দেশের মোট জনসংখ্যার ২২ ভাগ অসুস্থতায় ভুগছেন
- আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১০:৫৭:৪০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১০:৫৭:৪০ অপরাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশের মোট জন্যসংখ্যার ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষ ৩০ দিনই কোনো না কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ (মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ) মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হলেও প্রতিটি পরিবারকে মাসে গড়ে ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করতে হয়। তবে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বেশি করতে হয়।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জনসংখ্যা অধ্যয়ন বিভাগের ‘বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণতা এবং ব্যক্তিগত ব্যয়ে চিকিৎসার গতিপ্রকৃতি পুনর্বিবেচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে এ তথ্য উঠে আসে।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, শুধু স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন হলে হবে না। তার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মধ্যবয়ষ্কদের মৃত্যুহার বেড়েছে বায়ুদূষণ ও খাদ্য দূষণের কারণে।
গবেষণা তথ্যে দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণ চাহিদার হার বেশি। গ্রামে অসুস্থদের ৬৫ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারে না, আর শহরে ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট বিভাগে স্বাস্থ্যসেবার অপূর্ণ চাহিদার হার বেশি।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। শহরাঞ্চলে একটি পরিবারে গড় ব্যয় মাসে প্রায় ৪ হাজার ১৯২ টাকা। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে এ ব্যয় গড়ে ৩ হাজার ১০৯ টাকা। একটি পরিবারের মোট মাসিক ব্যয়ের প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে চলে যায়। আর খাদ্যবহির্ভূত মোট ব্যয়ের প্রায় ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় হয় চিকিৎসাসেবায়।
তথ্যে দেখা গেছে, দরিদ্র পরিবারের ওপর স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ তুলনামূলক বেশি। দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের মোট আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে বাধ্য হয়। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এ হার মাত্র ৫ শতাংশ। বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ২ হাজার ৩৪২ টাকা।
অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি হলে বছরে একটি পরিবারের গড় ব্যয় দাঁড়ায় ৪২ হাজার ৪৮৩ টাকা। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারে ২৬ হাজার ১৪২ টাকা, ওষুধে ১১ হাজার ২৮৭ টাকা, বেড ভাড়ায় ১০ হাজার ৭৪৩ টাকা এবং রোগ নির্ণয় পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫০৭ টাকা ব্যয় হয়।
রোগ ভেদে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় পার্থক্যও দেখা গেছে। ক্যানসারের চিকিৎসায় গড়ে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯৩৮ টাকা, হৃদরোগে ৯৯ হাজার ৭১৫ টাকা, লিভারের চিকিৎসায় ৭৮ হাজার ৯৩৪ টাকা এবং জন্ডিসের চিকিৎসায় ৭৬ হাজার ৪৫৩ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।
এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট রোগে গড়ে চিকিৎসা ব্যয় হয়েছে ৬৯ হাজার ১৯১ টাকা। কিডনি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে গড়ে ৬৩ হাজার ২৭১ টাকা এবং নিউমোনিয়ায় ৫৮ হাজার ১১৭ টাকা। নারীদের বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা ব্যয় গড়ে ৪৮ হাজার ৫৬২ টাকা। দুর্ঘটনা বা আঘাতজনিত কারণে চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৬২ টাকা। আমাশয়ে গড়ে ব্যয় ৪৩ হাজার ৭১৯ টাকা এবং উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ৩৫ হাজার ৫২৯ টাকা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক