সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ বসুন্ধরা মেডিকেল সিটিতে শেয়ার মেলা, থাকছে সহজ কিস্তি ও বিশেষ ছাড় বিদ্যুৎ খাতেরসংকট গভীর হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম পৌর প্রশাসকের সাথে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণকাজ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে তদন্ত কমিটি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে : রিজভী লাইসেন্সের দাবিতে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ শান্তিগঞ্জে দিনমজুরের বসতভিটার বারান্দা ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি পৌর জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল দিরাইয়ে মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন জলমহালে মাছ লুটের অভিযোগ রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি চুরি এল নিনো’র প্রভাব : আসন্ন মৌসুমে বোরো উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বহিষ্কার তাহিরপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 'সাক্ষরতায় সমৃদ্ধি' সুনামগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বেতন জটে বিপাকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি আগস্টে সড়কে মৃত্যু ৪৮১, প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি

বজ্রপাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে জামালগঞ্জ

  • আপলোড সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০৯:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০৯:৫৬:৪৯ পূর্বাহ্ন
বজ্রপাতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে জামালগঞ্জ
স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলাদেশে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশ্লেষণ বলছে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায়, আর জেলার ভেতরে জামালগঞ্জেই ঘটছে সর্বাধিক প্রাণহানির ঘটনা। হাওর, পাহাড় ও ভিন্নধর্মী বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ - এই তিনের মিলিত প্রভাবে এলাকাটি হয়ে উঠেছে বজ্রপাতের “হটস্পট”। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ এই এক দশকে দেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট ৩ হাজার ৬৫৮ জন। ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে এই হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে কিছুটা কমলেও এখনও প্রতি বছর শতাধিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সর্বশেষ গত ২৬ এপ্রিল দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মতো মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। সর্বোচ্চ মৃত্যু সিলেটে, কোন কোন অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ -এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশেপাশেই বজ্রপাত বেশি হয়। এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলে বড় বড় হাওর রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প তৈরি হয়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়। এই উর্ধ্বগামী আর্দ্র বাতাস ঠা-া হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয়, বিশেষ করে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রমেঘ। এই প্রক্রিয়াই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। এছাড়া, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড় কারণ। এই দুই ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশ ঘিরে যে আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রভাবও বাংলাদেশে পড়ে। এসব অঞ্চল থেকে তৈরি হওয়া বজ্রমেঘ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে এবং স্থানীয় জলীয় বা®েপর সঙ্গে মিশে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সব মিলিয়ে, হাওরের জলীয় বা®প, পাহাড়ের বাধা, এবং ভিন্ন ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ - এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রপাতের প্রভাব রয়েছে এবং আক্রান্ত জেলার সংখ্যা গত কয়েক বছরে কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে। তবে ২০২০ সালের পর থেকে আগাম সতর্কতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশে মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি বজ্রঝড় হয়, যার বড় অংশই ঘটে বৈশাখে। এই সময়ের ঝড়কে স্থানীয়ভাবে কালবৈশাখী বলা হয়, যা স্বল্পস্থায়ী হলেও অত্যন্ত তীব্র এবং প্রাণঘাতী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি। বিশেষ করে কৃষক, জেলে ও শ্রমজীবীরা ঝড়ের সময় মাঠে বা জলাশয়ে থাকায় ঝুঁকি বাড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব ও সচেতনতার ঘাটতিও বড় কারণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সময় ঘরের ভেতরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে গেলে রাবারের জুতা ব্যবহার এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম