রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে
- আপলোড সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০৯:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০৯:৪৫:২৪ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশ আবারও নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চাপের মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত ১৬ মাসে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ইতোমধ্যে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকট এখন শুধু মানবিক ইস্যু নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জাতিগত নিধন ও সহিংসতার মুখে বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে লাখো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তখন বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংকটের সমাধান না হয়ে বরং তা আরও জটিল হয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গা প্রবেশ প্রমাণ করছে, মিয়ানমারে এখনো নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় পরিবেশ ধ্বংস, বন উজাড়, শ্রমবাজারে চাপ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে মাদক, মানবপাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে কিছু অপরাধচক্র রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ব্যবহার করছে বলেও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও স¤পর্কিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশকে একদিকে মানবিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে সীমিত সম্পদ নিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহায়তাও আগের তুলনায় কমে এসেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তহবিলে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি ক্যাম্পে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
এই সংকটের স্থায়ী সমাধান একমাত্র মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্যেই নিহিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সে পথ এখনও অনিশ্চিত। তাই বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোকে সক্রিয় করতে হবে যাতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, নতুন অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং ক্যা¤প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে - এ কথা বিশ্ব স্বীকার করে। কিন্তু এই দায় অনির্দিষ্টকাল একা বহন করা কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে এখন প্রয়োজন কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, বাস্তবসম্মত কূটনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সুদৃঢ় নীতি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়