,

Notice :

ভোটের হাওয়া : সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন তৃণমূলে

বিশেষ প্রতিনিধি ::
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র মাস তিনেক বাকি। তবে নির্বাচনের মাস খানেক আগেই প্রার্থীতা চূড়ান্ত করে গ্রিন সিগন্যাল দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। সুনামগঞ্জের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দুই মাস হাতে সময় রেখেই ছুটছেন তৃণমূলে। আ.লীগ, জাপা’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রে আর নির্বাচনী মাঠে চষে বেড়ালেও বিএনপি’র নেতারা রাজপথে সময় পার করছেন।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা আ.লীগ নেতা রেজাউল করিম শামীম, সিলেট জেলা আ.লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. রনজিত সরকার, শামীমা শাহরিয়ার নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি তারা তৃণমূলকে নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করছেন। এই আসনে বিএনপি’র সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসনের পাশাপাশি তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল ও সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক শক্তিশালী প্রার্থী। তিন প্রার্থীরই তৃণমূলে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ছাড়াও তার ছেলে সৌমেন সেনগুপ্ত নির্বাচনী মাঠে আছেন। জয়া সেনকে ঠেকাতে আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন সিলেট মহানগর আ.লীগ নেতা অ্যাড. শামছুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার অনুকূল তালুকদার ডালটন, জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. অবনী মোহন দাস, যুক্তরাজ্য আ.লীগ নেতা সামছুল হক চৌধুরী। তারা সবাই তৃণমূলকে নিজেদের পক্ষে টানার জন্য প্রতি সপ্তাহেই সভা-সমাবেশ করছেন।
এই আসনে বিএনপি’র একক প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন চৌধুরী। একক প্রার্থী হিসেবে তার মাঠও অনেকটা গুছালো।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আ.লীগের প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বর্তমান সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন শেষবারের মতো নির্বাচন করার। কিন্তু তাঁকে ছাড় দিতে নারাজ সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ তনয় আজিজুস সামাদ ডন। জগন্নাথপুরের বাসিন্দা ডন তার নিজ উপজেলার ভোটকে পুঁজি করে নির্বাচনী মাঠে অনেকটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এমএ মান্নানকে। এই আসনে প্রার্থীতার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম, যুক্তরাজ্য আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও জেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল কাসেম। ফারুক ও আবুল কাসেম যুক্তরাজ্য প্রবাসী হলেও বর্তমানে দেশেই তারা বেশি সময় পার করছেন প্রচার-প্রচারণায়।
বিএনপিতে এই আসনে প্রার্থীতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনে কর্নেল (অব.) আলী আহমদ দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে আছেন। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদও নির্বাচন করতে চান আসনটিতে। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদজা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত কয়ছর এম আহমদ সুনামগঞ্জ বিএনপি’র অন্যতম দিকনির্দেশক হিসেবে বিবেচনা করেন নেতাকর্মীরা। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমদও এবার নির্বাচন করতে আগ্রহী। সম্ভাব্য প্রার্থীরা সবাই রাজপথে আন্দোলন ও তৃণমূলের সাথেই বেশি সময় ব্যয় করছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে ক্ষমতাসীন আ.লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আ.লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, পিপি খায়রুল কবির রুমেন, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ নির্বাচন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী আসনের দুই উপজেলার গ্রাম-হাট-বাজারে গণসংযোগ করছেন। নেতারা আসনটির ব্যাপারে একে অন্যকে ছাড় দিতে নারাজ। পৃথকভাবেই তারা তৃণমূলের কাছে ছুটছেন।
জেলার মধ্যে সদর আসনটিতে বরাবরই বিএনপি অনেকটা শক্তিশালী। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা সাবেক হুইপ অ্যাড. ফজলুল হক আছপিয়া এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। রাজপথের আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় রয়েছেন। এই আসনে নির্বাচনের জন্য মাঠে আছেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নূরুল ও জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর মো. শওকত। মনোনয়ন প্রত্যাশী এই নেতাদের শক্তিশালী বলয় আছে।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা জাপার আহ্বায়ক অ্যাড. পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এসে তিনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ করছেন। গত চার বছরের উন্নয়নের ফিরিস্তি তিনি তৃণমূলের কাছে তোলে ধরছেন। তার সঙ্গে এই আসনে লড়তে মাঠে নেমেছেন সাবেক মন্ত্রী মরহুম ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও সাবেক এমপি বেগম মমতাজ ইকবাল-এর পুত্র ইনান ইসমাম চৌধুরী প্রিয়। পিতা-মাতার জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আ.লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক তৃণমূলের নেতা হিসেবেই বেশি পরিচিত। তার মিছিল, সমাবেশ অধিকাংশ গ্রামে-গঞ্জে হয়ে থাকে। এবারও তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। শক্তিশালী এই প্রার্থীর সঙ্গে জেলা আ.লীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরীও লড়তে চান। তিনিও তৃণমূলে অবস্থান শক্তিশালী করেছেন।
এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন এবারো শক্তিশালী প্রার্থী। তৃণমূলেও তিনি অধিক জনপ্রিয়। তার সঙ্গে মনোনয়ন যুদ্ধে আছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী ও শিল্পপতি সৈয়দ মনসিফ আলী।
এই আসনে এবার জাপা’র মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. আব্দুল মজিদ, আ ন ম ওহিদ কনা মিয়া ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলম। তারা প্রতিদিনই নির্বাচনী মাঠে-ময়দানে কাজ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী