সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সোনাখালী নদী বাঁচাতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ১০:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ১০:২৬:০৯ পূর্বাহ্ন
সোনাখালী নদী বাঁচাতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগর এলাকার ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী নদীর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একসময় যে নদী ছিল এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা, যাতায়াত ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আজ তা কচুরিপানার দখলে মৃতপ্রায়। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীটি এখন পরিণত হয়েছে মশা-মাছি, দুর্গন্ধ ও বিষধর সাপের অভয়ারণ্যে। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে, অথচ কার্যকর উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। নদী শুধু একটি জলধারা নয়; এটি একটি অঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ। সোনাখালী নদীকে ঘিরে একসময় গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের নানা কার্যক্রম। মাছ ধরা, নৌযান চলাচল, কৃষিকাজ ও শ্রমনির্ভর জীবিকার সঙ্গে নদীটির ছিল নিবিড় সম্পর্ক। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা, নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রমের অভাব, দখল এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নদীর স্থির ও দূষিত পানিতে মশার বিস্তার ঘটছে। এতে ডেঙ্গু ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি কচুরিপানার ভেতর আশ্রয় নিচ্ছে বিষধর সাপ ও ক্ষতিকর প্রাণী। শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ অমূলক নয়। এটি এখন শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার বিষয়েও পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অতীতে নিয়মিতভাবে নদী পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হতো। ফলে নদীটি সচল ছিল এবং জনগণও উপকৃত হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের উচিত দ্রুত বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা। আমরা মনে করি, সোনাখালী নদী রক্ষায় অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণ করে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নদী খনন ও পুনরুদ্ধারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তৃতীয়ত, নদী রক্ষায় স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতাও বাড়ানো জরুরি। সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। একটি নদী হারিয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি জলধারার মৃত্যু নয়, বরং একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবিকার ক্ষয়। তাই সোনাখালী নদীকে বাঁচানো এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে নদীটির প্রাণ ফিরিয়ে দিতে এবং স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স