মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৪১ অপরাহ্ন

Notice :
«» লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহক «» শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উদযাপিত «» মঙ্গলবার সারাদিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন : নূরুল হুদা মুকুট «» পরিকল্পনামন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় জেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক কর্মচারী সমিতির দোয়া মাহফিল «» মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মানববন্ধন «» বড়ছড়া শুল্কস্টেশন দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু : শ্রমিকদের চোখে আশার আলো «» গোখাদ্য সংকট : খড়ের চড়া দামে কৃষকরা বিপাকে «» দোয়ারাবাজার টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ : ভিত্তিপ্রস্তরেই আটকে আছে নির্মাণকাজ «» উন্নয়ন চাইলে নৌকায় ভোট দিন : নূরুল হুদা মুকুট «» এলডিপি থেকে অ্যাড. তুষারের পদত্যাগ : ‘নাগরিক দায়িত্বে’র কার্যক্রম শুরু

সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ জেলার লাখো কৃষকের একমাত্র বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় সর্বহারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পুনর্বাসন ও জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জোরালো হচ্ছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ফসলহারা কৃষকের প্রতি সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন, প্রতিবাদ-সংহতি সমাবেশ, সাংবাদিক সম্মেলনসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ফোরামে দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ। তাঁরা ফসলহানির ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও পিআইসি’র শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।
বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বৈশাখের প্রথম দিনের মধ্যেই জেলার অধিকাংশ হাওরের ফসল অতিবর্ষণে, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত অসময়ের নড়বড়ে বাঁধ ভেঙে, শিলাবৃষ্টিতে এক তৃতীয়াংশ বোরো ফসল নষ্ট হয়ে যায়। পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয় বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা। এ পর্যন্ত জেলার বোরো ভান্ডার খ্যাত দেখার হাওর, তাহিরপুরের বোরো ভান্ডারখ্যাত শনির হাওর, ঝাউয়ার হাওর, খরচার হাওর, বরাম হাওর, চাপতির হাওরসহ ছোট ছোট আরো ৩০টির মতো হাওরের অর্ধপাকা বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের মতে শিলা, অতিবর্ষণ ও বাঁধ ভেঙে তিনভাগের দুই ভাগ ফসল ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। সদর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার এবং ছাতক উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত দেখার হাওরের প্রায় ২শ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাহিরপুরের ১৫ হাওরের প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের মতে এ পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। যে হাওরগুলো অবশিষ্ট আছে সেগুলোর অর্ধেকের বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হবে বলে তারা জানান। এদিকে ফসলহারা কৃষকের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্থানীয়ভাবে এবং জাতীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচিতে ফসলরক্ষায় পরিবেশ সম্মত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণসহ বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-প্রতিবন্ধকতাগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি সংহতি জানিয়ে পুনর্বাসনের দাবিতে সুনামগঞ্জের সামাজিক সংগঠন রানার এইড, হাউস এবং সুজন জেলা শহরের আলফাত স্কয়ারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। পরে একই দাবিতে তাহিরপুরে, বিশ্বম্ভরপুরে এবং দিরাইয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়। এসব সমাবেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঠিকাদার, পিআইসি’র লোকদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে দেখানোয় কর্মসূচিতে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষতির প্রকৃত তথ্য গোপন রাখায় কৃষকরা সহযোগিতা পাচ্ছেনা বলে বক্তারা জানান।
গত ২২ এপ্রিল সিলেট শহরে বসবাসরত সুনামগঞ্জের সচেতন লোকজন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজসহ স্থানীয় সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পুনবার্সন দাবি করে ফসলহানির ঘটনায় দোষীদের শাস্তি দাবি জানান।
গত ২৩ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সচেতন সুনামগঞ্জবাসীর ব্যানারে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়। এই মানবন্ধনে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে কৃষকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার দাবি জানানো হয়। বক্তারা কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ওই মানববন্ধনে চ্যানেল কিডসের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির তুহিন সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় বসবাসরত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ এপ্রিল তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল তাহিরপুর উপজেলার ১৫ হাওরের ফসলহানির ঘটনায় তাহিরপুরকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মীসহ তাহিরপুর ও মধ্যনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পেশাজীবী সংগঠনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ঋণ মওকুফ, এনজিও ঋণ মওকুফের দাবি জানিয়ে বর্ষা মওসুমে ভাসানপানিতে অবাধে মাছ ধরার দাবি জানানো হয়।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবি জানান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃন্দ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিশেষ সহযোগিতার দাবি জানান।
ম্যাজিক কিডসের চেয়ারম্যান ফজলুল কবির তুহিন বলেন, এবার আমাদের সুনামগঞ্জের কৃষক সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। তাদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন। আমরা ঢাকায় মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কৃষকরা সহায়তা না পেলে এবার উঠে দাঁড়াতে পারবেনা।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, নানা কারণে এবার সুনামগঞ্জের হাওরের একমাত্র বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিশেষ সহায়তার জন্য আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাব। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিশেষ সহায়তা পাওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া এই অঞ্চলের ফসলরক্ষার জন্য বিশেষ পরিকল্পনার মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বেড়ি বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভাটি বাংলার শস্যভান্ডার নামে খ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার কৃষকদের মধ্যে বইছে এখন শুধুই আহাজারি। ঘরে ফসল তোলার পূর্ব মুহূর্তে বাধ ভেঙে হাওরের পর হাওর পানিতে তলিয়ে গেছে। কয়েক হাজার হেক্টর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকদের চোখের সামনে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ফসল রক্ষা বাঁধের নামে সরকারী লক্ষ-লক্ষ টাকা আত্মসাত করে কৃষকদের পথে বসিয়েছে। এসব দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবী জানান তিনি। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণসহ পুনর্বাসনেরও দাবি জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী