০হেক্টর, হাইব্রিড ৩৩০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৭৮৫হেক্টর। এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে ২৫০ হেক্টর বোরো ফসল এবং আক্রান্ত হয়েছে আরো ৯৭৫হেক্টর আধা পাকা ফসল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জগলুল হায়দার ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে উপজেলার সবচেয়ে বড় হাওর নাইন্দা হাওরের বোরো তলিয়ে গেছে। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রতিবছর সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে। নাইন্দার হাওর রক্ষায় সুরমা নদীর লক্ষ্মীবাউল খাল মুখে ছোট একটি স্লুইচ গেটের দাবি উঠে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই জায়গায় একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হলে নাইন্দার হাওরের ফসল রক্ষা পাবে।
এদিকে কোম্পানিগঞ্জের ইছাকলস ইউনিয়নের হারিকাটা, এলাকাইছনা, ইলারখাল, পাথর চাউলি, তিনপিরা, হাল চাপড়া, আঠালী, হালুক কুঁড়ি, উকিল উড়া, বলাউড়াসহ আরো কয়েকটি হাওরের অধিকাংশ বোরো জমির মালিক ছাতকের কৃষকরা। ইউনিয়নের পারকুল ও বাঘাইরডহর বেড়ি বাঁধ ভেঙে কয়েকটি হাওরের ৬ শতাধিক হেক্টর বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। গত শুক্রবার এলাকার দেড় শতাধিক কৃষক স্বেচ্ছাশ্রমে পারকুল ও বাঘাইরডহর বেড়ি বাঁধ নির্মাণে দিবা-রাত্রি চেষ্টা করেও তাঁদের ফসল রক্ষা করতে পারেননি। ফলে এখানের বোরো চাষিরা ফসল হারিয়ে সীমাহীন ক্ষতির কবলে পড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী