সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

হাওরাঞ্চলের কৃষি মৌসুমে বজ্রপাতের প্রভাব ও প্রতিকার

  • আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১০:৫৭:৩৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১০:৫৮:২০ অপরাহ্ন
হাওরাঞ্চলের কৃষি মৌসুমে বজ্রপাতের প্রভাব ও প্রতিকার
অমিত দাস::>
হাওরাঞ্চল বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য ভৌগোলিক বিস্ময়। সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এই সাতটি জেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি, নি¤œভূমি ও মৌসুমি প্লাবনভূমি নিয়ে গঠিত হাওর বেসিন। বর্ষায় যেখানে দিগন্তজোড়া পানি, শুষ্ক মৌসুমে সেখানে সোনালি বোরো ধানের মাঠ। হাওরের মানুষের জীবনযাত্রা তাই প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। কিন্তু এই প্রকৃতিনির্ভর জীবনেই কৃষি মৌসুমে বজ্রপাত এখন এক ভয়াবহ ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাওর অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ এক ফসলি বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। বছরের বড় অংশ পানির নিচে থাকায় কৃষকের হাতে সময় কম, কিন্তু দায়িত্ব অনেক। বৈশাখে ধান কাটা, মাড়াই, পরিবহন ও সংরক্ষণের কাজ একসঙ্গে শুরু হয়। এই সময়েই কালবৈশাখী ঝড়, মেঘগর্জন ও বজ্রপাতের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফলে কৃষক, জেলে, মাঝি, শ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বজ্রাঘাতে হতাহতদের প্রায় ৫২ দশমিক ৪ শতাংশই হাওর অঞ্চলের মানুষ। এই পরিসংখ্যান হাওরের বাস্তবতাকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নাসা’র ২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতপ্রবণ এলাকার একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান, জলাভূমির বিস্তৃতি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রার পরিবর্তন, পাহাড়ি এলাকার নিকটবর্তীতা এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সব মিলিয়ে হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার ধরন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। কখন ঝড় উঠবে, কখন বজ্রপাত হবে এটি অনেক সময় স্থানীয় মানুষ আগের মতো অনুমান করতে পারছেন না। ফলে কৃষিকাজের ব্যস্ত সময়েই প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কারণ কোনো সমস্যাকে দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা মোকাবিলার জন্য নীতি, পরিকল্পনা, বাজেট, গবেষণা ও জনসচেতনতার সুযোগ বাড়ে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও রাইমস-সংশ্লিষ্ট সেমিনারে জানানো হয়, দেশে বছরে গড়ে প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার বজ্রপাত ঘটে এবং এতে প্রায় ৩৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি কৃষি পরিবার, একটি গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষত। হাওরাঞ্চলে বজ্রপাতের প্রভাব কেবল প্রাণহানিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কৃষি উৎপাদন, শ্রমবাজার, পারিবারিক নিরাপত্তা, খাদ্য সরবরাহ এবং স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে। একজন কৃষক মারা গেলে শুধু একজন মানুষ হারিয়ে যান না; হারিয়ে যায় একটি পরিবারের উপার্জনের প্রধান ভরসা। অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রস্ত পরিবার আরও বিপদে পড়ে। ফসল মাঠে পড়ে থাকে, ধান কাটার কাজ বিলম্বিত হয়, বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই বজ্রপাত হাওরের কৃষি অর্থনীতির জন্য এক নীরব কিন্তু গভীর সংকট। “কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে হাওর অঞ্চলের অর্থনীতি” এই কথাটি শুধু আবেগের নয়, বাস্তব অর্থনীতিরও সত্য। হাওরের বোরো ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষি মৌসুমে যদি কৃষক নিরাপদ না থাকেন, শ্রমিক সংকট বাড়ে, ফসল ঘরে তোলা কঠিন হয় এবং উৎপাদন ব্যাহত হয়। বৈশাখ মাসে কৃষিশ্রমিকের সংকট ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় দেখা যাচ্ছে। অনেক তরুণ কৃষিকাজকে ঝুঁকিপূর্ণ, অনিশ্চিত ও কম মর্যাদাপূর্ণ মনে করে ঢাকামুখী বা শহরমুখী হচ্ছেন। এর ফলে হাওরের কৃষিতে লোকবলের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বজ্রপাতের ভয় কৃষকের কাজের সময় ও পদ্ধতিকেও বদলে দিচ্ছে। অনেকে মেঘ দেখলেই মাঠ ছাড়তে চান, আবার কেউ কেউ ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে ঝুঁকি নিয়েই মাঠে থাকেন। বিশেষ করে যখন ধান পেকে যায়, তখন সময়মতো কাটতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। ফলে জীবনের ঝুঁকি ও ফসল রক্ষার প্রয়োজন এই দুই চাপের মধ্যে কৃষককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই বাস্তবতা বোঝা জরুরি। কৃষককে শুধু সচেতন হতে বললেই হবে না; তাকে নিরাপদে কাজ করার সুযোগও দিতে হবে। প্রতিকারের প্রথম ধাপ হলো স্থানীয়ভাবে কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসকে হাওরভিত্তিক, গ্রামভিত্তিক ও ব্যবহারবান্ধব করতে হবে। মোবাইল অ্যাপ, এসএমএস, স্থানীয় মাইকিং, কমিউনিটি রেডিও, ইউনিয়ন পর্যায়ের সতর্কবার্তা বোর্ড এবং শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। অনেক কৃষকের স্মার্টফোন নেই; তাই শুধু অ্যাপ নয়, সাধারণ মোবাইল এসএমএস ও ভয়েস মেসেজও গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত, হাওরের মাঠ, ঘাট, নৌপথ ও ফসল কাটার এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা বজ্রনিরোধক ছাউনি স্থাপন করা প্রয়োজন। বিশাল খোলা মাঠে কাজ করা কৃষকের কাছে নিরাপদ আশ্রয় না থাকলে সতর্কবার্তা পেলেও তিনি কোথায় যাবেন? তাই নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর বজ্রনিরোধক ব্যবস্থাসহ ছোট আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু প্ল্যাটফর্ম, নৌঘাটে নিরাপদ ছাউনি এবং কৃষিশ্রমিকদের বিশ্রামস্থান তৈরি করা যেতে পারে। এসব অবকাঠামো শুধু বজ্রপাত নয়, ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক দুর্যোগের সময়ও কাজে লাগবে। তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। উন্নত দেশগুলোতে বজ্রপাত শনাক্তকারী সেন্সর, রাডার, তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা এবং স্থানভিত্তিক ঝুঁকি মানচিত্র ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানো যেতে পারে। হাওরাঞ্চলের জন্য বিশেষ বজ্রপাত ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি করা হলে কোন এলাকায় কোন সময়ে ঝুঁকি বেশি, তা জানা সহজ হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত কাজ এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতা শুধু পোস্টার বা স্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, হাট, কৃষক সমাবেশ, মসজিদ, মন্দির, নৌঘাট ও ধান কাটার শ্রমিকদের অস্থায়ী আবাসস্থলে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, পানির ওপর নৌকা, একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি, ধাতব যন্ত্রপাতি ও মোবাইল টাওয়ারের কাছাকাছি থাকা বিপজ্জনক এই সাধারণ তথ্যগুলো মানুষের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ ঘর বা আশ্রয়ে যেতে হবে। নিরাপদ আশ্রয় না পেলে পানির ধারে, উঁচু স্থানে বা একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছের নিচে অবস্থান করা যাবে না। কৃষি ব্যবস্থাপনাতেও কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে ধান কাটার সময় পরিকল্পনা করা, দলভিত্তিক শ্রমিক ব্যবস্থাপনা, দ্রুত ধান কাটার যন্ত্র ব্যবহার, কম্বাইন হারভেস্টারের বিস্তার এবং ফসল ঘরে তোলার বিকল্প পদ্ধতি কৃষকের ঝুঁকি কমাতে পারে। যান্ত্রিকীকরণ শুধু শ্রমিক সংকট কমায় না, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রয়োজনও কমাতে পারে। তবে হাওরের ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী উপযোগী যন্ত্র, প্রশিক্ষণ ও সহজলভ্য ভাড়াব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। তালগাছসহ উঁচু বৃক্ষরোপণ, পরিবেশবান্ধব সবুজ বেষ্টনী ও প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু তালগাছ রোপণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, যার সঙ্গে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা, সঠিক স্থান নির্বাচন, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। সচেতনতা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও কৃষি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে যুক্ত করলে ফল বেশি টেকসই হবে। বজ্রপাত মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সমন্বিত পরিকল্পনা। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তালগাছ রোপণ, সচেতনতামূলক প্রচারণা, পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত, ধারাবাহিক ও হাওরবাসীর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। কৃষক, জেলে, মাঝি, শ্রমিক, নারী, শিশু, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রযুক্তিবিদ সবাইকে এই নিরাপত্তা সংস্কৃতির অংশ করতে হবে। হাওরের মানুষের জীবন সংগ্রামের ইতিহাস দীর্ঘ। তারা বন্যা, ঢল, ঝড়, জলাবদ্ধতা, বাজারদর, ঋণ ও শ্রমসংকটের সঙ্গে লড়াই করে দেশের খাদ্যভা-ারে অবদান রাখেন। তাই তাদের জীবনরক্ষা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই কৃষি অর্থনীতির শর্ত। বজ্রপাতকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে না দিয়ে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সচেতনতা ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে মোকাবিলা করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, হাওরাঞ্চলের কৃষি মৌসুমে বজ্রপাত একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি ঝুঁকি, শ্রমবাজারের সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্ন সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত। হাওরের কৃষক নিরাপদ হলে ফসল নিরাপদ হবে; ফসল নিরাপদ হলে পরিবার, বাজার ও দেশের খাদ্যব্যবস্থা নিরাপদ হবে। তাই বজ্রপাত প্রতিরোধ নয়, বরং বজ্রপাতের ক্ষতি কমানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সময়োপযোগী সতর্কবার্তা, নিরাপদ আশ্রয়, প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, জনসচেতনতা এবং মানবিক সহযোগিতার মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনরক্ষা করা সম্ভব। হাওর বাঁচাতে হলে কৃষককে বাঁচাতে হবে; আর কৃষককে বাঁচাতে হলে কৃষি মৌসুমে বজ্রপাত মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিতেই হবে।

[লেখক : অমিত দাস, শিক্ষার্থী ও গবেষক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স