সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দোয়ারাবাজারে নদীভাঙনে অস্তিত্ব হারাচ্ছে কবরস্থান তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা ভূমি অফিস শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা এসিল্যান্ডের দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প হারানো সরকারি অস্ত্রের তথ্য দিলে পুরস্কার দিবে এসআরবি শান্তিগঞ্জে মহাসড়কে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৯ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন ‎প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসবে ‘সুপার সেল কার বাজার’ বিশ্বম্ভরপুরে এসআরবি-৯ এর অভিযানে ৩৩ বোতল বিদেশী মদসহ গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে জমজমাট নৌকা বাইচ সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কারে কচ্ছপের গতি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি' দেশে ৭ মাসে ধর্ষণের শিকার ৬৪১ নারী-শিশু : আসক ‎জামালগঞ্জে বিষাক্ত রং ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ : সিলেটে রাষ্ট্রপতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে : ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস টাঙ্গুয়ার হাওরেও পাওয়া যাচ্ছে রাক্ষুসে সাকার মাছ তাহিরপুরে বন্যা পূর্ব প্রস্তুতি ও আগাম সাড়াদান মহড়া অনুষ্ঠিত ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল জামালগঞ্জে চাচাতো ভাইয়ের আঘাতে ভাইয়ের মৃত্যু

হাসননগরে দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ড

  • আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন
হাসননগরে দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ড
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগরের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত কেজাউড়া আবাসিক এলাকায় এক দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা প্রায় ১১টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অখিল বিশ্বাস, অজিত বিশ্বাস ও অনিল বিশ্বাস গত প্রায় ২০ বছর আগে যৌথভাবে এই ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের ঘর নির্মাণ করেন। ঘর প্রায় নতুনের মতোই ছিল। প্রতিটি ঘরে রান্নার জন্য তিনটি কাঠের চুলা থাকলেও ঘটনার দিন সকাল থেকে কোনো রান্নাবান্না হয়নি। কারণ ওই দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাদশী তিথি ছিল। স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েকদিন আগেই তিনটি ঘরের বিদ্যুৎ লাইনের চেকআপসহ একটি ঘরে নতুন করে ওয়ারিং করা হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকেও আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই বলে তাদের ধারণা। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে যান, কেউ গরু নিয়ে মাঠে, কেউ সন্তানদের নিয়ে স্কুলে এবং পুরুষ সদস্যরা দিনমজুরির কাজে যান।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে মনোমালিন্য ছিল। এ বিষয়ে ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে কথা কাটাকাটিও হয়। জানা গেছে, অখিল বিশ্বাসদের মোট রেকর্ডীয় জমির পরিমাণ ছিল ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বিক্রি করা হয়। অবশিষ্ট ১৮ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

ওইদিন অগ্নিকান্ডে তিনটি টিভি, তিনটি শোকেস, তিনটি আলমারি, সিলিং ফ্যান, পালং, আলনা, লেপ-তোষক, কাপড়-চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল, খাঁচায় থাকা হাঁস-মুরগি, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা, ঘরের বেড়া, চালের টিন ও কাঠ, সাতজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বইপত্র ও স্কুল ড্রেস, ভোটার আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরের বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, আগুন লাগার প্রায় ১০ দিন আগে আমি নিজে অজিত বিশ্বাসের ঘরে ওয়ারিং করেছি। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কীভাবে এত দ্রুত সব পুড়ে গেল, বুঝে উঠতে পারছি না।
স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্ব ইসমাইল হোসেন বলেন, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন অগ্নিকা-ে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার। আপ্তাবনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির খান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। ফায়ার সার্ভিস অনেক চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনটি ঘর এমনভাবে পুড়েছে যে কিছুই সরানো যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
পূর্ব সুলতানপুরের বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অজিত বিশ্বাস বলেন, ঘর পুড়ে যাওয়ায় আমরা এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কতদিন থাকতে পারব জানি না। বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। তিনি আরও জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগে জমির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
অখিল বিশ্বাস বলেন, সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, তিন পরিবারের সাতজন শিশুর বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস পুড়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন, হাছননগর এলাকার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প

দুই বছর ধরে ঝুলে আছে ১৩ নদী পুনঃখনন প্রকল্প