সোমবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন

Notice :

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ : বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করুন

সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে রাজনীতিক সাংগঠনিক পদ্ধতিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। গতকালের দৈনিক সুনামকণ্ঠের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালে সংগঠিত ছাত্রদের পক্ষ থেকে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে কলেজ ক্যাম্পাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ না করে অন্য কয়েকজনের ম্যুরাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই তৎপরতা যে-কোনও বিবেচনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সাংগঠনিক পাঁয়তারা বলে বিবেচিত হতেই পারে। কারণ এটি বাংলাদেশ এবং এই রাষ্ট্রের অবিসংবাদিত স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশের কোনও একটি প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের জন্য তাঁর এই একটি অবদানের (তিনি রাষ্ট্রস্থপতি) কৃতিত্বই যথেষ্ট।
পত্রিকায় লেখা হয়েছে, ‘সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নীলিমা চন্দ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন পেয়েছি। আরেকটি আবেদন করে কিছু ছাত্র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের বিরোধিতা করেছে।’ এই বিরোধিতার কোনও গণতান্ত্রিকতা নেই, মানবিকতা তো নেইই, এমনকি যৎকিঞ্চিৎ কৃতজ্ঞতাবোধও নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্যে যেমন কোনও গণতান্ত্রিকতা, মানবিকতা ও কৃতজ্ঞতা ছিল না। এই সব ‘ছিল না’র মধ্যে ছিল : সাম্রাজ্যবাদের দালালি, স্বাধীনতার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা, গণতান্ত্রিকতাকে পদদলিত করার রাজনীতিক নোংরামি। এই সব করার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিক ক্ষমতার পুনরুদ্ধার। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী থেকে তথা জাতির থেকে দূরে সরিয়ে দিতে তাঁকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে গিয়ে অবহেলা অযতেœ সমাহিত করা হয়েছিল। তাঁর লাশের গোসল দেওয়ায় ব্যবহৃত হয়েছিল ৫৭০ নামের কাপড়কাঁচা সাবান। মনে হচ্ছে ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে আজকের ভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্নভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি ১৯৭৫ সালের সেই একই ঐতিহাসিক অবহেলা উপেক্ষার নাটকের পুনরাবৃত্তি করতে চায় কেউ কেউ। সেবার (১৯৭৫ সালে) তারা উপেক্ষাটা প্রদর্শন করছিল তাঁর লাশের প্রতি, প্রদর্শন করা হচ্ছে এবার ম্যুরালের প্রতি। রাজনীতিক বিবেচনায় বিষয়প্রপঞ্চটি ‘যেই কদু সেই লাউ’, আচরণগত কোনও তফাৎ নেই, তফাৎ কেবল বঙ্গবন্ধুর লাশ ও ম্যুরালের।
একটা বিষয় অবশ্য উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পরিবর্তে অন্য কয়েকজনের (প্রতিবেদনে তাদের নাম উল্লেখ নেই) ম্যুরাল প্রতিষ্ঠা। তা হতেই পারে। কিন্তু এই ‘হতে পারা’র আগে খতিয়ে দেখতে হবে তিনি বা তাঁরা বঙ্গবন্ধুর চেয়ে যোগ্য কি না, দেশ-জাতির জন্য তার বা তাদের অবদান কী। এই দেশে একদা মেজর জিয়াকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে টেনেটুনে বড় করে তোলার রাজনীতি করা হয়েছে এবং মিথ্যে করে বলতে হয়েছিল : বঙ্গবন্ধু নয় জিয়াই স্বাধীনতার ঘোষক। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ব্যতিরেকে অন্য কারও ম্যুরাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এবার কোন রাজনীতি নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীলরা সেটা একটা দেখার বিষয় বটে। তবে আমরা মনে করি, বাংলাদেশ এমন একটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নাম প্রস্তাবের পর অন্য কোনও এমন বিশেষজনের নাম, তিনি যদি রাজনীতিক হন, প্রস্তাব করা ধৃষ্টতা ভিন্ন অন্য কীছু হতে পারে না। রাজনীতিক বিবেচনায় বঙ্গবন্ধুর চেয়ে উচ্চতায় আপাতত কাউকে বসানোর প্রস্তাব উঠতেই পারে না, বরং বলা ভালো, সেটা হবে চেতনাগতভাবে চরম অবিমৃষ্যকারিতা। এই অবিমৃষ্যকারিতাকে প্রতিরোধ করতেই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী