সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল - প্রয়োজন জবাবদিহিতা ও সংস্কার

  • আপলোড সময় : ২৮-০৫-২০২৫ ১২:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৫-২০২৫ ১২:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন
দূর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল - প্রয়োজন জবাবদিহিতা ও সংস্কার
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সদ্য পরিচালিত অভিযানটি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চরম দুরবস্থা ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র উন্মোচন করেছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা বিদ্যমান, তা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। দুদকের অভিযানে উঠে এসেছে, কর্মকর্তাদের নিয়মিত অনুপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা, ওষুধ বিতরণে চরম গড়মিল, নি¤œমানের খাবার সরবরাহ এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। সবচেয়ে ভয়াবহ যে চিত্রটি প্রকাশ পেয়েছে তা হলো- সরকারি ২-৩ কোটি টাকার ওষুধের ক্রয় সংক্রান্ত রেজিস্ট্রারের গায়েব হয়ে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশে তা তসরুপের প্রমাণ। যেখানে সরকারি অর্থে বরাদ্দকৃত ওষুধ রোগীদের জন্য সরবরাহ হওয়ার কথা, সেখানে ওষুধ গুদামে থেকেও রেজিস্ট্রারে নেই, এবং রোগীরা তা পাচ্ছেন না- এটি শুধুমাত্র চরম অবহেলা নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত দুর্নীতির অংশ। তদুপরি, হাসপাতালের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থাও কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরা বিলম্বে এসে সময়ের আগেই দায়িত্ব ত্যাগ করছেন, অথচ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ। এমন পরিস্থিতিতে দুদকের অভিযান প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। কিন্তু কেবল অভিযান চালিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করলেই চলবে না, বাস্তবিক জবাবদিহিতা ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ওষুধ ক্রয়, বিতরণ ও ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার অভাব রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সমান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম প্রশাসনিক সচেতনতা ও জবাবদিহিতা না থাকলে সরকারি অর্থ ও জনস্বাস্থ্য উভয়ই হুমকির মুখে পড়বে। আমরা চাই, দুদকের এমন অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালু থাকুক এবং তা যেন প্রতিকারমুখী ফল বয়ে আনে। হাসপাতাল শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, এটি মানুষের জীবন বাঁচানোর আশ্রয়। সেই আশ্রয়ে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা কোনোভাবেই সহ্যযোগ্য নয়। সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যখাতকে বাঁচাতে হলে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুদকের প্রতিবেদন যেন আলমারির ফাইলে বন্দি না থেকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিত করে, সেই প্রত্যাশাই রইল।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স