সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা জেলা শিল্পকলা একাডেমির গুণীজন সম্মাননা প্রদান আজ জুলাই শহীদ দিবস পালন সরকার জনগণের সাথে বেইমানি করেছে বর্ণাঢ্য রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল ছাতকের জলাশয়ে মিলছে রাক্ষুসে সাকার মাছ! জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত সাবেক মেজর ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার
সড়কের অভাবে কৃষকের ভোগান্তি

হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস

  • আপলোড সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০২:০৬:১২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৪-২০২৬ ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন
হাওর থেকে ধান আনতেই নাভিশ্বাস
স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে ধান পরিবহনে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার কৃষক। হাওরের গভীর থেকে পাকা ধান খলায় (ধান শুকানোর স্থান) আনতে ভাঙাচোরা ও কাদামাটির সড়কে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। কোথাও যানবাহন আটকে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে একদিকে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, অন্যদিকে কমছে কৃষকের লাভ।
জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার ছোট-বড় ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে এবার বোরো চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ধান উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। ফসল রক্ষায় সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও ধান পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা মেরামত ও পাকা করার উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। কৃষকদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ হাওরের মাটির রাস্তাগুলো সংস্কার ও পাকা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি হলেই এসব রাস্তায় ট্রলি, অটোরিকশা, পিকআপ কিংবা ঠেলাগাড়ি চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। গর্ত ও কাদায় আটকে দিনের পর দিন নষ্ট হচ্ছে সময়, বাড়ছে খরচ। শনির হাওরের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, হাওরের গভীর থেকে ধান আনতে পাকা সড়ক খুবই প্রয়োজন। সড়ক না থাকায় প্রতি বস্তা ধান ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচে ট্রলিতে আনতে হচ্ছে। সড়ক ভালো হলে এই খরচ অনেক কমতো।
মাটিয়ান হাওরের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, ধান উৎপাদন করে লাভের আশা করেছিলাম, কিন্তু পরিবহন খরচে সেই লাভ শেষ। ধান কাটা, শ্রমিক সংকট আর সড়ক দুর্ভোগ মিলিয়ে আসল তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওরের মাটির সড়কগুলো ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। অনেক ক্ষেত্রে ট্রলি আটকে গেলে ধান নামিয়ে আলাদা করে ট্রলি তুলতে হচ্ছে। তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের টিআর-কাবিটা প্রকল্প থেকে কিছু জাঙ্গাল (সড়ক) মেরামত করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধান হচ্ছে পাকা সড়ক নির্মাণ। তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার হাওরে ধানের ফলন ভালো। কিন্তু টেকসই ও পাকা সড়ক না থাকায় কৃষকদের দুর্ভোগ ও খরচ দুটোই বেড়েছে। সড়ক পাকা হলে সহজে ধান পরিবহন সম্ভব হতো। হাওরবাসীর দাবি, ফসল রক্ষার বাঁধের মতো ধান পরিবহনের সড়ককেও সমান গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত টেকসই ও পাকা সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছরই কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য লাভের বড় অংশ গুনতে হবে পরিবহন দুর্ভোগে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স