স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ জেলায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। যে কোনো সময় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে - এমন সম্ভাবনা মাথায় রেখে নানা কৌশলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করেছেন তারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীরাই সবচেয়ে বেশি তৎপর। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরাও প্রচারণা শুরু করেছেন। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মীদের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকলেও দলটির কিছু সমর্থক সামাজিক কর্মকা-ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ধাপে ধাপে উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জুন-জুলাইয়ের তীব্র গরম ও আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বর্ষা মৌসুমে নির্বাচন আয়োজনের নজির কম থাকায় শীতকালকে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এদিকে এপ্রিল-মে মাসে এসএসসি এবং জুন-জুলাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় ওই সময় নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা কম। ইতোমধ্যে গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না; প্রার্থীরা স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি জানিয়েছেন, উপজেলা ও পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ না দিয়ে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা হবে। বর্তমানে যেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন, গণসংযোগ ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও ফেসবুকে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটি ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করেছে। প্রার্থী নির্ধারণে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় একাধিক প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি থাকায় বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা নির্বাচনী অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন এবং সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি স¤পন্ন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে মাঠ গোছাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা
- আপলোড সময় : ২৫-০৪-২০২৬ ১০:১২:১৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-০৪-২০২৬ ১০:১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ