সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ‎জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত সাচনা বাজারের বন্ধ হাসপাতাল চালুতে প্রশাসনিক সুপারিশ জে-স্কয়ারের অনন্য আয়োজন ‘মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত যাদুকাটা বালু মহাল ১০ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক পাগল হাসানের গান রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি বজ্রপাত কেড়ে নিল ৫ প্রাণ মন্ত্রী সাহেব প্রশংসা একটু কম, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বললেন প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরই বিএনপির কাউন্সিল, আসছে বড় পরিবর্তন আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ : জামায়াত আমির হবিপুর-পুরান সিংচাপইড় সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ ঘন ঘন লোডশেডিং, ভোগান্তিতে মানুষ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুত রয়েছে : প্রতিমন্ত্রী শহীদ হাফিজ হত্যার বিচার অবশ্যই হবে : এমপি কয়ছর আহমেদ এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ

সহিংসতা বন্ধে কঠোর হোন

  • আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৫ ১২:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৫ ১২:২৬:০২ পূর্বাহ্ন
সহিংসতা বন্ধে কঠোর হোন
মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন আমাদের সামনে যে চিত্র হাজির করেছে, তা ভীতিকর এবং একই সঙ্গে গভীর উদ্বেগের। আগস্ট মাসে গণপিটুনিতে ২৩ জন নিহত হয়েছেন, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছে মানুষ। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সংঘটিত সহিংসতার ঘটনা ভয়াবহ আকারে বেড়ে ২২৩-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮৪ জন নারী ও কন্যাশিশুর প্রাণহানি আমাদের সামাজিক ও মানবিক নিরাপত্তার ভাঙাচোরা কাঠামোকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। গণপিটুনি আজ যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি কিংবা সামান্য সন্দেহের ভিত্তিতেও মানুষ বিচার না চেয়ে আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। একইভাবে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানি গণতান্ত্রিক সমাজে মুক্ত সংবাদপত্রের প্রতি এক সরাসরি আঘাত। এছাড়া, নারী ও কন্যাশিশুর ওপর চলমান সহিংসতা আমাদের সামাজিক চিত্রকে ভয়ঙ্করভাবে কলঙ্কিত করছে। ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, আত্মহত্যা, অপহরণ - প্রতিটি ঘটনার পেছনে রয়েছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি, বিচারহীনতার প্রবণতা এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। যখন মাসে গড়ে শতাধিক নারী ও শিশু নৃশংসতার শিকার হয়, তখন এটি আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি জাতীয় সংকট। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, অপরাধীকে দ্রুত ও দৃশ্যমান শাস্তি নিশ্চিত করা। তবে কেবল আইনের শাসনই যথেষ্ট নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পরিম-লে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সমান সম্মান ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা না হলে সহিংসতা কমবে না। আমাদের প্রয়োজন একটি সর্বস্তরের সামাজিক আন্দোলন। গণপিটুনি ও সহিংসতার সংস্কৃতি ভাঙতে হলে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জাগাতে হবে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সমাজ - সবার সম্মিলিত দায় স্বীকার না করলে এ মৃত্যুমিছিল থামানো যাবে না। আমরা মনে করি, এখনই জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ, সামাজিক প্রতিরোধ ও মানসিকতার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতিমাসেই নতুন নতুন পরিসংখ্যান কেবল আমাদের অসাড় করে দেবে, আর নৃশংসতার শিকার হবে নিরীহ মানুষ - যার দায় এড়ানোর সুযোগ রাষ্ট্র বা সমাজের কারও নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স