মো. শাহজাহান মিয়া ::
বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে চলমান ঝড়-বৃষ্টি, জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ধান কাটার অতিরিক্ত ব্যয়ে উৎসবের আমেজে নেমে এসেছে উদ্বেগ। জেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু জমি বৈশাখের শুরুতেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। এতে আধাপাকা ও থোড় ধানের ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় অনেক স্থানে হারভেস্টার মেশিন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের কারণে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটতে হচ্ছে। অন্যদিকে আগে প্রতি কেদার (৩০ শতক) ২ হাজার টাকায় ধান কাটলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় হারভেস্টারের ভাড়া বেড়ে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে ডিজেল সংকটে অধিকাংশ হারভেস্টার বন্ধ ছিল। পরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় কৃষকের ব্যয় আরও বেড়েছে। সোমবার নলুয়ার হাওরে কথা হয় কৃষক রাশিদ উল্লাহ, আলীনুর ও চুনু মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, চোখের সামনে পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। মানুষ পেলে বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে, মেশিনে কাটলেও ভাড়া বেড়েছে। অথচ ধানের দাম নেই। এমন অবস্থা জানলে আবাদই করতাম না। কৃষকদের দাবি, বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৫০০ টাকা এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর কাঁচা ধান ৯০০ এবং শুকনো ধান ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও দাম কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জগন্নাথপুর বাজারের একতা মিলের মালিক আমির আলী বলেন, আমরা কাঁচা ধান কিনি না। ভালো শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। নাঈম ট্রেডার্সের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, একদিন তেল সংকট থাকলেও পরে সরবরাহ আসে। তবে নতুন বর্ধিত মূল্যে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এবার জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে কিছু হারভেস্টার বন্ধ ছিল, তবে ৯ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষক কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষণ পাল জানান, সরকারিভাবে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি এবং সরকারি ক্রয়মূল্যও নির্ধারণ করা হয়নি।
বিভিন্ন হাওরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। হাওরজুড়ে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে চলমান ঝড়-বৃষ্টি, জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ধান কাটার অতিরিক্ত ব্যয়ে উৎসবের আমেজে নেমে এসেছে উদ্বেগ। জেলার বিভিন্ন হাওরের নিচু জমি বৈশাখের শুরুতেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। এতে আধাপাকা ও থোড় ধানের ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় অনেক জমির পাকা ধানও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। জমিতে পানি থাকায় অনেক স্থানে হারভেস্টার মেশিন প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে শ্রমিকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কৃষকদের। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শ্রমিক সংকটের কারণে জনপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে ধান কাটতে হচ্ছে। অন্যদিকে আগে প্রতি কেদার (৩০ শতক) ২ হাজার টাকায় ধান কাটলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় হারভেস্টারের ভাড়া বেড়ে এখন ২ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে ডিজেল সংকটে অধিকাংশ হারভেস্টার বন্ধ ছিল। পরে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় কৃষকের ব্যয় আরও বেড়েছে। সোমবার নলুয়ার হাওরে কথা হয় কৃষক রাশিদ উল্লাহ, আলীনুর ও চুনু মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, চোখের সামনে পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে, কিছুই করতে পারছি না। মানুষ পেলে বেশি মজুরি দিতে হচ্ছে, মেশিনে কাটলেও ভাড়া বেড়েছে। অথচ ধানের দাম নেই। এমন অবস্থা জানলে আবাদই করতাম না। কৃষকদের দাবি, বর্তমানে কাঁচা ধান প্রতি মণ ৫০০ টাকা এবং শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর কাঁচা ধান ৯০০ এবং শুকনো ধান ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও দাম কমে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জগন্নাথপুর বাজারের একতা মিলের মালিক আমির আলী বলেন, আমরা কাঁচা ধান কিনি না। ভালো শুকনো ধান সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা মণ দরে কেনা হচ্ছে। নাঈম ট্রেডার্সের মালিক তাজুল ইসলাম জানান, একদিন তেল সংকট থাকলেও পরে সরবরাহ আসে। তবে নতুন বর্ধিত মূল্যে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, এবার জগন্নাথপুরে ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটে কিছু হারভেস্টার বন্ধ ছিল, তবে ৯ হাজার লিটার ডিজেল সংগ্রহ করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলন ভালো হলেও কৃষক কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা শিবু ভূষণ পাল জানান, সরকারিভাবে এখনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি এবং সরকারি ক্রয়মূল্যও নির্ধারণ করা হয়নি।