হাসননগরে দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ড

আপলোড সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০২-২০২৬ ০৯:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগরের ৩নং ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত কেজাউড়া আবাসিক এলাকায় এক দিনমজুরের বসতভিটায় ‘রহস্যজনক’ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বেলা প্রায় ১১টার দিকে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, অখিল বিশ্বাস, অজিত বিশ্বাস ও অনিল বিশ্বাস গত প্রায় ২০ বছর আগে যৌথভাবে এই ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের ঘর নির্মাণ করেন। ঘর প্রায় নতুনের মতোই ছিল। প্রতিটি ঘরে রান্নার জন্য তিনটি কাঠের চুলা থাকলেও ঘটনার দিন সকাল থেকে কোনো রান্নাবান্না হয়নি। কারণ ওই দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একাদশী তিথি ছিল। স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েকদিন আগেই তিনটি ঘরের বিদ্যুৎ লাইনের চেকআপসহ একটি ঘরে নতুন করে ওয়ারিং করা হয়েছিল। ফলে বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকেও আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই বলে তাদের ধারণা। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে যান, কেউ গরু নিয়ে মাঠে, কেউ সন্তানদের নিয়ে স্কুলে এবং পুরুষ সদস্যরা দিনমজুরির কাজে যান।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমির সীমানা নিয়ে মনোমালিন্য ছিল। এ বিষয়ে ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে কথা কাটাকাটিও হয়। জানা গেছে, অখিল বিশ্বাসদের মোট রেকর্ডীয় জমির পরিমাণ ছিল ২৩ শতাংশ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ বিক্রি করা হয়। অবশিষ্ট ১৮ শতাংশ জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

ওইদিন অগ্নিকান্ডে তিনটি টিভি, তিনটি শোকেস, তিনটি আলমারি, সিলিং ফ্যান, পালং, আলনা, লেপ-তোষক, কাপড়-চোপড়, হাঁড়ি-পাতিল, খাঁচায় থাকা হাঁস-মুরগি, প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ এক লাখ টাকা, ঘরের বেড়া, চালের টিন ও কাঠ, সাতজন প্রাথমিক শিক্ষার্থীর বইপত্র ও স্কুল ড্রেস, ভোটার আইডি কার্ডসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘরের বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করা সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, আগুন লাগার প্রায় ১০ দিন আগে আমি নিজে অজিত বিশ্বাসের ঘরে ওয়ারিং করেছি। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কীভাবে এত দ্রুত সব পুড়ে গেল, বুঝে উঠতে পারছি না।
স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিত্ব ইসমাইল হোসেন বলেন, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এমন অগ্নিকা-ে আমরা বিস্মিত। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার। আপ্তাবনগরের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকির খান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। ফায়ার সার্ভিস অনেক চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। স্থানীয় বাসিন্দা জালাল মিয়া বলেন, আমাদের এলাকায় এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। তিনটি ঘর এমনভাবে পুড়েছে যে কিছুই সরানো যায়নি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
পূর্ব সুলতানপুরের বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, এই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অজিত বিশ্বাস বলেন, ঘর পুড়ে যাওয়ায় আমরা এখন অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। কতদিন থাকতে পারব জানি না। বসতভিটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। তিনি আরও জানান, ঘটনার কয়েক দিন আগে জমির সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল।
অখিল বিশ্বাস বলেন, সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, তিন পরিবারের সাতজন শিশুর বই-খাতা ও স্কুল ড্রেস পুড়ে যাওয়ায় তাদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা চরম দুশ্চিন্তায় আছি।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ বলেন, হাছননগর এলাকার অগ্নিকান্ডের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com