সুনামগঞ্জ , শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ অনলাইন জুয়ার ‘হটস্পট’ জাউয়াবাজার প্রতিপক্ষের সুলফির আঘাতে নিহত ১ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ তাহিরপুরে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ৬ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি রিভলবার জব্দ ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই প্রাথমিকে এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শৃঙ্খলা ফিরছে না টাঙ্গুয়ার হাওরে গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে : জেলা প্রশাসক

একটি সেতু শুধু কাঠামো নয়, জীবন ও উন্নয়নের সেতুবন্ধন

  • আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৫ ০৩:১০:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৫ ০৩:১০:৪৬ পূর্বাহ্ন
একটি সেতু শুধু কাঠামো নয়, জীবন ও উন্নয়নের সেতুবন্ধন
দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বড়কাটা গ্রামের বাস্তবতা আমাদের সুনামগঞ্জের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অবহেলিত যোগাযোগ সমস্যার প্রতিচ্ছবি। তিন হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস, দুটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের প্রতিদিনের চলাচলের একমাত্র ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে দাঁড়িয়ে এমন দৃশ্য শুধু লজ্জাজনকই নয়, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কাক্সিক্ষত ভারসাম্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, রোগী, শিশু, বৃদ্ধ - সবাইকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। বর্ষায় এই সাঁকো ভয়াবহ রূপ নেয়। ভেঙে পড়া, ¯্রােতে ভেসে যাওয়া, পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিনিয়ত থেকে যায়। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্য জীবনযাত্রা চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ধীরগতির শিকার। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এসে আমরা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ‘উন্নয়নের জোয়ার’ বইছে বলে দাবি করি। সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও দোয়ারাবাজারের বড়কাটা ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষ এখনো সেতুর আশায় প্রহর গুনছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষায়- “নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি, পরে বিস্মৃতি।” এটা মনে রাখতে হবে, একটি সেতু শুধু দুটি পাড় নয়, দুইটি জীবন, দুইটি সুযোগ, দুইটি সম্ভাবনাকে যুক্ত করে। একটি সেতু মানে একটি শিশুর নিরাপদে স্কুলে যাওয়া, একজন রোগীর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো, একজন কৃষকের পণ্যের সহজ বাজারজাতকরণ। একটি সেতু মানে একটি অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের দ্বার উন্মোচন। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেও বারবার বড়কাটা ও আশপাশের গ্রামগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে কেন? স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই- এই আশ্বাস আর যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতারণা না হয়। এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে বড়কাটা ও আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোগুলোর পরিবর্তে টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু বড়কাটাই নয়, সুনামগঞ্জ জেলার বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। একটি জাতি তখনই উন্নত বলে বিবেচিত হয়, যখন তার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা পায়। বড়কাটার সেতু শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, এটি স্থানীয় মানুষের শিক্ষা-চিকিৎসা-অর্থনীতির সংযোগরেখা। আজই যদি এর বাস্তবায়ন না হয়, তবে উন্নয়নের এই কল্পিত স্রোত শুধু শহরের ইট-কাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে, গ্রামের হাওর-পাড়ার জীবন ছুঁতে পারবে না। আমরা চাই- এই অবহেলার অবসান হোক। প্রতিশ্রুতির অবসান হোক। বড়কাটায় হোক একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন। একটি পাকা সেতু দিয়ে ভরসা ফিরে আসুক মানুষের জীবনে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স