সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

হাওরের ধান ঘরে তুলতে সড়ক চাই

  • আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
হাওরের ধান ঘরে তুলতে সড়ক চাই
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে হাওরের কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ফলান, তা জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্যভা-ারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই কৃষকেরই উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে নাভিশ্বাস উঠছে সড়কের অভাবে। এটি কেবল অব্যবস্থাপনার চিত্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলারও প্রতিফলন। ১৩৭টি হাওরে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও ধান পরিবহনের জন্য উপযুক্ত সড়ক না থাকায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ভাঙাচোরা, কাদামাটির জাঙ্গাল ও অচল সড়কে ট্রলি, পিকআপ কিংবা ঠেলাগাড়ি আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে, দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে যখন বাড়তি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়, তখন তাদের লাভের হিসাব ভেঙে পড়ে। প্রশ্ন হলো, ফসল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যদি সেই ফসল নিরাপদে ঘরে তোলার ব্যবস্থাই না থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ? বাঁধ নির্মাণ যেমন জরুরি, তেমনি ফসল পরিবহনের টেকসই সড়কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়টি পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছর বছর কৃষক একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। স্থানীয়ভাবে টিআর-কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে সাময়িক সংস্কার কিছুটা স্বস্তি দিলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। প্রয়োজন হাওর উপযোগী টেকসই ও পাকা সড়ক নির্মাণ, যা বর্ষা ও শুকনো মৌসুম উভয় সময়েই কার্যকর থাকবে। কৃষি, সড়ক ও পানি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পরিকল্পনায় এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। হাওরের কৃষক শুধু উৎপাদক নন, তারা দেশের খাদ্যযোদ্ধা। তাদের ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সড়কের অভাবে যদি সেই লাভের বড় অংশ পরিবহন দুর্ভোগে হারিয়ে যায়, তবে তা কৃষকের প্রতি অবিচার। এখনই সময় হাওরের সড়ক অবকাঠামোকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার। অন্যথায় কৃষকের দুর্ভোগ, উৎপাদন ব্যয় এবং হতাশা - সবই বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে। হাওরে ধান ফলাতে যেমন পরিকল্পিত বাঁধ চাই, তেমনি ধান ঘরে তুলতে চাই টেকসই সড়ক। এই বাস্তবতা অনুধাবন করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে - এটাই সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স