সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা জেলা শিল্পকলা একাডেমির গুণীজন সম্মাননা প্রদান আজ জুলাই শহীদ দিবস পালন সরকার জনগণের সাথে বেইমানি করেছে বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল ছাতকের জলাশয়ে মিলছে রাক্ষুসে সাকার মাছ! জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার

সরকারি ভর্তুকির সার নিয়ে অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিন

  • আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১২:৩৬:০৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১২:৩৬:০৩ অপরাহ্ন
সরকারি ভর্তুকির সার নিয়ে অনিয়ম বন্ধে ব্যবস্থা নিন
সুনামগঞ্জে সরকারি ভর্তুকির সার নিয়ে যে অনিয়ম ও পাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে, তা শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ঘটনা নয়; এটি সরাসরি কৃষক, রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। কৃষকের জন্য সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি যদি অসাধু সিন্ডিকেটের পকেটে চলে যায়, তবে কৃষি সহায়তা ব্যবস্থার পুরো উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিএডিসি’র কিছু ডিলার, গুদাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কৃষি বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভর্তুকির সার নিয়ম বহির্ভূতভাবে গুদামে মজুদ রাখা হয়। পরে তা আবার বিভিন্ন মাধ্যমে পাচার হয়ে আশুগঞ্জে ফিরে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- একই সার পুনরায় কারখানায় প্রবেশ করিয়ে আবারও সরকারি ভর্তুকি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদি এ তথ্য সত্য হয়, তবে এটি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের সুপরিকল্পিত চক্র ছাড়া কিছুই নয়। সার বিতরণ ব্যবস্থায় যে ভয়াবহ অসঙ্গতি রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়েছে “এরাইভাল রিপোর্ট” নিয়ে ওঠা প্রশ্নে। কাগজে-কলমে সার উত্তোলন ও বিতরণ দেখানো হলেও বাস্তবে তা গুদামেই পড়েছিল। অর্থাৎ, নথিপত্র জালিয়াতির মাধ্যমেও পুরো প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মচারী নয়, আরও বড় পরিসরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। একজন ডিলার প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন- তিনি অন্য ডিলারদের সারও নিজের কাছে রেখেছেন। অথচ বিধি অনুযায়ী বরাদ্দের দিন বা পরদিনই সার গুদাম থেকে উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাহলে এতদিন ধরে এসব অনিয়ম কার আশীর্বাদে চলছিল? কেন কৃষি বিভাগ নিয়মিত তদারকি করেনি? কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতদিন নীরব ছিল? এসব প্রশ্নের জবাব জনগণ জানতে চায়। সুনামগঞ্জের মতো হাওরাঞ্চলে কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে বোরো ফসল ফলান। একদিকে বন্যা, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় - সবকিছুর চাপ সামলে তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। সেই কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার যদি কালোবাজারি ও পাচারের শিকার হয়, তবে তা কৃষকের সঙ্গে চরম প্রতারণা। অভিযান পরিচালনা করে অনিয়ম উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু শুধু প্রতিবেদন তৈরি করলেই চলবে না। প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা ও মামলা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় এনে প্রতিটি বস্তার গতিপথ অনুসরণযোগ্য করতে হবে। রাষ্ট্রের ভর্তুকির টাকা লুটে নেওয়া মানে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করা। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থান না নিলে কৃষিখাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে- কৃষকের প্রাপ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক অঙ্গীকারও।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স