সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড় লোকবলের অভাবে চালু হচ্ছে না আইসিইউ, আড়াই বছর ধরে কক্ষ তালাবদ্ধ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবছে জমির ধান চরম দুর্দশায় হাওরের কৃষক জামালগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা বজ্রপাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে জামালগঞ্জ কী করছেন ‘মাস্টারমাইন্ড’ মাহফুজ আলম হাওরে আশ্রয়কেন্দ্র এবং বজ্রনিরোধক দন্ড স্থাপনের দাবি এমপি কামরুল

তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে

  • আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০১:২৮:৪৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০১:২৯:৪৯ অপরাহ্ন
তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া::
দীর্ঘদিনের দাবির পরও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় অবশেষে নিজ উদ্যোগে এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ভাঙারখাল নদীর উপর গ্রামবাসীর সহযোগিতায় একটি টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া ও সেতু নির্মাণের উদ্যোক্তা স্থানীয় ব্যবসায়ী মানিক মিয়া। এ সময় বিশিষ্ট সমাজসেবক আবুল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙারখাল নদী বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাদাঘাট বাজার (সবজি ও মাছ মহল) থেকে পৈলনপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় একটি সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ না থাকায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ সম্মিলিতভাবে বাঁশের সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এ সেতু নির্মাণের ফলে পৈলনপুরসহ আশপাশের ৫-৬টি গ্রামের বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা এখন সহজে যাতায়াত করতে পারছেন। আগে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেঁটে এবং বর্ষাকালে নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হতো। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত এবং শিক্ষার্থীদের বই-খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার ঘটনাও ঘটত। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। তারা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান। সমাজসেবক আবুল হোসেন বলেন, “এ সেতুর মাধ্যমে পৈলনপুর মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুই পাড়ের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ বিনামূল্যে নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন।” উদ্যোক্তা মানিক মিয়া বলেন, “সরকারি সহায়তা না থাকলেও জনগণের সুবিধার কথা চিন্তা করে আমরা নিজ উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করেছি।
স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সবার সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। এখন এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি।” তিনি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের আহ্বান জানান।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া বলেন, “বর্ষায় নৌকায় পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এই সেতু নির্মাণে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। জনগণের কল্যাণে আমরা সব সময় পাশে আছি।” এদিকে সচেতন মহল বলছে, সরকারি উদ্যোগের অভাব পূরণে স্থানীয়দের এ ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স