সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক
সংস্কার প্রয়োজন ৩৬টির

হাওরের পানি নিষ্কাশনের ১২ রেগুলেটর অকেজো

  • আপলোড সময় : ০৪-০২-২০২৫ ১২:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৪-০২-২০২৫ ১২:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন
হাওরের পানি নিষ্কাশনের ১২ রেগুলেটর অকেজো
শামস শামীম ::
বোরো ফসল, মিঠাপানির মাছ ও জলজ জীববৈচিত্রের উপকারে পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম রেগুলেটর। হাওরে বিভিন্ন সময়ে ৫৭টি রেগুলেটর নির্মিত হয়েছে। পানির চাপের উপর ভিত্তি করে ১-৬ ভেন্ট পর্যন্ত রেগুলেটরগুলো নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে ৫৭টির মধ্যে ১২টাই অচল। যা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশন বন্ধ আছে। এর মধ্যে ৩৬টি সচল বলা হলেও সেগুলোও মেরামত বা সংস্কার করতে হবে। হাওরের পানি নিষ্কাশনের প্রধান রেগুলেটরগুলো অকার্যকর থাকায় বোরো মওসুমে পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির ঝুঁকি থাকে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়াও বর্ষা মওসুমে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় মৎস্য সম্পদেরও ক্ষতি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকরা রেগুলেটরগুলোর পানি নিষ্কাশনের পথ প্রশস্থসহ যুগোপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওর বিভাগ-১) এর আওতায় মোট ৩৩টি রেগুলেটর রয়েছে। এর মধ্যে এই বিভাগের সম্পূর্ণ অচল আছে ৯টা। ২৩টা সচল আছে বলা হলেও এগুলোসহ ৩১টার সুফল পেতে হলে মেরামত করতে হবে। তাহিরপুরের বগিয়ানী-১ আহাম্মকখালী স্লুইস গেট, বিশ্বম্ভরপুরের পাইপ স্লুইস গেট, কৃষ্ণতলা পাইপ স্লুইসগেট, জামালগঞ্জের রাইঙ্গা ও বুরিডঙ্গা রেগুলেটর, ডালিয়া রেগুলেটর, বেহেলী রেগুলেটর ও ধর্মপাশার ধানকুনিয়া রেগুলেটর দীর্ঘদিন ধরে অচল আছে। একইভাবে পওর বিভাগ-২ এর অধীনে রেগুলেটর আছে ২৪টি। এর মধ্যে সম্পূর্ণ অচল আছে ৩টি। ৬টি অচল হওয়ার পথে। সচল ১৩টির মধ্যে ৬টিই মেরামত বা সংস্কার করতে হবে। এই বিভাগের নলুয়ার হাওরের তিনটি রেগুলেটর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মিত রেগুলেটরগুলোরই এই অবস্থা নয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিএডিসি নির্মিত বিভিন্ন হাওরের অধিকাংশ রেগুলেটরই অকেজো অবস্থায় আছে। কৃষকদের কোনও কাজে লাগছেনা এগুলো। সংস্কারেরও উদ্যোগ নেই। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে হাওরের গুরুত্বপূর্ণ রেগুলেটরগুলো অচল থাকায় বোরো মওসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যায় আছেন হাওরের কৃষকরা। বিশেষ করে অতিবৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার সময় চারদিকে বাধ দেয়া থাকায় হাওরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছেনা। এতে নষ্ট হচ্ছে ফসল। এছাড়াও বর্ষায় মাছের চলাচলও বিঘিœত হচ্ছে একই কারণে। এতে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি বাড়ছে বলে জানান কৃষকরা। জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওরের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমাদের হাওরটি জেলার অন্যতম বোরো ভা-ার। এই হাওরের তিনটা রেগুলেটর দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এগুলো পানি নিষ্কাশন করতে পারছেনা। ফলে মওসুমে কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে। জলাবদ্ধতার সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে ফসলহানির আশঙ্কাও আছে। এগুলো দ্রুত সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ করা দরকার। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, স্লুইসগেট হাওরের পানি নিষ্কাশনের সবচেয়ে পুরনো ও কার্যকর উপকরণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এগুলোর কার্যকরে উন্নতি করা হয়নি। রেগুলেটরগুলোর পানি নিষ্কাশনের পথ প্রশস্থ করে নৌ চলাচলেও সুযোগ করে দিতে হবে। না হলে বর্ষায় রেগুলেটরের কাছে দেওয়া বাঁধ ভেঙে মানুষ নৌকার পথ তৈরি করে নেয়। যাতে রেগুলেটরের কার্যকারিতা থাকেনা। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, নতুন প্রকল্পে একাধিক পার্টের রেগুলেটর নির্মাণসহ সংস্কার ও মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কাজও শুরু হয়ে গেছে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু