স্টাফ রিপোর্টার ::
দৈনিক সুনামকণ্ঠে গত ১২ মে ‘পাচার হচ্ছে সরকারের ভর্তুকির সার’ সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুনামগঞ্জ বিএডিসি (সার) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আলাদা চিঠি দিয়েছে। এ ঘটনায় সার পাচার সিন্ডিকেটের হোতারা রেহাই পেতে নানাভাবে তদবির শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত ১০ মে সুনামগঞ্জ মল্লিকপুরস্থ বিএডিসি’র সার গুদাম থেকে সার পাচারের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে সারের অবৈধ মজুদের একটি অংশ জব্দ করেন। অভিযানে ১২৬ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ সার দেখতে পান তিনি। তবে এ সময় গুদাম রক্ষক ও লেবার সরদার জামালগঞ্জের অভিযুক্ত ডিলার আবুল কালামের সার বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেন।
সার পাচার সিন্ডিকেটের হোতা আবুল কালাম এই সার জামালগঞ্জের ডিলারদের বলে ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু গত এপ্রিল মাসের সার মে মাসেও গুদামে থাকার নিয়ম না থাকায় এবং কৃষি অফিসাররা গত মাসেই এরাইভাল রিপোর্ট দেওয়ায় আবুল কালামের কথা শুনেনি কর্তৃপক্ষ। যার ফলে এখনো গুদামে রয়ে গেছে অবৈধ মজুদকৃত সার। সার পাচারের সিন্ডিকেটকে নিয়ে দৈনিক সুনামকণ্ঠে প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিএডিসি’র উপসহকারী পরিচালক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ১২ মে বিকেলে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে কৃষি কর্মকর্তারাও এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। গত ১৩ মে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক এই নোটিশটি পাঠান জামালগঞ্জের ও দোয়ারাবাজারের সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের।
অভিযোগ আছে, ডিলার সিন্ডিকেট গুদাম রক্ষকসহ বিএডিসির একটি চক্র, লেবার সরদার, কৃষি অফিসারদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে সরকারের ভর্তুকির সার আশুগঞ্জে পাচার করে। এই কাজে তারা ব্যবহার করে বিএডিসি’র গুদাম ও সংশ্লিষ্টদের। বিশেষ করে সারের মওসুমে এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে গুদামে সার সংরক্ষণ না করে বিভিন্ন ডিলারের বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন করে আশুগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়ে প্রতি ট্রাক প্রতি লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এতে সরকারের ভর্তুকির টাকা লোপাট হচ্ছে। গত ১০ মে’র মজুদকৃত সার জামালগঞ্জের অভিযুক্ত ডিলার আবুল কালাম উপজেলার অন্য ডিলাররা তাকে নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং পরিবহন সমস্যার কারণে নিতে পারেননি জানানোর পর বিএডিসি’র সিলেট বিভাগের উপপরিচালক মো. হুমায়ুন কবির সুনামগঞ্জে এসে জরুরি সভা করেছেন। গত ১৩ মে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় জামালগঞ্জের অন্যান্য ডিলাররা জানিয়েছেন এই সার তাদের নয়। তারা সার উত্তোলন করে এরাইভাল রিপোর্টও জমা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। যার ফলে বিপাকে পড়েছে পাচার সিন্ডিকেট। সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র উপসহকারী পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গুদামে নিয়ম বহির্ভূত সারের মজুদ ও ম্যাজিস্ট্রেটের অভিযান নিয়ে সুনামকণ্ঠের সংবাদের আলোকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ঘটনা অবগত করা হয়েছে। জামালগঞ্জের ডিলাররা জানিয়েছেন মজুদকৃত সার তাদের নয়।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, দৈনিক সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিভাবে গুদামে সার মজুদ রেখে তারা এরাইভাল রিপোর্ট দিলেন সেটা জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
ফলোআপ
সার পাচার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি
- আপলোড সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০৮:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৫-২০২৬ ০৯:২১:৩৬ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ