বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:২০ পূর্বাহ্ন

Notice :

আমি সুনামগঞ্জকে ভালবাসি, সুনামগঞ্জের ক্ষতি করব না : পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান

বিশেষ প্রতিনিধি ::
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন লাভ করায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানকে দেওয়া সুধী সমাবেশে সংবর্ধনার জবাবে শনিবার বিকেলে হাউজিং মাঠের সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, আমাকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। অপপ্রচার করা হয়েছে। আমি আজ আর্জি নিয়ে আপনাদের কাছে এসে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছি। তিনি উপস্থিত হাজার হাজার জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমি কোন জিনিসটা সুনামগঞ্জ শহর থেকে কেটে শান্তিগঞ্জে নিয়ে গেছি। আপনারা প্রমাণ দিতে পারলে তওবা করে রাজনীতি ছেড়ে দেব। আমি আপনাদের কাছে বিচার চাই। মন্ত্রী বলেন, অহেতুক আমাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। আমি সুনামগঞ্জকে ভালোবাসি, ভালোবাসি সারাদেশকে।
মন্ত্রী বলেন, আপনারা বিচার করুন, কেন আমার উপর কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে। কিন্তু আমি সবসময় আমার ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে চেষ্টা করেছি সুনামগঞ্জের উন্নয়নে। আমার জেলাকে আমি ভালোবাসি। মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমি সুনামগঞ্জ শহর থেকে কিছুই ছিনিয়ে নেইনি। সুনামগঞ্জের উন্নয়নেও কোন ক্ষতি করিনি। শান্তিগঞ্জ নয় হাওরের মানুষের খেদমত করাই আমার জীবনের স্বপ্ন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার চল্লিশ বছরের পরিচয় তুলে ধরে মন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে পরিচালনা করেন। তিনি আমাকে মূল্যায়ন করেন। ৪০ বছর আগে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। তিনি জানেন আমি কি চাই, আমিও জানি তিনি আমার কাছে কি আশা করেন। তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
বিশ্ববিদ্যালয় স্থান প্রস্তাব প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এতো আলোচনা। এটা সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সরকারের অর্থ বাঁচাতে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম শান্তিগঞ্জের টান জমিতে স্থাপনের জন্য। কারণ ওই জমিতে ফসল হয় না। মানুষের ঘরবাড়ির ক্ষতি হবে না। ভরাট করে সরকারের বিরাট অর্থ অপচয় হবে না। মন্ত্রী বলেন, যে কোন নাগরিকই প্রস্তাব করতে পারে। আমিও সেই নাগরিক হিসেবে শান্তিগঞ্জের পাশে খোলা জায়গায় প্রস্তাব করেছিলাম।
নিজের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, আমি রাজনীতির লোক নই। আমি উন্নয়নের লোক। আমার জীবনে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তার দল নিজ জেলার উন্নয়নে রাজনৈতিকভাবে বাধা দিয়েছে তার নজির নেই। কিন্তু আমার বেলায় সেটা হয়েছে। এটা কিভাবে করতে পারল শিক্ষামন্ত্রী অবগত হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের কোথাও আর এটা হয়নি। মন্ত্রী বলেন, আমার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যখন অপরাজনীতি ও অপপ্রচার করা হয় আমি তখন করোনা আক্রান্ত হয়ে মরণাপন্ন অবস্থায় ছিলাম। এই সময়ই বেছে নিয়ে আমাকে অপবাদ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রকারীদের মতো এ বিষয়ে কোন কোন ষড়যন্ত্র করি নাই। যদি করতাম তাহলে মেডিকেল কলেজ সদরে দিতাম না। কারণ এটার জন্য কোন আইন পাস করতে হয় না। আমি নিজেই এটা আমার বাড়িতে করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেয়েছি দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশাসহ সুনামগঞ্জের অবহেলিত মানুষ যোগাযোগের এই সুন্দর স্থানটির সুবিধা নিতে।
টেক্সটাইল কলেজ শান্তিগঞ্জ নিয়ে গেছি যারা এসব বলে তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, আমার দলের নেতা ও মন্ত্রী মির্জা আজম যখন মন্ত্রী তখন তিনি আমার কাছে আসেন। বলেন, ২০টি টেক্সটাইল কলেজ হবে। একটি আপনার উপজেলায় দিতে চাই। তিনিই এই কলেজটি আমার উপজেলায় দিয়েছিলেন। দক্ষিণ সুনামগঞ্জের যোগাযোগ অবকাঠামোগত সুবিধার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এক সময় কিছুই ছিল না। রাস্তার পাশে এমন একটি উপজেলা জেলার কোথাও নাই। তাই আমি মন্ত্রী না হলেও সরকার এখানে উন্নয়ন করতো। এখানে যা হচ্ছে এমএ মান্নান নয়, সরকার উন্নয়ন করছে।
মন্ত্রী সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাকে সন্দেহ করবেন না। নিজেদের মন পরিষ্কার করুন। আমি আপনাদের বাড়া ভাতে ছাই দেইনি। সুনামগঞ্জের উন্নয়নে আমার আরও বড় পরিকল্পনা আছে। ৭-৮মাস পরেই দুই ঘণ্টা কম সময় অতিবাহিত করে রাণীগঞ্জ সেতু পেরিয়ে আমরা ঢাকা যাব। মন্ত্রী আরও বলেন, সুনামগঞ্জের উন্নয়ন দেখে সিলেটিরা হিংসে করার কথা ছিল। কারণ তাদের অনেকেই আমাদেরকে ভাইট্যল্যা হিসেবে ট্রিট করে। কিন্তু তারা সেটা করেনি। করেছে জেলার কিছু মানুষ। মন্ত্রী বলেন, আমি জীবনে সুনামগঞ্জের কোন ক্ষতি করব না। আমি পুরো উদ্যম নিয়ে কাজ করব। যারা আমাকে কষ্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা আজ জবাব দিয়েছেন। আপনারা আমাকে সম্মান দিয়েছেন।
এছাড়াও মন্ত্রী পদ্মা সেতু বিষয়ে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা আমাদের লুণ্ঠন করে নিঃস্ব করেছিল। আমরা সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলকে শেখ হাসিনার কর্মী হয়ে বদলে দেওয়ার কাজ করছি। আমরা গরিব ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছি।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুটের সভাপতিত্বে এবং যুবলীগ নেতা সবুজ কান্তি দাস ও রনজিত চৌধুরী রাজনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফেসর পরিমল কান্তি দে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অবনী মোহন দাস, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম আহমদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল কালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আমজাদ, সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, ইসলামগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাজিনুর রহমান, গৌরারং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন আলী প্রমুখ।
সভায় সুধীজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী হুমায়ূন মঞ্জুর চৌধুরী, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহানা রব্বানী পিপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জিয়াউল হক, ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন, জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল আল আজাদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তনুজ কান্তি দে, ছাত্র লীগ জেলা সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে প্রমুখ।
সুধীসমাবেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সুধী সমাবেশে প্রায় ২০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ভিডিও গ্যালারী

ভিডিও গ্যালারী