জ্বালানি নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সরকারি দলের হইচই
- আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৬ ১০:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৬ ১০:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
জ্বালানি তেলের সংকট ইস্যুতে বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে হইচইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার সংসদে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্য দিলে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা আপত্তি জানান এবং হইচই শুরু করেন। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর প্রতিবাদ জানান। পরে এ কারণে সরকারি দলের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
রুমিন ফারহানা বলেন, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল যে, কাদম্বিনী মরে নাই। আমাদের তেলের দাম শেষমেশ বৃদ্ধিই হইলো। কিন্তু তার আগে আমরা দেখলাম কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত ড্রাইভাররা দাঁড়িয়ে আছে, তারা তেল পাচ্ছে না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নাই।
রুমিন বলেন, মন্ত্রীরা যখন সংসদে বক্তব্য দেন, তখন তারা অবলীলায় বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। কিন্তু মাননীয় ¯িপকার, যখন তেল নিতে যায়, তখন দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন।
এই সংসদ সদস্য বলেন, সরকার সম্ভবত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবার ঘোষণা দিয়েছে। তার একটা হচ্ছে মার্কেটপ্লেস ৭টা বাজে বন্ধ করে দেওয়া। চমৎকার সিদ্ধান্ত মাননীয় স্পিকার। তবে মনে রাখতে হবে, কেনাকাটা বা শপিং যেটুকু হয়, সেটুকু সন্ধ্যার পরেই হয়। তার আগে হয় না। দুই হলো, অফিস-আদালতের সময় বলে পরিবর্তন করবে। পাঁচ দিনের জায়গায় চার দিন বা তিন দিন তারা কর্মঘণ্টা ঠিক করবে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইনইবা কেন? দামই বাড়াইতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে মাননীয় ¯িপকার।
স্পিকারের উদ্দেশে রুমন বলেন, আপনার মাধ্যমে এই সংসদের কাছে আমি জানতে চাই, জ্বালানিমন্ত্রীরা যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন মনে হয়, বাংলাদেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নাই। উনারা যদি পরিষ্কার করে বলেন- বাংলাদেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন-ডিজেলের মজুত আছে, কত দিন চলতে পারবে, পা¤পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না।
রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের এমপিরা হইচই করতে থাকেন। এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রুমিন ফারহানার পক্ষে অবস্থান নেন।
তখন ¯িপকার বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, প্লিজ লেট আস ডিসিপ্লিন আওয়ারসেলফ।
এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা। যারা এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশের জনগণের সমর্থন, ভোট, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা নিয়ে এসেছেন। আমরা সকল সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলব, কোনো সংসদ সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাকে অ্যালাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে ¯িপকারের।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আজকে লক্ষ করলাম যে, একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য, তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না। এমনকি আমি এও লক্ষ করলাম, একবার দুইবার নয়, চারবার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে যারা এসেছেন, তাদের কেউ কেউ এই কাজটা করেছেন। আমি এখানে তাদের নাম বলে নিজে লজ্জা পেতে চাই না। তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নিন্দা জানান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক