সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস
- আপলোড সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০১:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৪-২০২৬ ০১:৪৫:৩০ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত মঙ্গলবার থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আর এই বৃষ্টির কারণে দেশের পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায় বন্যা হতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে এখন যে বৃষ্টি আছে তা আরও অন্তত পাঁচ দিন থাকতে পারে বলে বৃষ্টির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়–য়া বুধবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নি¤œাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্যই এ অবস্থা।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গত মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়। মঙ্গলবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে, ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় বৃষ্টি হয়েছে ১৫১ মিলিমিটার, ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।
আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে তা নয়। থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি চলতে পারে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।
দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু বাদ দিয়ে বাকি তিন নদীই নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এর বাইরে সুরমা, কুশিয়ারা নদীর পানি এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়–য়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট। তাই ভারী বৃষ্টি হলে এভাবে পানি বেড়ে যায়। সুরমার পানি ৫০ সেন্টিমিটার বেড়েছে; আর কুশিয়ারার বেড়েছে ১ সেন্টিমিটারের মতো। অন্যান্য ছোট নদ-নদী সোমেশ্বরী, কংস, মনু এগুলোর পানি দেড় সেন্টিমিটারের মতো বেড়েছে। এগুলো পাহাড়ি নদী, তাই ভারী বৃষ্টি হলেই পানি দ্রুত বাড়ে। বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই প্রকৌশলী।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২২ মিলিমিটার। এ সময়ে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে ৫৬ সেন্টিমিটার। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ১৩৭ মিলিমিটার। তখন সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল ৩৫ সেন্টিমিটার। এ ছাড়া কুশিয়ারা, নলজুর, পাটলাই, যাদুকাটা, খাসিয়ামারা, বৌলাইসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃহ¯পতিবার সুনামগঞ্জে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হওয়ায় নামছে উজানের পাহাড়ি ঢল। এতে হাওরে ও নদীতে দ্রুত পানি বাড়ছে। চোখের সামনেই তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের জমির ধান।
সুনামগঞ্জের নদী ও হাওরে পানি আরও বাড়বে জানিয়ে জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, যেসব হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে আছে, আমরা সেখানে কাজ করার চেষ্টা করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক