সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ , ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগাম বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা : হাওরের পাকা ধান দ্রুত কর্তনের অনুরোধ বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি : ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী হাওরজুড়ে বজ্রপাত আতঙ্ক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে অতিষ্ঠ মানুষ হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস এসআই সুপ্রাংশু দে’র মৃত্যুতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসি’র শোক শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের নবনির্মিত মন্দির উদ্বোধন আজ শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন নোনাজলে ডুবে যাচ্ছে স্বপ্ন, ডুবে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ ৪ লক্ষাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি ২০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুর সংযোগ সড়ক ‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা
দ্রুত সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর দাবি

বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

  • আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:১৫:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:৫২:১৭ পূর্বাহ্ন
বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
মো. শাহজাহান মিয়া ::
বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে চলমান ঝড়-বৃষ্টি, জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ধান কাটার অতিরিক্ত ব্যয়ে উৎসবের আমেজে নেমে এসেছে উদ্বেগ। জেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু জমি বৈশাখের শুরুতেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। এতে আধাপাকা ও থোড় ধানের ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় অনেক স্থানে হারভেস্টার মেশিন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের কারণে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটতে হচ্ছে। অন্যদিকে আগে প্রতি কেদার (৩০ শতক) ২ হাজার টাকায় ধান কাটলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় হারভেস্টারের ভাড়া বেড়ে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে ডিজেল সংকটে অধিকাংশ হারভেস্টার বন্ধ ছিল। পরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় কৃষকের ব্যয় আরও বেড়েছে। সোমবার নলুয়ার হাওরে কথা হয় কৃষক রাশিদ উল্লাহ, আলীনুর ও চুনু মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, চোখের সামনে পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। মানুষ পেলে বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে, মেশিনে কাটলেও ভাড়া বেড়েছে। অথচ ধানের দাম নেই। এমন অবস্থা জানলে আবাদই করতাম না। কৃষকদের দাবি, বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৫০০ টাকা এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর কাঁচা ধান ৯০০ এবং শুকনো ধান ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও দাম কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জগন্নাথপুর বাজারের একতা মিলের মালিক আমির আলী বলেন, আমরা কাঁচা ধান কিনি না। ভালো শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। নাঈম ট্রেডার্সের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, একদিন তেল সংকট থাকলেও পরে সরবরাহ আসে। তবে নতুন বর্ধিত মূল্যে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এবার জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে কিছু হারভেস্টার বন্ধ ছিল, তবে ৯ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষক কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষণ পাল জানান, সরকারিভাবে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি এবং সরকারি ক্রয়মূল্যও নির্ধারণ করা হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স