সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনার দাবি

  • আপলোড সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০৫-২০২৬ ১২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন
হাওরের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনার দাবি
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: হাওরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বোরো ধানের মহাবিপর্যয় ও মৎস্যস¤পদ ধ্বংসকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং ভুল কৃষিনীতি ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকা-ের ফলে সৃষ্ট মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ। হাওর রক্ষায় সমন্বিত ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে দেশের খাদ্য ও আমিষ নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত ‘হাওরে বোরো ধান বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তন : করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। নয়াকৃষি আন্দোলন ও উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগের জাহাঙ্গীর আলম জনি। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ব্রি’র সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সাবেক নির্বাহী পরিচালক জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, বিএডিসির গবেষণা সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ড. নাজমুল ইসলাম, গবেষক ও লেখক পাভেল পার্থ, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলমসহ বিভিন্ন জেলার কৃষক প্রতিনিধিরা। বক্তারা জানান, ৮ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, আগাম বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টিতে হাওরের প্রায় ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২ লাখ ৩৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশের মোট বোরো উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হাওরাঞ্চল থেকে এলেও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরশীলতা অঞ্চলটিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে মত দেন তারা। সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এক সময় হাওরে স্থানীয় জাতের ধান যেমন টেপি বোরো ও রাতা বোরো চাষ হতো, যা সেচ ছাড়াই উৎপাদন সম্ভব ছিল। কিন্তু বর্তমানে কৃষকদের সেচ, সার ও কীটনাশকনির্ভর ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব আধুনিক জাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নামে হাওরে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার আনা হলেও এবারের দুর্যোগে কাদা ও পানির কারণে এসব যন্ত্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। সভায় আলোচকেরা হাওরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের নির্মিত ৩১১টি বাঁধ এবং কিশোরগঞ্জের ‘অলওয়েদার রোড’ হাওরের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ফসলের ক্ষতি বাড়ছে। এ ছাড়া গত এক দশকে হাওরে মাছ আহরণ ২ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন থেকে কমে ১ দশমিক ২৮ লাখ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে বলেও জানানো হয়। তাদের মতে, বোরো চাষে ব্যবহৃত কীটনাশকের প্রায় ২৫ শতাংশ বর্ষার পানিতে মিশে মাছ ও জলজ প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। শ্রমিক সংকটের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। বক্তারা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আসা কমে গেছে। ফলে বৃষ্টির সময় যন্ত্র অকার্যকর হয়ে পড়লে উচ্চ মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না এবং কৃষকেরা পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। সভা থেকে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- বোরো ধানে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির অতিব্যবহার পুনর্মূল্যায়ন, কৃষি-মৎস্য-প্রাণিস¤পদ রক্ষায় সমন্বিত ‘হাওর রক্ষা পরিকল্পনা’ গ্রহণ, রাস্তা-বাঁধ-ব্রিজ নির্মাণের জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব যাচাই এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর যন্ত্রপাতির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা চালু করা। বক্তারা বলেন, কেবল ধান নয়, হাওরের মাছ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষা করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। এ জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স