সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো আরও ৭০০০ মে. টন ডিজেল সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় একটি সেতুর প্রতীক্ষায় কয়েক প্রজন্ম শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতায় বাড়ছে দুশ্চিন্তা আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ : সংকটে হাওরাঞ্চলের কৃষি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি : প্রধানমন্ত্রী বিশ্বম্ভরপুরে মোটরসাইকেল চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান শহরে অর্ধ কোটি টাকার স্বর্ণ ও ডলার চুরির ঘটনায় গ্রেফতার ৫ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই, সূচি প্রকাশ ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ নিয়ে ক্ষোভ দোয়ারাবাজারে যুবকের ওপর হামলা প্রতিবন্ধী কৃষকের জমির ধান কেটে নেওয়া ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অপ্রয়োজনীয় স্থানে বজ্র নিরোধক দন্ড স্থাপন, কাজে আসেনি তালগাছ প্রকল্পও আগাম বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা : হাওরের পাকা ধান দ্রুত কর্তনের অনুরোধ বোরো চাষে বাড়তি খরচ, ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষক ডিজেল সংকটে বেড়েছে হারভেস্টারের ভাড়া, বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি : ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেশের অস্তিত্বেই তারা বিশ্বাস করে না, তাদের কি বিশ্বাস করা যায় : প্রধানমন্ত্রী

হাওরের ধান ঘরে তুলতে সড়ক চাই

  • আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১০:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন
হাওরের ধান ঘরে তুলতে সড়ক চাই
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। প্রতিবছর বোরো মৌসুমে হাওরের কৃষকরা প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে যে ফসল ফলান, তা জাতীয় অর্থনীতি ও খাদ্যভা-ারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই কৃষকেরই উৎপাদিত ধান ঘরে তুলতে নাভিশ্বাস উঠছে সড়কের অভাবে। এটি কেবল অব্যবস্থাপনার চিত্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের অবহেলারও প্রতিফলন। ১৩৭টি হাওরে বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও ধান পরিবহনের জন্য উপযুক্ত সড়ক না থাকায় কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। ভাঙাচোরা, কাদামাটির জাঙ্গাল ও অচল সড়কে ট্রলি, পিকআপ কিংবা ঠেলাগাড়ি আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে, দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রায়ই। কৃষকের উৎপাদন খরচের সঙ্গে যখন বাড়তি পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়, তখন তাদের লাভের হিসাব ভেঙে পড়ে। প্রশ্ন হলো, ফসল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যদি সেই ফসল নিরাপদে ঘরে তোলার ব্যবস্থাই না থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কতটা পূর্ণাঙ্গ? বাঁধ নির্মাণ যেমন জরুরি, তেমনি ফসল পরিবহনের টেকসই সড়কও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়টি পরিকল্পনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বছর বছর কৃষক একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়ে না। স্থানীয়ভাবে টিআর-কাবিটা প্রকল্পের মাধ্যমে সাময়িক সংস্কার কিছুটা স্বস্তি দিলেও এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। প্রয়োজন হাওর উপযোগী টেকসই ও পাকা সড়ক নির্মাণ, যা বর্ষা ও শুকনো মৌসুম উভয় সময়েই কার্যকর থাকবে। কৃষি, সড়ক ও পানি উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত পরিকল্পনায় এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। হাওরের কৃষক শুধু উৎপাদক নন, তারা দেশের খাদ্যযোদ্ধা। তাদের ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সড়কের অভাবে যদি সেই লাভের বড় অংশ পরিবহন দুর্ভোগে হারিয়ে যায়, তবে তা কৃষকের প্রতি অবিচার। এখনই সময় হাওরের সড়ক অবকাঠামোকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করার। অন্যথায় কৃষকের দুর্ভোগ, উৎপাদন ব্যয় এবং হতাশা - সবই বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে। হাওরে ধান ফলাতে যেমন পরিকল্পিত বাঁধ চাই, তেমনি ধান ঘরে তুলতে চাই টেকসই সড়ক। এই বাস্তবতা অনুধাবন করে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে - এটাই সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স