বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৮:০১ অপরাহ্ন

Notice :

পাউবো’র প্রকৌশলী, ঠিকাদার, পিআইসির শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার ::
নির্ধারিত সময়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ প্রাক্কলন অনুযায়ী নির্মিত না হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। গতকাল সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয়সভায় এই দাবি জানিয়ে ফসলহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন সহায়তার দাবি জানানো হয়। এদিকে জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে বাঁধভেঙে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়া এবং ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভার সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, সমন্বয় সভার অন্যতম সদস্য তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হাওরের একমাত্র বোরো ফসল কর্তনের আগেই তলিয়ে গেছে। এতে এ উপজেলার ১৫টি হাওরের অন্তত ১৫০ কোটি টাকার বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফসলহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দুরাবস্থা বিবেচনা করে তিনি তাহিরপুর উপজেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান। বোরো ফসলহানির ঘটনায় তিনি যথাসময়ে ও যথানিয়মে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মিত না হওয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি, অনিয়ম, উদাসীনতাসহ ঠিকাদার পিআইসির বরাদ্দ লুটপাটকে দায়ি করে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলের এই বক্তব্যের পর দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুল আলম তালুকদার ঝুনু, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হারুনুর রশিদসহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা একাত্মতা ঘোষণা করে পাউবো’র প্রকৌশলী, ঠিকাদার এবং পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)র দুর্নীতিবাজদের শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি মওসুমের শুরুতেই কৃষকের একমাত্র ফসল বোরো তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান।
জনপ্রতিনিধিদের এই দাবির প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে ফসলহানির কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভার সদস্য তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তাহিরপুর উপজেলার মতো সারা জেলার এবার একই চিত্র। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে সবখানেই বাঁধ ভেঙে কৃষকের একমাত্র ফসল বোরো তলিয়ে গেছে। কৃষকের ক্ষতিপূরণ না দিলে তারা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না। ফসলের ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ক্ষয়-ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছি। কারণ কৃষি বিভাগ শুরু থেকেই কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখাচ্ছে। এতে কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত থাকার আশঙ্কা থাকে।
জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একুরেট তথ্য দেয়ার জন্য কৃষি বিভাগকে বলা হয়েছে। কেন এই ফসলহানির ঘটনা ঘটলো সেই বিষয়টিও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া কি প্রক্রিয়ায় বাঁধ নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে ফসল রক্ষা করা যাবে এ বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিশেষ সহযোগিতার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লিখিত বলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী